শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩১ ডিসেম্বর, ২০২০ ২৩:৩৪

বিশ্ববাজারে বেসামাল এলপিজির দাম

এক মাসেই বেড়েছে ১৮-১৯ শতাংশ বাড়তে পারে বাংলাদেশেও

নিজস্ব প্রতিবেদক

অর্থনীতি সচল হওয়ার পাশাপাশি বাণিজ্যিক কর্মকান্ড বাড়তে থাকায় বিশ্ববাজারে চাহিদা তৈরি হচ্ছে লিকুইফায়েড পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি)। ফলে গ্যাসের দাম গত নভেম্বর থেকেই বাড়ছে। চীন, ভারতসহ এশিয়ার দেশগুলোয় এরই মধ্যে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে বেড়েছে এলপিজির দাম। বাংলাদেশেও বাড়তে পারে শুরু হওয়া বছরে।

চীনে গত ডিসেম্বরেই এলপিজির দাম বেড়েছে ২০ শতাংশ আর ভারতে গত মাসে দুই দফায় ৫০ রুপি করে ১০০ রুপি বেড়েছে এলপিজি সিলিন্ডারের মূল্য। প্রোপেন ও বিউটেনের সংমিশ্রণে উৎপন্ন এ গ্যাসটি বিশ্বজুড়ে পেট্রোল ও অকটেনের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। রান্না, গাড়িতে ব্যবহার ও বিদ্যুৎ উৎপাদনেও এখন এলপিজির বিপুল চাহিদা। দেশের আমদানিকারকসূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববাজারে ১৮ থেকে প্রায় ১৯ শতাংশ দাম বেড়েছে গত এক মাসে। ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারিতে আমদানি পর্যায়ে এলপিজির দাম বেড়েছে ৮০ ডলার। যেখানে ২০২০ সালের জুনে সিপি (প্রতি টন আমদানিমূল্য) ছিল ৩৩৬ ডলার আর ২০২১ সালে তা বেড়ে হয় ৫৩৬ ডলার। অর্থাৎ ছয় মাসের ব্যবধানে দাম বেড়েছে ২০০ ডলার। আর ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারি মাত্র এক মাসেই দাম বেড়েছে ৮০ ডলার। বৈশ্বিক বাজার অনুযায়ী এলপিজির আমদানিমূল্য ২০২০ সালের জানুয়ারিতে প্রতি সিপি ছিল ৫৮২.৫ ডলার, ফেব্রুয়ারিতে ৫৩৩, মার্চে ৪৬৫, এপ্রিলে ২৩৭, মে-তে ৩৪০, জুনে ৩৩৬, জুলাইয়ে ৩৪৬, আগস্টে ৩৫১, সেপ্টেম্বরে ৩৫৯, অক্টোবরে ৩৭৮.৫, নভেম্বরে ৪৩৭ আর ডিসেম্বরে ৪৫৭ ডলার। বাজার-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আমদানিনির্ভর পণ্য এলপিজি। বাংলাদেশে এ গ্যাসের ৯৮ শতাংশই আমদানি হয়। যার পুরোটাই আসে বেসরকরি খাতের মাধ্যমে। যেহেতু এটি আমদানিনির্ভর পণ্য তাই বিশ্ববাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতি মাসে এলপিজির দাম নির্ধারণ করতে হয়। চাহিদা বাড়ায় বৈশ্বিক বাজার অনুযায়ী দেশে এলপিজির দাম বাড়ে। গত জুনে দেশে ভোক্তা পর্যায়ে ১২ কেজি এলপিজির দাম ছিল ৮০০-৯০০ টাকা, জানুয়ারিতে এর দাম হতে পারে ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা। দেশে ২৮টি এলপি গ্যাস কোম্পানি রয়েছে। তার শীর্ষে বসুন্ধরা এলপিজি। এ কোম্পানির মার্কেট শেয়ার ২৫ শতাংশ। এলপিজির দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে বিশিষ্ট জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ম. তামিম বলেন, ‘এলপিজি আমদানিনির্ভর হওয়ায় বিশ্ববাজারে দাম বাড়লে বাংলাদেশেও বাড়বে এটা স্বাভাবিক। এ ক্ষেত্রে আমদানিকারক বা সিলিন্ডার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কিছু করার নেই। অভিজ্ঞতা থেকে আমি দেখেছি, বিশ্ববাজারে যখন এলপিজির দাম কমেছিল তখন তারাও দাম কমিয়েছিল। এলপিজির দাম কিন্তু বাড়ে-কমে। এটা এমন নয় যে একবার বাড়লে আর কমে না। যখন দাম বাড়বে তখন আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোও বাড়াবে। মার্কেট এখন অনেক প্রতিযোগিতাপূর্ণ।’ তিনি বলেন, ‘এলপিজির দাম বাড়ার ফলে মানুষের মাঝে কিছু প্রভাব তো পড়বে। প্রতিটি সিলিন্ডারে যদি ১০০ টাকা করে বাড়ে তাহলে মাসে আরও ১০০ টাকা খরচ বেড়ে যাবে। সত্যিকার অর্থে কিছু করার নেই এ নিয়ে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারের আনুপাতিক হারে যেন দামটি বাড়ানো হয় আমরা তা-ই চাই। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে কীভাবে দাম সমন্বয় হবে তা যদি ফরমুলেশনের মাধ্যমে ঠিক করা যায়, তাহলে একটা রেঞ্জ অব প্রাইস আমরা ঠিক করে দিতে পারি।’ চীনা গণমাধ্যমের তথ্যানুযায়ী গত মাসের শুরুতে চীনে আমদানি এলপিজির দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। দেশটির আমদানি বাজারের সূচক পিয়ার্ল ডেল্টা ইনডেক্স (পিআরডি) ২৩ ডিসেম্বর প্রতি টন বেড়ে হয় ৪ হাজার ২৫১ ইউয়ান বা ৬৫০ ডলার; যা মাসের শুরুর থেকে ২০.৩ শতাংশ বেশি। দেশটিতে বাসা ও গাড়িতে ব্যবহারের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক কারখানা এলপিজিনির্ভর। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ায় ভারতেও গত মাসে এলপিজির দাম দুই দফা বাড়ে। ডিসেম্বরের শুরুতে প্রতি সিলিন্ডারে দাম বাড়ানো হয় ৫০ রুপি, বছরের মাঝামাঝি এসে আরও ৫০ রুপি বাড়ানো হয়। এশিয়ায় সাধারণত যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, সৌদি আরব, কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে এলপিজি আমদানি হয়। চীন, ভারতসহ উন্নয়নশীল এশিয়ার দেশগুলোয় রান্নায় প্রথাগত জ্বালানির বিকল্প হিসেবে সরকারের পক্ষ থেকে এলপিজি ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়ায় এ বাজারে জোরালো প্রবৃদ্ধি আসছে। এ ছাড়া কম কার্বন গ্যাস নির্গমনের কারণে গাড়ির জ্বালানি হিসেবেও জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। ওয়ার্ল্ড এলপিজি অ্যাসোসিয়েশনের (ডব্লিউএলপিজিএ) প্রেসিডেন্ট হেনরি কাবন বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে নিরাপদ জ্বালানি হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে এলপিজি। এখন সামুদ্রিক যানের জ্বালানি হেসেবেও এর চাহিদা বাড়ছে। আমাদের জন্য একটি বড় সুযোগ হলো এলপিজি হচ্ছে ডেকারবোনাইজার বা কার্বন দূরকারী। ফলে বিশ্বে অনেক জায়গাতেই এখন রান্নায় এলপিজি ব্যবহার হচ্ছে, যা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। এ ছাড়া আবাসিকে হিটিং অয়েল এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও পরিবহনে অন্যান্য জ্বালানির স্থলাভিষিক্ত হয়েছে।’


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর