‘জাগতিক সবকিছু ছেড়ে অনন্তলোকে চলে গেলেও দেশবাসীর হৃদয়ে-মননে, গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায়, চর্চায়, সংকটে-স্বপ্নে অবধারিতভাবে যুক্ত আছেন ও চিরদিন থাকবেন বেগম খালেদা জিয়া। গণতন্ত্র, পরমতসহিষ্ণুতা ও দেশপ্রেমের তুলনাহীন উজ্জ্বল প্রতীক এই মহান নেত্রীর ত্যাগ, দৃঢ়তা, দূরদর্শী প্রজ্ঞা, আপন মৃত্তিকা ও মানুষের প্রতি সুগভীর অঙ্গীকার আমাদের সব সময় শক্তি ও সাহস জোগাবে। সত্যের পথে সর্বদা অবিচল আপসহীন প্রত্যয়ী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রেখে যাওয়া আদর্শ, দেশাত্মবোধ স্বপ্নে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে অনিঃশেষ প্রেরণা ও পাথেয় হয়ে থাকবে। বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের হৃদয়ের মণিকোঠায় স্থায়ী আসন গেড়েছেন তিনি। গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের ইতিহাস-ঐতিহ্যের গাঁথায় তাঁর নাম, অবদান ও ভূমিকা গ্রথিত হয়ে থাকবে উজ্জ্বল স্বর্ণাক্ষরে।’ এ কারণেই তিনি অপরাজেয়, অমর, এক মৃত্যুঞ্জয়ী মহীয়সী। রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় গতকাল বিকালে অনুষ্ঠিত নাগরিক শোকসভায় গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে এভাবেই তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জীবনকর্মের স্মৃতিচারণা করেন নাগরিক সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। শোকসভায় দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা বলেন, বেগম খালেদা জিয়া সত্যিকার অর্থেই মানুষ ও দেশের নেত্রী হয়ে উঠেছিলেন। যা দলমতনির্বিশেষে তাঁর জানাজায় কোটি মানুষের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়েই প্রমাণিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান, তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান ও খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ পুত্র মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শামিলা রহমানসহ জিয়া পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ জে আর মোদাচ্ছির হোসেনের সভাপতিত্বে এতে দেশের শীর্ষ রাজনীতিবিদ, কূটনীতিক, সাংবাদিক, উন্নয়নকর্মী, শিক্ষাবিদ, গবেষক, সম্পাদক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেন। মাগরিবের নামাজের আগে সংক্ষিপ্ত মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ হয়। বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত শোকসভায় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ, মনির হায়দার প্রমুখ যোগ দেন। এ ছাড়াও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান, সালাহউদ্দিন আহমদ, অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিনসহ সিনিয়র নেতারা শোকসভায় অংশ নেন। শুক্রবার বেলা আড়াইটার পর পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর খালেদা জিয়ার স্মরণে শোকবার্তা পাঠ করেন দৈনিক ইত্তেফাকের নির্বাহী সম্পাদক সালেহ উদ্দিন। সভায় বক্তব্য দেন সভার সভাপতি সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ জে আর মোদাচ্ছির হোসেন, বিশিষ্ট কলামিস্ট ও যায়যায়দিন সম্পাদক শফিক রেহমান, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান এস এম এ ফায়েজ, সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও নিউএজ সম্পাদক নূরুল কবীর, আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ, ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহ্ফুজ আনাম, আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ, আইসিসিবির সভাপতি মাহবুবুর রহমান, সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, লেখক ফাহাম আবদুস সালাম, পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর, খালেদা জিয়ার চিকিৎসক এফ এম সিদ্দিকী, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী দেবাশীষ রায়, ডিপিআইয়ের সভাপতি আবদুস সাত্তার দুলাল, সাবেক কূটনীতিক আনোয়ার হাশিম, ট্রান্সকম গ্রুপের সিইও সিমিন রহমান, লেখক ও গবেষক রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। সবশেষে বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে স্মরণসভা শেষ হয়। সভাপতির বক্তব্যে সৈয়দ জে আর মোদাচ্ছির হোসেন বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের নাম খালেদা জিয়া। তিনি সাধারণ রাজনীতিবিদ ছিলেন না, ছিলেন রাজনৈতিক আদর্শ। ব্যক্তিগতভাবে ছিলেন অসাধারণ দৃঢ়চেতা। কঠিন সময়েও চরম ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছেন। রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে খালেদা জিয়াকে সর্বোচ্চ সম্মানজনক উপাধি দেওয়ার দাবি জানাই।

শফিক রেহমান বলেন, যে করেই হোক আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন যেন হয়। সেটার জন্য সবার সহযোগিতার প্রয়োজন। এই শোকসভাকে যদি অর্থবহ করতে হয়, তাহলে এই শোককে শক্তিতে রূপান্তরিত করতে হবে। দয়া করে আপনারা ইলেকশন বানচাল হতে দেবেন না। কোনো একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনায় অথবা একটি সহিংসতার ফলে গোটা জাতির আশা এই নির্বাচন আপনারা নষ্ট করবেন না।
এস এম এ ফায়েজ বলেন, খালেদা জিয়া সব সময় মেধার মূল্যায়ন করতেন। আমি সরকারি কর্মকমিশনের চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া কারও নিয়োগের জন্য সুপারিশ করেননি। তাই চাইতেন, মেধার ভিত্তিতে যোগ্য ব্যক্তিরাই দেশ পরিচালনা করুক।
নূরুল কবীর বলেন, খালেদা জিয়া কেবল একটি দলের নেত্রী ছিলেন না, তিনি সত্যিকার অর্থেই মানুষ ও দেশের নেত্রী হয়ে উঠেছিলেন। যা দলমতনির্বিশেষে লাখ লাখ মানুষের তাঁর জানাজায় অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে। মানুষ ও রাজনৈতিক নেত্রী হিসেবে খালেদা জিয়ার রুচিশীলতা ও পরিমিতিবোধ আমাকে বরাবরই আকৃষ্ট করেছে। যখন দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে শালীনতা ও সংযমের ঘাটতি প্রকট আকার ধারণ করেছিল তখন খালেদা জিয়া প্রকাশ্যে নিজের বেদনা, ক্ষোভ কিংবা নিন্দাসূচক কোনো বক্তব্য উচ্চারণ করেননি। আপাতদৃষ্টিতে এটি খুব সহজ কথা হতে পারে। কিন্তু এই সংযম, পরিমিতিবোধ ও আত্মমর্যাদা বাংলাদেশের অসহিষ্ণুতার সময়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, বাংলাদেশের মানুষ অনন্তকাল ধরে বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ রাখবে তাঁর দেশপ্রেম, সাহসিকতা, সততা, নিষ্ঠা, ত্যাগ ও অত্যাচার সহ্য করার অপরিসীম ক্ষমতার কারণে। তিনি এই দেশকে ভালোবাসতেন, এই জনপদকে ভালোবাসতেন। তাঁর তিনটি কথা আমাদের ধারণ করতে হবে। সেগুলো হলো, দেশের বাইরে আমাদের বন্ধু আছে প্রভু নয়; আমাদের হাতে স্বাধীনতার পতাকা, ওদের হাতে গোলামির জিঞ্জির; দেশের বাইরে আমার কোনো ঠিকানা নেই। এই মন্ত্রগুলো ধারণ করলেই তাঁর দল এবং এই দেশ রক্ষা পাবে। মাহ্ফুজ আনাম বলেন, খালেদা জিয়ার যে শেষ বাণী-জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলার আহ্বান, আমরা যেন সবাই এটাকে ধারণ করি। জেল, গৃহবন্দি এত কিছুর পরও উনি যখন ৭ আগস্ট মুক্ত হয়ে ভাষণ দিলেন, সেখানেও তিনি প্রতিশোধের কথা বলেননি। তিনি বলেছিলেন-ধ্বংস নয়, প্রতিশোধ নয়, প্রতিহিংসা নয়, ভালোবাসা, শান্তি ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলি। এই যে উদারতা, সেটা যদি আমরা মনেপ্রাণে গ্রহণ করতে পারি, তাহলে আমরা জ্ঞানভিত্তিক দেশ গড়ে তুলতে পারব। মাহমুদুর রহমান বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার স্বামীর মতো দেশপ্রেম ছিল। খালেদা জিয়া সংগ্রাম করেছেন গণতন্ত্রের জন্য। এমন দ্বিতীয় কাউকে পাওয়া যাবে না। তিনি কখনো মাথা নত করেননি। বেগম খালেদা জিয়া মানুষের হৃদয়ে ছিলেন। খালেদা জিয়া অগণিত মানুষের ভালোবাসা পেয়েছেন। ড. আসিফ নজরুল বলেন, বাংলাদেশকে ভালো থাকতে হলে বেগম খালেদা জিয়াকে ধারণ করতে হবে। বেগম খালেদা জিয়া যখন জীবিত ছিলেন, তখন বিভিন্ন প্রোগ্রামে আমি বলতাম-বেগম জিয়া ভালো থাকলে, ভালো থাকবে বাংলাদেশ। আমি বিশ্বাস করি অবশ্যই উনি এখন ভালো আছেন। কিন্তু বাংলাদেশ কি ভালো আছে? বা ভালো থাকবে? যদি বাংলাদেশকে ভালো থাকতে হয় তাহলে বেগম জিয়াকে ধারণ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়ার অনেক অসাধারণ কিছু বৈশিষ্ট্য ছিল। উনি সৎ ছিলেন, দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, আত্মত্যাগী, পরমতসহিষ্ণু এবং দেশপ্রেমিক ছিলেন। ওনার মধ্যে রুচির এক অবিস্মরণীয় প্রকাশ ছিল।
মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের বড় দুটি অর্জন হলো, তিনি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নির্বাচিত প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার স্বল্প সময়ে দেশের সর্বোচ্চ নির্বাহী ক্ষমতা অর্জন। সাধারণ মানুষের মধ্যে তাঁর প্রতি যে গভীর আবেগ ও ভালোবাসা দেখা যায়, তা মূলত তাঁর দীর্ঘ সংগ্রাম এবং ‘ভিক্টিম ইমেজ’-এর প্রতি সহমর্মিতারই বহিঃপ্রকাশ। ২০২৪ সালের আগস্টে মুক্ত হওয়ার পর তাঁর প্রথম বক্তব্যে তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। মাহবুবুর রহমান বলেন, বেগম খালেদা জিয়া তাঁর দায়িত্ববোধ, দৃঢ়তা ও নেতৃত্বের মাধ্যমে নিজেকে একজন অদম্য শক্তিশালী নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ২০০১-০৬ সালের অর্থনীতির অগ্রগতি এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন দেশের অর্থনীতিকে এক শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করায়। একই সঙ্গে সামাজিক উন্নয়নে তাঁর নেওয়া কিছু পদক্ষেপ ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষা ও দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নেওয়া কর্মসূচি যেমন শিক্ষার বিনিময়ে খাদ্য এবং প্রাথমিক শিক্ষার সহায়তা অনেক বঞ্চিত পরিবারকে নতুন আশার আলো দেখিয়েছে।
ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, জাতির এই সন্ধিক্ষণে খালেদা জিয়ার উপস্থিতি, পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা সম্ভবত সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল। অথচ এই সময়ে তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। তিনি হয়তো চাইতেন আজকের এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় আমরা সকলে একত্রিতভাবে, নীতিগতভাবে এবং দেশ ও মাতৃকার প্রতি আমাদের ভালোবাসা থেকে যৌথভাবে কাজ করি। তাঁর মতো বহুমাত্রিক জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হতে পারে। খালেদা জিয়া প্রতিটি ক্ষেত্রেই কারিগরি পরামর্শ গ্রহণ করতেন। কিন্তু প্রতিটি পরামর্শকে জাতীয় বাস্তবতা ও প্রয়োজনীয়তা এবং বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটের নিরিখে বিচার করে রাজনৈতিক অঙ্গীকারের মাধ্যমে দেশের স্বার্থে সিদ্ধান্ত নিতেন।
প্রফেসর ডা. এফ এম সিদ্দিক বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় অবহেলা, লিভার ফাংশন দ্রুত অবনতি ওনাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে। এটা ইচ্ছাকৃত অবহেলা। এটা অমার্জনীয় অপরাধ এবং এটা ওনাকে হত্যা করার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
বাসুদেব ধর বলেন, গণতান্ত্রিক সংগ্রামে বাংলাদেশের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে বেগম খালেদা জিয়াকে সব সময়ই রাজপথে দেখেছি। সেই রাজপথে আমরাও ছিলাম। সমঅধিকারের দাবি নিয়ে যখনই আমরা সোচ্চার হয়েছি এবং তখনই তাঁর সহানুভূতি পেয়েছি। বাংলাদেশের একটি নাগরিকও যেন ধর্ম বা অন্য কারণে নিগৃহীত না হয় এবং এই নতুন গণতান্ত্রিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যদি তা নিশ্চিত হয়, তবেই খালেদা জিয়ার প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা নিবেদন হবে।
আবদুস সাত্তার দুলাল বলেন, ১৯৯৪ সালের আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবসের একটি অনুষ্ঠানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কাছে প্রতিবন্ধীদের জন্য আইন ও নীতিমালার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছিলাম। তখন খালেদা জিয়া তাঁর নোটবুক এগিয়ে দিয়ে সেখানে দাবিটি লিখে দিতে বলেন। তিনি আশ্বস্ত করেন, তাঁর সরকার প্রতিবন্ধীদের কল্যাণে কাজ করবে। তাঁর এই আচরণটি ছিল অত্যন্ত মমতাভরা, যা অনেকটা মায়ের মতো ছিল।