নির্বাচন কমিশনের (ইসি) আপিল শুনানিতে গত পাঁচ দিনে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৭৫ জন প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। এর মধ্যে গতকাল ৭২ জন প্রার্থিতা ফিরে পান। এ ছাড়া পাঁচ দিনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন শুনানিতে ৭৮ প্রার্থীর আপিল খারিজ হয়েছে। ফলে তাঁরা নির্বাচনে ফিরতে পারেননি। ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ গতকাল সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের বলেন, ‘১০০ আবেদনের মধ্যে শুনানি শেষে ৭৩টি মঞ্জুর (একজনের প্রার্থিতার বিরুদ্ধে আপিল গ্রহণ), ১৭টি খারিজ এবং ১০টি পরবর্তীতে নিষ্পত্তির জন্য মুলতবি রাখা হয়েছে।’ ইসি জানায়, গত পাঁচ দিনে ৩৮০টি আপিল শুনানি হয়েছে। আজ আরও ১০০ আপিল শুনানির কথা রয়েছে। ১৮ জানুয়ারির মধ্যে ৬৪৫টি আপিল নিষ্পত্তির লক্ষ্য রয়েছে। গতকাল মনোনয়নপত্রের বৈধতা নিয়ে চারটি আপিলের শুনানি হয়। এর মধ্যে কুমিল্লা-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী মনিরুল হক চৌধুরীর মনোনয়নপত্রের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা আপিলটি খারিজ করায় তাঁর প্রার্থিতা বহাল থাকছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপি নেতা মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ আপিল করেছিলেন। আবেদনে তিনি অভিযোগ করেন, মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিল করা হলফনামায় মনিরুল হক তাঁর ব্যাংকঋণ ও স্ত্রীর সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। এ ছাড়া দিনাজপুর-৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী এ কে এম কামরুজ্জামানের মনোনয়নপত্রের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা আরেকটি আপিল ১৭ জানুয়ারি নিষ্পত্তির জন্য মুলতবি রেখেছে ইসি। ওই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী এ জেড এম রেজওয়ানুল হক দাবি করেন, কামরুজ্জামান ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন এমন কোনো প্রমাণ দাখিল করেননি। তবে কামরুজ্জামানের আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল সাংবাদিকদের বলেন, বিএনপি প্রার্থী ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন এবং তা মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিল করা হলফনামায় উল্লেখ রয়েছে। এ কারণে তাঁকে নির্বাচন করতে বাধা দেওয়ার কোনো সাংবিধানিক সুযোগ নেই। এ ছাড়া কুমিল্লা-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সেলিম ভূঁইয়া স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল মতিনের মনোনয়ন বৈধতার বিরুদ্ধে আপিল করেন। ইসি সেই আপিল খারিজ করায় আবদুল মতিনের প্রার্থিতা বহাল থাকে।
অন্যদিকে কুড়িগ্রাম-৪ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী কে এম ফজলুল মণ্ডলের সুপ্রিম পার্টির প্রার্থী শেফালী বেগমের বিরুদ্ধে করা আপিল মঞ্জুর করেছে ইসি। ফলে ওই আসনে শেফালী বেগমের প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে। তাঁরা স্বামী-স্ত্রী ছিলেন। বর্তমানে তাঁদের ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে।
আনন্দে ভিডিও উচিত হয়নি, বাহরাইন ডাক বিভাগ খতিয়ে দেখছে : নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ বলেছেন, ‘বাহরাইনে বাংলাদেশি ভোটারদের পোস্টাল ব্যালটের খাম বণ্টনের ভিডিও কীভাবে ঘটল তা সরেজমিন তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। বাহরাইনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত বিষয়টি তাৎক্ষণিক সেখানকার ডাক বিভাগকে জানিয়েছেন। ডেলিভারি পয়েন্ট থেকে প্রথমবারের মতো পোস্টাল ব্যালট পেয়ে আনন্দে এ ধরনের ভিডিও করা উচিত হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি। গতকাল সন্ধ্যায় নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে বাহরাইনে পোস্টাল ব্যালটের খামের ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে কথা বলেন ইসি সচিব। ইসি সচিব বলেন, বাহরাইনের ক্ষেত্রে যেটা হয়েছে যে ওখানে ১৬০টি ব্যালট একটি বক্সে রেখে যায় ডাক বিভাগ। ওই বক্সটা যখন বাংলাদেশি প্রবাসী ভাইয়েরা এসে খুলেছেন চার-পাঁচজন, তখন তাঁরা ওটা ভাগ করেন-আমার পাশের ঘরে থাকে ও, আমি এটা নিচ্ছি আমি ওটা পৌঁছে দেব-ব্যাপারটা এই রকম। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার ভিডিওটি উচ্ছ্বাসে করা হলেও ব্যালট পেপারের নির্ধারিত বক্স খুলে দেখাননি বলে জানান তিনি।