সরকার বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রতি ঝুঁকে যাওয়ায় নির্বাচন প্রভাবিত হওয়ার শঙ্কা আছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলকে সরকারি সুযোগসুবিধা ও বিশেষ প্রটোকল দেওয়ার মাধ্যমে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে পক্ষপাতের বার্তা যাচ্ছে, যা নির্বাচনের মাঠে অসমতা তৈরি করতে পারে।’ গতকাল ইইউর চিফ ইলেকশন অবজারভার আইভার্স ইজাবসের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ মন্তব্য করেন তিনি। এ সময় এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক সেলপ্রধান সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়াসহ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আসন্ন জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (ইইউ) একটি বড় ও শক্তিশালী পর্যবেক্ষক দল পাঠাতে যাচ্ছে। ইইউ চায় নির্বাচনটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক হোক। ফল ঘোষণার পর সবাই যেন তা গ্রহণ করে, এতে গণতান্ত্রিক রূপান্তরও নির্বিঘ্ন হবে।’ তিনি বলেন, ‘ইইউ প্রতিনিধিরা রাজনৈতিক দলগুলোর ভাবনা ও উদ্বেগ জানতে আগ্রহী। তাঁরা নিরপেক্ষভাবে কাজ করবেন এবং সব রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা চেয়েছেন। একই সঙ্গে এনসিপিকেও সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে ইইউ।’ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘দেশে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড আছে এমন আত্মবিশ্বাস বা ঐকমত্য সব রাজনৈতিক দলের নেই, এমনকি এনসিপিরও নেই।’ মিডিয়ার ভূমিকা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘কিছু মূলধারার গণমাধ্যম এনসিপিকে লক্ষ্য করে নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশ করছে। এ ছাড়া একটি বিশেষ দলের প্রতি মিডিয়া ঝুঁকে পড়েছে। প্রশাসন ও মিডিয়ায় সমান সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি এনসিপির।’ তিনি জানান, ‘এসব বিষয় নির্বাচন কমিশনকে বারবার জানানো হচ্ছে এবং ধারাবাহিকভাবে আপডেট দেওয়া হবে। মাঠে গিয়ে কী ধরনের বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে, তা-ও কমিশনকে জানানো হবে।’
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘ঋণখেলাপিদের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের আরও কঠোর অবস্থান প্রয়োজন। প্রাথমিকভাবে অনেক ঋণখেলাপির মনোনয়ন বৈধ ঘোষণার অভিযোগ এসেছে।’ এ ছাড়া পোস্টারিংসহ বিভিন্ন প্রচারকার্যক্রমে আইন লঙ্ঘনের চেষ্টা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। এসব ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন যেন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়, এটাই এনসিপির প্রত্যাশা। নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের বিচার ও আসামিদের গ্রেপ্তার না হওয়ায় মাঠে একটি নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। সরকার কিছু উদ্যোগ নিলেও আশঙ্কা পুরোপুরি কাটেনি। তবু এনসিপি মাঠে কাজ চালিয়ে যাবে এবং ২১ তারিখের পর আনুষ্ঠানিক প্রচার আরও জোরদার করবে।’
আসন সমঝোতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এনসিপির অবস্থান শিগগিরই স্পষ্ট হবে। ১১ বা ১২ তারিখের মধ্যে এ বিষয়ে ঘোষণা আসতে পারে।’ তিনি দাবি করেন, ‘জামায়াত ও এনসিপির জোট নির্বাচনি প্রস্তুতিতে অনেকখানি এগিয়ে রয়েছে এবং গণভোটের পক্ষে ইতোমধ্যে প্রচার শুরু হয়েছে।’ আসন সমঝোতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এলে আর বড় কোনো চ্যালেঞ্জ থাকবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।