দুই সপ্তাহ ধরে বিক্ষোভে উত্তাল থাকা ইরানে এবার ৮০০ বিক্ষোভকারীর ফাঁসি কার্যকর স্থগিত করা হয়েছে। অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দেশটিতে হামলার পরিকল্পনাও স্থগিত রাখার কথা জানিয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ বলেছেন, ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার ক্ষেত্রে সামরিক পদক্ষেপ নয়, বরং কূটনৈতিক সমাধানকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। সূত্র রয়টার্স, বিবিসি, সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট, টাইমস অব ইসরায়েল
যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বুধবার (১৪ জানুয়ারি) হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট জানান, ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নিয়ে গ্রেপ্তার ৮০০ বিক্ষোভকারীর ফাঁসি স্থগিত করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। লিভিট বলেন, আমাদের প্রেসিডেন্টের কাছে তথ্য এসেছে যে, ইরান ৮০০ জন বিক্ষোভকারীর ফাঁসির দণ্ড কার্যকর করা স্থগিত করেছে। এই বিক্ষোভকারীদের বুধবারই ফাঁসি হওয়ার কথা ছিল। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের মিত্রদের চাপের জেরে ইরানে ক্ষমতাসীন ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকার এ পদক্ষেপ নিয়েছে।
খবরে অবশ্য এও বলা হয়েছে, ইরান ফাঁসির বিষয়টি অস্বীকার করেছে। একই সঙ্গে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘চলমান বিক্ষোভের জেরে কাউকে ফাঁসি দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই। এ ধরনের শাস্তি প্রদানের বিষয়টি বর্তমানে আমাদের ভাবনার বাইরে।’ এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ বলেছেন, ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার ক্ষেত্রে সামরিক পদক্ষেপ নয়, বরং কূটনৈতিক সমাধানকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে প্রাণঘাতী দমনপীড়নের জেরে এই উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ফ্লোরিডায় ইসরায়েলি-আমেরিকান কাউন্সিলের এক সম্মেলনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে উইটকফকে জিজ্ঞেস করা হয়, যুক্তরাষ্ট্র কি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা চালাতে পারে? উত্তরে তিনি বলেন, তিনি কূটনৈতিক সমাধানের আশাই করছেন। উইটকফ জানান, ইরানের সঙ্গে কোনো কূটনৈতিক চুক্তি হলে চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে। প্রথমত, পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ। দ্বিতীয়ত, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমানো। তৃতীয়ত, ইরানের হাতে থাকা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের পরিমাণ, যা প্রায় ২ হাজার কেজি এবং যার সমৃদ্ধকরণের মাত্রা ৩.৬৭ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত। চতুর্থত, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম। তিনি বলেন, ইরানের অর্থনৈতিক অবস্থা অত্যন্ত দুর্বল হওয়ায় এসব বিষয়ে সমঝোতায় আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তার ভাষায়, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক কাঠামোয় ফিরতে চাইলে আলোচনার মাধ্যমেই এই সমস্যাগুলোর সমাধান সম্ভব। অন্য পথটি আরও খারাপ পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে পারে।
খবরে বলা হয়েছে, নতুন এই বাস্তবতায় যুক্তরাষ্ট্র তাৎক্ষণিক হামলা নাও চালাতে পারে। যদিও একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর উদ্যোগও দেখা গেছে।
হামলা ঠেকিয়েছে উপসাগরীয় তিন দেশ : বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সৌদি আরবের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা দাবি করেছেন, ইরানে বিক্ষোভকারীদের ওপর দমনপীড়নের জেরে মার্কিন হামলা ঠেকাতে শেষ মুহূর্তে বড় ধরনের কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়েছে সৌদি আরব, কাতার ও ওমান। এই তিন উপসাগরীয় দেশের জোরালো অনুরোধ ও মধ্যস্থতায় শেষ পর্যন্ত তেহরানে হামলার পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই সৌদি কর্মকর্তা জানান, পুরো অঞ্চলে একটি ‘ভয়াবহ বিপর্যয়’ এড়াতে তারা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে শান্ত করার চেষ্টা চালিয়েছেন। তিনি বলেন, সৌদি আরব, কাতার ও ওমান দীর্ঘ সময় ধরে শেষ মুহূর্তের এক জোরালো কূটনৈতিক প্রচেষ্টার নেতৃত্ব দিয়েছে। তিনি বলেন, আমরা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছি, যেন তিনি ইরানকে সদিচ্ছা দেখানোর একটি সুযোগ দেন। এই কর্মকর্তা আরও যোগ করেন, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনে এখনো সংলাপ অব্যাহত রয়েছে।