চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ রাজধানীর কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ীরা। কারওয়ান বাজার সুপারমার্কেট, কিচেন মার্কেট, ১ ও ২ নম্বর সুপারমার্কেটে মাসিক ও সাপ্তাহিক ভিত্তিতে লাখ লাখ টাকা চাঁদা নিচ্ছেন যুবদল থেকে বহিষ্কৃত নেতা আবদুর রহমান ও তার সহযোগীরা। চাঁদাবাজির অভিযোগে বহিষ্কার এবং একাধিক মামলার পরও আবদুর রহমানের তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, ৫ আগস্টের পর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের চাঁদাবাজরা পালিয়ে গেলে চাঁদার হাল ধরেন আবদুর রহমান। তার ৬০-৭০ সদস্যের গ্যাং রয়েছে। যারা চাঁদা নিতে কারওয়ান বাজারে নিয়মিত শোডাউন ও ব্যবসায়ীদের মারধর করে আসছে।
চাঁদায় অতিষ্ঠ ব্যবসায়ীরা গতকাল মানববন্ধনের আয়োজন করলে হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। চাঁদাবাজরা পালিয়ে গেলে ঝাড়ু ও লাঠি হাতে বিক্ষোভ করেন ব্যবসায়ীরা। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। হামলার শিকার ব্যবসায়ীরা মামলা করবেন বলে জানা গেছে। গতকাল সন্ধ্যায় তেজগাঁও থানার ওসি ক্যশৈন্যু মারমা বলেন, এখনো ব্যবসায়ীরা মামলা করেননি। করলে পুলিশ আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে। এক প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, আবদুর রহমানের বিরুদ্ধে হওয়া আগের সব মামলায় জামিনে রয়েছেন। নতুন করে মামলা হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইসলামিয়া শান্তি সমিতির ব্যানারে ব্যবসায়ীরা লিখিতভাবে অভিযোগ করেছেন, কিচেন মার্কেটের মাছবাজার, মাংস বাজার, মুরগি বাজার, ফলপট্টি, ফুটপাতসহ অন্যান্য মার্কেট থেকে মাসিক, সাপ্তাহিক ও দিন ভিত্তিতে মোটা অঙ্কের চাঁদা নেন আবদুর রহমান। কিচেন মার্কেটের বাথরুমকে গুদাম বানিয়ে ভাড়া দিয়েছেন। চাঁদাবাজির টাকায় ৫ আগস্টের পর কিচেন মার্কেটে দুটি দোকান কিনেছেন। ছিনিয়ে নিয়েছেন ছয়টি কোম্পানির ডিলারশিপ। চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে মিথ্যা মামলার আসামি করার ভয় দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। আবদুর রহমানের চাঁদাবাজ চক্রের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে লম্বা বিল্লাল, মোটা আমিন, ফারুক গাজী ওরফে ভাগিনা ফারুক, বরিশাইল্লা বাশার, মোহাম্মদ আলী, সাদ্দাম, কিলার আনিস, কারেন্ট জসিম, তন্ময় ও রাসেলসহ ৬০-৭০ সদস্য। চাঁদাবাজদের হামলায় আহত চাল ব্যবসায়ী বেলায়েত হোসেন বলেন, আবদুর রহমান গ্যাংয়ের ২০-২৫ জন সদস্য দেশি অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। আমরা বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী আহত হই। তিনি বলেন, আবদুর রহমান তেজগাঁও থানা যুবদলের সদস্য সচিব ছিলেন। চাঁদাবাজির অভিযোগে তাকে বহিষ্কার করা হয়। দলীয় পরিচয়ে তিনি এখনো চাঁদাবাজি করছেন।
আবদুর রহমান বলেন, একটি গণমাধ্যম আমার বক্তব্য ভুলভাবে উপস্থাপন করায় দল আমাকে বহিষ্কার করেছে। যারা অভিযোগ করছে তারা আগে আওয়ামী লীগের আমলে চাঁদা তুলত। আমি ৫ আগস্টের পর উড়ে আসিনি। ট্রেড লাইসেন্স অনুযায়ী ১৯৯৯ সাল থেকে কারওয়ান বাজারে ব্যবসা করি। যারা বিএনপির রাজনীতিতে জড়িত তাদের চাঁদাবাজ বলে উপস্থাপন করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।