নির্বাচন কমিশনের কিছু কর্মকর্তা একটি দলের হয়ে কাজ করছেন বলে অভিযোগ তুলেছে বিএনপি। ওই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে (সিইসি) জানিয়ে এসেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র নিয়ে আপিলের শেষ দিন গতকাল বিকালে ঢাকার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে যান বিএনপি মহাসচিব। তাঁর সঙ্গে ছিলেন দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান। সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে ঘণ্টাখানেক বৈঠক করার পর তাঁরা বেরিয়ে আসেন।
এরপর মির্জা ফখরুল সাংবাদিকদের বলেন, ইসি অনেক ক্ষেত্রেই পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে বলে তাঁরা মনে করেন। তাঁরা সে বিষয়গুলো সিইসিকে জানিয়েছেন। তাঁরা চাইছেন, ইসি যেন নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখে।
মাঠপর্যায়ে নির্বাচন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে মির্জা ফখরুল বলেন, বিভিন্ন নির্বাচনি এলাকায় রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার, পুলিশ সুপার, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা একটি দলের পক্ষে কিছু কিছু ন্যক্কারজনকভাবে কাজ করছেন বলে আমরা অভিযোগ পেয়েছি। সে বিষয়গুলো আমরা তাদের গোচরীভূত করেছি। সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের স্বার্থে তদন্তপূর্বক তাদের প্রত্যাহার করার জন্য আমরা অনুরোধ জানিয়েছি। বিএনপি মহাসচিব বলেন, নির্বাচন কমিশনের কতিপয় সিনিয়র কর্মকর্তাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে আমরা অভিযোগ পেয়েছি যে তাঁরা কোনো একটি নির্দিষ্ট দলের পক্ষে কাজ করছেন। আমরা সে বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য তাদের অনুরোধ করেছি।
যাদের বিরুদ্ধে নালিশ জানিয়েছেন, তারা কোন দলের পক্ষে কাজ করছেন, তা খোলাসা করেননি বিএনপি মহাসচিব। তাঁর অভিযোগের বিষয়ে ইসির কোনো প্রতিক্রিয়ায়ও তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। জামায়াতে ইসলামীর নাম ধরে অভিযোগ তুলে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘জামায়াতের নির্বাচনি কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে এনআইডির কপি, বিকাশ নম্বর, মুঠোফোন নম্বর সংগ্রহ করছে, যা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ভঙ্গ, ক্রিমিনাল অফেন্স, এ বিষয়ে আমরা ইতিপূর্বে আপত্তি জানিয়েছি। এ বিষয়ে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন বলে আমরা মনে করেছি এবং সে আহ্বান (ইসিকে) জানিয়েছি।’ ঢাকা মহানগরী এলাকার বিভিন্ন নির্বাচনি এলাকায় একটি রাজনৈতিক দল তাদের প্রার্থীদের বিজয়ী করার অনৈতিক কূটকৌশল হিসেবে দেশের ভিন্ন ভিন্ন এলাকা থেকে ভোটারদের ব্যাপকহারে এলাকা পরিবর্তন করাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। নির্বাচন ভবনে সিইসির সঙ্গে বৈঠকে বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, ইসির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব মোহাম্মদ জকরিয়া, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস কাজল ছিলেন।
আপিলের সিদ্ধান্তে পক্ষপাতিত্ব নেই : প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, নির্বাচন কমিশন আপিল শুনানিতে কোনো পক্ষপাতিত্ব করেনি, সবার অংশগ্রহণে সুন্দর নির্বাচন চান তিনি।
গতকাল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে আপিল শুনানি শেষে সিইসি বলেন, ‘আপনারা হয়তো আমাদের সমালোচনা করতে পারেন। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের এক শতাংশ ভোটারের সমর্থনসূচক স্বাক্ষরের বিষয়টি আমরা কীভাবে ছেড়ে দিয়েছি, আপনারা দেখেছেন। বিকজ উই ওয়ান্ট দি ইলেকশন টু বি পার্টিসিপেটেড। আমরা চাই সবার অংশগ্রহণে একটা সুন্দর নির্বাচন হোক।”