ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সম্মতি ছাড়া ভোটের কাজে নিয়োজিত কোনো কর্মকর্তাকে বদলি না করার জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে চিঠি পাঠিয়েছে ইসি। চিঠিতে বলা হয়েছে, গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে নির্বাচনের কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিরা তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব আইন ও বিধিমোতাবেক নিরপেক্ষভাবে পালনের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা দেবেন। এ লক্ষ্যে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে পূর্বালোচনা ছাড়া কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বদলি বা ছুটি প্রদান না করা হয় অথবা নির্বাচনি দায়িত্ব ব্যাহত হতে পারে এমন কোনো কাজে নিয়োজিত না করা হয়, তার নিশ্চয়তা বিধানের লক্ষ্যে সব মন্ত্রণালয় বা বিভাগ তথা সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস বা প্রতিষ্ঠান বা সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দিতে অনুরোধ করেছে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়।
বৃহস্পতিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার-সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন নির্বাচনি তফসিল ঘোষণা করেছেন। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হবে। তফসিল ঘোষণা থেকে ভোটের পরবর্তী পনের দিন পর্যন্ত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) এর বিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিবকে এ আধা সরকারি পত্র (ডিও লেটার) দিয়েছেন ইসি সচিব আখতার আহমেদ।
চিঠিতে বলা হয়েছে, নির্বাচনের কাজে সহায়তা প্রদান করা সব নির্বাহী কর্তৃপক্ষের কর্তব্যের বিষয়ে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১২৬ এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ৫-এ বলা রয়েছে। নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) আইন, ১৯৯১ (১৯৯১ সালের ১৩ নম্বর আইন) অনুসারে নির্বাচনসংক্রান্ত কাজে দায়িত্বপ্রাপ্ত হলে তিনি উক্তরূপ নিয়োগের পর নির্বাচনি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি না পাওয়া পর্যন্ত তার চাকরির অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে নির্বাচন কমিশনের অধীনে প্রেষণে চাকরিরত আছেন বলে গণ্য হবেন।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ৪৪ (ঙ) অনুচ্ছেদের বিধান অনুসারে নির্বাচনি সময়সূচি জারি হওয়ার পর থেকে ফলাফল ঘোষণার পর ১৫ দিন পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে পূর্বালোচনা ছাড়া কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অন্যত্র বদলি না করার বিধান রয়েছে।
ইসির নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন সব মন্ত্রণালয়/বিভাগের সচিব, মহাপুলিশ পরিদর্শকসহ মাঠ প্রশাসন, পুলিশের দায়িত্বশীলদের কাছে এ সংক্রান্ত পরিপত্র দেবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। নির্বাচনসংক্রান্ত কার্যাদি সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য সব মন্ত্রণালয়/বিভাগ তথা সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত অফিস/প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্য থেকে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে বেসরকারি অফিস/শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেও প্রয়োজনীয়সংখ্যক ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগ করা প্রয়োজন হবে। পাশাপাশি, নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয়সংখ্যক ম্যাজিস্ট্রেট ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হবে। নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ বলেছেন, তফসিল ঘোষণার পর ইসি প্রয়োজন হলে যখন যা দরকার ব্যবস্থা নেবে। সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরি নিশ্চিত করবে নির্বাচন কমিশন।