সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবনে আরও দুই নারীকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ নিয়ে গত দুই মাস ২৬ দিনে একই স্থান থেকে পাঁচজনের লাশ উদ্ধার করায় ভবনটি সিরিয়াল কিলিংয়ের হটস্পটে পরিণত হয়েছে বলে মনে করেন স্থানীয়রা। গতকাল দুপুরের সাভার থানা রোডের সাভার সরকারি কলেজের সামনে অবস্থিত পরিত্যক্ত পৌর ভবনের দোতলায় থাকা টয়লেটের ভিতর থেকে লাশ দুটি উদ্ধার করা হয়। হত্যার পর লাশগুলো আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ায় প্রাথমিকভাবে দুটির পরিচয় পাওয়া যায়নি। তবে নিহতের মধ্যে এক নারী ও এক তরুণী রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এদের মধ্যে নিহত তরুণীর নাম সোনিয়া বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা। সে ভবঘুরে হিসেবে এই এলাকায় ঘুওে বেড়াত। এসব নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এই নিয়ে ছয়টি হত্যার অভিযোগে সিরিয়াল কিলারের দ্রুত ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন সাভারবাসী। পরে অভিযুক্ত সিরিয়াল কিলার সম্রাটকে গতকাল সন্ধ্যায় আটকের পর ছয়জনকে হত্যার রোমহর্ষক বর্ণনা দেয়। সাভারের এই ঘটনাটিকে চাঁদপুরের সিরিয়াল কিলার রসুখাঁর সঙ্গে মিল রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাভার কলেজের এক শিক্ষার্থী প্রসাবের জন্য কমিউনিটি সেন্টারের ভিতরে প্রবেশ করে। এ সময় তিনি ভিতরে পোড়া লাশ দেখতে পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’ নম্বরে ফোন দেন। পরে সাভার মডেল থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ দুটি উদ্ধার করে। এরপর লাশ শনাক্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), র্যাব ও পুলিশের পাশাপাশি সিআইডির সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আলামত সংগ্রহ করেছে। স্থানীয়রা জানান, পৌর কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবনে গত ৩ মাসে পাঁচটি লাশ উদ্ধারের ঘটনায় আমরা আতঙ্কে আছি। সিরিয়াল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এটি যেন হত্যাকাণ্ডের কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সন্ধ্যা নামলেই ভবনটি মাদকসেবী, ছিনতাইকারী ও অপরাধী চক্রের নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ দেড় যুগ ধওে জেলা পরিষদ ও পৌরসভার মালিকানা জটিলতার ভবনটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। কিছুদিন আগে নিরাপত্তার জন্য ভবনের আশপাশে কয়েকটি সিসিটিভি ক্যামেরা ও এলইডি লাইট স্থাপন করা হলেও কয়েকদিন ধরে সেই লাইটগুলো জ¦লছে না। সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান আলী বলেন, নিহতদের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে সম্রাট নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সম্রাট হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। এ ঘটনায় সাভার মডেল থানায় মামলা দায়েরের পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডে আরও যারা জড়িত রয়েছে তাদেও গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান রয়েছে। এ ছাড়াও আগে ঘটে যাওয়া হত্যার ঘটনায় সম্রাটের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না সে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। প্রসঙ্গত, গত ২৯ আগস্ট ভবনের ভিতর থেকে হাত পা বাঁধা অবস্থায় এক যুবকের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘ চার মাস পেরিয়ে গেলেও তার পরিচয় শনাক্ত কিংবা হত্যার রহস্য উদঘাটন করা যায়নি। এরপর ১২ অক্টোবর একই ভবনের দ্বিতীয় তলা থেকে এক নারীর গলা কাটা অর্ধনগ্ন লাশ উদ্ধার হয়। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে কি না সে বিষয়ে তদন্ত চললেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। গত ২০ ডিসেম্বর ভবনের দ্বিতীয় তলার টয়লেট থেকে উদ্ধার হয় আগুনে পোড়া ও অর্ধগলিত এক যুবকের লাশ। সর্বশেষ রবিবার দুপুরে দুই নারীর লাশ উদ্ধার করা হলো।