শেষ সময়ে এসেও সিদ্ধান্তহীনতায় জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোট। আসন সমঝোতা নিয়ে যেকোনো সময় ভাঙন দেখা দিতে পারে এই জোটে। উপর্যুপরি বৈঠক করেও গতকাল চূড়ান্ত ঘোষণার সংবাদ সম্মেলন শেষ মুহূর্তে বাতিল করা হয়েছে। আসন সমঝোতা নিয়ে জোটে থাকা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এখনো ভিন্ন অবস্থানে।
গতকাল জামায়াতের পক্ষ থেকে ১১ দলের আসন সমঝোতা বিষয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা দিতে বিকালে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়েছিল। কিন্তু দুপুরে তা স্থগিতের কথা জানানো হয়। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, অনিবার্য কারণে সংবাদ সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে। এখনো কিছু প্রস্তুতি বাকি রয়েছে। পরবর্তী সময়ে সংবাদ সম্মেলনের তারিখ জানানো হবে।
নির্বাচনি আসন সমঝোতা ও জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে সৃষ্ট অনিশ্চয়তার মধ্যে নিজেদের চূড়ান্ত অবস্থান স্পষ্ট করতে যাচ্ছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। আগামী দু-এক দিনের মধ্যে দলটি তাদের নির্বাচনি রূপরেখা ও ‘ওয়ান বক্স পলিসি’ বাস্তবায়নের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবে। উ™ূ¢ত পরিস্থিতি নিয়ে গত মঙ্গলবার রাত ১২টা পর্যন্ত দলের জেলা সভাপতি, সেক্রেটারি, মনোনীত প্রার্থী, মজলিসে শুরা ও উপদেষ্টা পরিষদের সঙ্গে দীর্ঘ ৭ ঘণ্টা আলোচনা করেছে ইসলামী আন্দোলন।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান গতকাল রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমরা নির্বাচনি পরিস্থিতি ও জোটভুক্ত দলগুলোর আচরণ বিশ্লেষণ করছি। জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়া বা কাউকে বের করে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি। তবে আমরা আমাদের আত্মসম্মানবোধ বজায় রেখে রাজনীতি করি। কোনো চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত আমরা মানব না। আগামী দু-এক দিনের মধ্যেই আমাদের সিদ্ধান্ত জানানো হবে। আমরা এখনো আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি এবং একটি যৌক্তিক পর্যায়ে পৌঁছাতে পারব বলে আশা করি।
গাজী আতাউর রহমান জানান, ৫ আগস্টের গণ অভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিস্থিতিতে ইসলামপন্থি শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করতে পীরসাহেব চরমোনাই ‘ওয়ান বক্স পলিসি’ বা এক বাক্স নীতি ঘোষণা করেছিলেন। লক্ষ্য ছিল সারা দেশে ইসলামপন্থিদের একক প্রার্থী নিশ্চিত করা। কিন্তু ২৯ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিন পর্যন্ত জোটের শরিকদের মধ্যে একক প্রার্থী নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। এমনকি শরিক দলগুলো একে অপরকে ছাড় দিলেও কোনো আসনেই ইসলামী আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থীদের জন্য ছাড় দেওয়া হয়নি। জানতে চাইলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, জাতীয় স্বার্থে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচন করার জন্য জোট করেছি। ১১-দলীয় জোটের আসন সমঝোতা প্রায় চূড়ান্ত হলেও কিছু আসন নিয়ে শরিক দলের মধ্যে কিছুটা দূরত্ব রয়েছে। বিষয়টি সমাধানের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আশা করি সব ঠিক হয়ে যাবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এনসিপিসহ শরিক দলের আসনগুলোকে জিতিয়ে আনতে আমরা কাজ করছি।
সূত্র জানায়, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট ও আসন সমঝোতা নিয়ে দলটির মধ্যে দুটি পক্ষ দেখা গেছে। উভয় পক্ষই জোটে থাকার আগ্রহ প্রকাশ করলেও এক পক্ষ আসন ছাড়ে নমনীয়তা দেখিয়েছে। অন্য পক্ষ ১০০ আসনের নিচে ছাড় দিতে নারাজ।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রচার ও মিডিয়া সমন্বয়ক হাসান জুনায়েদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, গতকালের সংবাদ সম্মেলনে অনেকে যেতে রাজি হয়নি। তবে সম্মেলন স্থগিত হওয়ায় ভালো হয়েছে। আশা করা যায় ভালো কিছু একটা হবে। সমঝোতার বিষয়ে অগ্রগতি হওয়ার সম্ভাবনা আছে।
জোটের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সুবিধাজনক আসন ও জাতীয় নাগরিক পার্টির শীর্ষ নেতাদের আসনে প্রার্থী দিতে চায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। এর মধ্যে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের ঢাকা-১১, সদস্যসচিব আখতার হোসেনের রংপুর-৪, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদের কক্সবাজার-২, নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) শাহজাহান চৌধুরীর চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসন।