রাজধানী ঢাকার পাঁচতারা হোটেল র্যাডিসন ব্লুর চার পাশ সুসজ্জিত নানা পোস্টারে। সেখানে লেখা, ফিফা বিশ্বকাপের আসল ট্রফি এখন এখানে। গতকাল সকালে ফিফা বিশ্বকাপের ট্রফি এসেছে ঢাকায়। দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দর্শকরা ট্রফি নিয়ে উৎসব করেছেন।
কোকাকোলার ক্যাম্পেইনে বিজয়ীরা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলেছেন। গত রাতেই বিশ্বকাপের ট্রফি উড়াল দিয়েছে নতুন গন্তব্যের উদ্দেশে। দিন কয়েক আগে সৌদি আরবের রিয়াদে এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি ট্যুর। ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার ৩০টি সদস্য দেশের ৭৫টি স্থানে ১৫০ দিনেরও বেশি সময় ধরে ভ্রমণ করবে এ সোনার ট্রফি। এশিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন দেশ ঘুরে আয়োজক দেশ কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে শেষ হবে দীর্ঘ ভ্রমণ। এ ট্রফি ট্যুরের মাধ্যমে ফিফা মূলত বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে থাকা কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীদের সঙ্গে নতুন বন্ধন স্থাপন করে। বাংলাদেশে ২০০২ সালে কোরিয়া-জাপান বিশ্বকাপের আগে প্রথমবার ট্রফি আসে। এরপর ২০১৩ ও ২০২২ সালে আরও দুবার বিশ্বকাপ ট্রফি এসেছিল। চতুর্থবারের মতো এ ট্রফি এলো বাংলাদেশে। এবারের ট্রফি নিয়ে দর্শক সমাগম আগের তুলনায় কিছুটা কম ছিল। তারপরও হাজার হাজার দর্শক এসেছেন। ট্রফির পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তুলে স্মৃতির ডায়েরিটা সমৃদ্ধ করেছেন। সাধারণ ফুটবলভক্তদের পাশাপাশি অনেক তারকাও এসেছিলেন ট্রফি উৎসবে অংশ নিতে। রুপালি জগতের তারকারা ছাড়াও ছিলেন ফুটবলের বর্তমান ও সাবেক তারকারা। ফুটবল সংগঠক এবং নানা শ্রেণিপেশার মানুষও এসেছিলেন এখানে। জাহাঙ্গীর আলম নামে বিমান বাহিনীর এক সদস্য এসেছেন ট্রফির পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তুলতে। তিনি বললেন, ‘আমি কোকাকোলার এক লিটারের বোতল কিনে টিকিট পেয়েছি।’ ফুটবলপ্রেমী জাহাঙ্গীর ট্রফির সঙ্গে ছবি তুলতে পেরে দারুণ উচ্ছ্বসিত। এমনই উচ্ছ্বাস গতকাল চোখে পড়েছে র্যাডিসন ব্লু হোটেলে আগত নারী-পুরুষ, বাচ্চা-বুড়ো সবার চোখে-মুখে।
সামনের জুন-জুলাইয়ে ৪৮ দল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপ ফুটবল। এ বিশ্বকাপ দেখার আশায় প্রহর গুনছেন কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী। ট্রফি এসে বিশ্বকাপের উন্মাদনা অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়ে গেল বাংলাদেশে।