‘১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যে’ থাকছে না ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। তারা ওই জোট থেকে বেরিয়ে এককভাবে ২৬৮ আসনে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছে। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান।
তিনি বলেন, ইসলামের মৌলিক নীতির প্রশ্নে জামায়াতে ইসলামীর অস্পষ্ট অবস্থান এবং রাজনৈতিক আস্থাহীনতার কারণে তাদের সঙ্গে নির্বাচনি সমঝোতায় থাকছে না ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। সেই কারণে যে ২৬৮ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থিতা টিকেছে, সেই ২৬৮ আসনে ইসলামী আন্দোলন এককভাবে নির্বাচন করবে। বাকি ৩২ আসনেও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আদর্শিক বিবেচনায় কোনো না কোনো প্রার্থীকে সমর্থন জানাবে।
গাজী আতাউর রহমান বলেন, জামায়াত শরিয়াহ আইনে দেশ পরিচালনা করবে কিনা এমন প্রশ্নে দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, তারা ক্ষমতায় গেলে প্রচলিত আইনে দেশ শাসন করবেন। অথচ দেশের সব মানুষ একমত যে, দেশের বর্তমান দুর্দশার কারণ বিদ্যমান আইন। সেই বিদ্যমান আইন পরিবর্তন করার জন্যই আমাদের রাজনীতি। এখন যদি সমঝোতার প্রধান দলই বিদ্যমান আইনে দেশ পরিচালনার প্রতিজ্ঞা করে, তাহলে আমরা শঙ্কিত হই। আমরা নীতির রাজনীতি করি। আমাদের রাজনীতির সেই মৌলিক প্রশ্নে যখন ভিন্নমত তৈরি হয়, তখন তাদের সঙ্গে সমঝোতায় থাকার কোনো সুযোগ নেই। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুখপাত্র বলেন, জামায়াতের আমির বিএনপি চেয়ারম্যানের (তারেক রহমান) সঙ্গে বৈঠক করে তাদের সঙ্গে জাতীয় সরকার গঠন করার কথা বলেছেন, প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার তৈরি করা ঐক্যের পাটাতনের ওপরে কাজ করার কথা বলেছেন। তার এই বক্তব্য আমাদের মধ্যে সংশয় তৈরি করেছে, পাতানো নির্বাচনের আশঙ্কা তৈরি করেছে। এমন বাস্তবতায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনি সমঝোতায় থাকা সমীচীন মনে করেনি। গাজী আতাউর রহমান বলেন, আমরা ইসলামের পক্ষে একটি সমঝোতার নীতি নিয়েছিলাম। কিন্তু জামায়াতের প্রাধান্যে যে সমঝোতা গড়ে উঠেছে তা আর ইসলামের পক্ষের সমঝোতা থাকছে না, একই সঙ্গে এর রাজনৈতিক লক্ষ্যও পরিষ্কার নয়। সেজন্যই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এই সমঝোতায় থাকছে না।
জুলাই গণ অভ্যুত্থানের পর জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলনসহ কিছু দল মিলে একটি ঐক্য গঠন করে। তারা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন আন্দোলন-কর্মসূচি পালন করে আসছিল। এই ঐক্য একসঙ্গে নির্বাচন করারও ঘোষণা দেয়। তবে তফসিল ঘোষণার পর শেষ মুহূর্তে ওই ঐক্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি যোগ দেয়। এরপর ইসলামী আন্দোলন জোটে কম গুরুত্ব পাওয়ার অভিযোগ করে আসছিল। এমনকি তারা দাবি করা আসন বরাদ্দ না পাওয়ারও অভিযোগ করে আসছিল জোটের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে নানা আলোচনা ও দর কষাকষির মধ্যে গত বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন করে আসন বণ্টনের ঘোষণা দেয় ‘১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য’। সেই সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কোনো প্রতিনিধি ছিলেন না। সংবাদ সম্মেলনে ওই ঐক্যের পক্ষে ২৫৩ আসনে প্রার্থিতা ঘোষণা করা হয়। বাকি ৪৭টি আসন ইসলামী আন্দোলনের জন্য রাখা হয় বলে জানা যায়।