আওয়ামী লীগের টানা দেড় দশকের শাসনামলে শতাধিক ব্যক্তিকে গুম ও হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় চাকরিচ্যুত সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি এ মামলায় প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনের দিন ধার্য করা হয়েছে। অভিযোগ থেকে জিয়াউল আহসানের আবেদন খারিজ করে দিয়ে গতকাল বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-১ এ আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
এদিকে চব্বিশের গণ অভ্যুত্থানে প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় যুক্তিতর্কের জন্য ২০ জানুয়ারি দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল। অন্যদিকে র্যাবের টিএফআই সেল পরিদর্শনে শর্তসাপেক্ষে অনুমতি পেয়েছে এ-সংক্রান্ত মামলার অভিযুক্ত সেনা কর্মকর্তাদের আইনজীবীরা। শর্ত হিসেবে বলা হয়েছে- প্রসিকিউশনকে জানিয়ে পরিদর্শন করতে হবে এবং প্রসিকিউশন চাইলে সেখানে উপস্থিত থাকতে পারবে। ট্রাইব্যুনাল-১ এ আদেশ দেন।
গতকাল গুম-খুনের একটি মামলার একমাত্র আসামি জিয়াউল আহসানকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। পরে বিচারক মোহিতুল এনাম চৌধুরী তিনটি অভিযোগ পড়ে শুনিয়ে জিয়াউল আহসানের কাছে জানতে চান, তিনি এসব অভিযোগ স্বীকার করেন কি না। জবাবে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন তিনি।
আদালতে জিয়াউল আহসানের পক্ষে ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী ও জিয়াউল আহসানের বোন আইনজীবী নাজনীন নাহার। প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম।
গত ৪ ডিসেম্বর অভিযোগ গঠনের ওপর শুনানি শেষ করে প্রসিকিউশন। এরপর ৮ জানুয়ারি শুনানি করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী। দুই পক্ষের শুনানির পর ট্রাইব্যুনাল আদেশের জন্য রেখেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় গতকাল আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।
আওয়ামী লীগের শাসনামলে ২০১০ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে শতাধিক ব্যক্তিকে গুম ও হত্যার তিনটি অভিযোগ এনে গত ১৭ ডিসেম্বর জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়। শুনানির পর ওই দিনই তা আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। পরে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি হয়।
মেজর জেনারেল (চাকরিচ্যুত) জিয়াউল আহসান সর্বশেষ ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) মহাপরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর সেনাবাহিনীর উচ্চ পর্যায়ে রদবদলের ধারাবাহিকতায় গত বছরের ৬ আগস্ট তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়। পরে ১৬ আগস্ট তাকে গ্রেপ্তার করার কথা জানায় পুলিশ।
আবু সাঈদ হত্যা মামলার যুক্তিতর্ক শুরু ২০ জানুয়ারি : গণ অভ্যুত্থানে মৃত্যুবরণ করা আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় যুক্তিতর্কের জন্য ২০ জানুয়ারি দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল। গতকাল বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ দিন ধার্যের আদেশ দেন।
এদিন এ মামলায় জবানবন্দি দেওয়া তদন্ত কর্মকর্তা রুহুল আমিনকে পুনঃপরীক্ষা করে প্রসিকিউশন। পরে তাকে জেরা করেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর শরিফুল ইসলামের আইনজীবী আমিনুল গণি টিটো। তবে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য সকালে তারিখ নির্ধারণ করেননি ট্রাইব্যুনাল। বিকালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম। তিনি বলেন, এ মামলায় প্রসিকিউশনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। আসামিপক্ষে কোনো সাক্ষ্য নেই। তাই যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য আমরা প্রস্তুত। পরে আগামী ২০ জানুয়ারি নির্ধারণ করেন ট্রাইব্যুনাল।
এ মামলায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ভিসি হাসিবুর রশীদসহ ৩০ আসামির মধ্যে গ্রেপ্তার রয়েছেন ছয়জন। গতকাল তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।