গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় যথাযথ মর্যাদায় রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জন্মদিন উদ্যাপন করা হয়েছে। গতকাল ১৯ জানুয়ারি ছিল তাঁর ৯১তম জন্মদিন। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে মরহুম রাষ্ট্রনায়কের সমাধিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ, তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করে ফাতিহা পাঠ, দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। শ্রদ্ধা নিবেদনে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের হাজার হাজার নেতা-কর্মী অংশ নেন। এ সময় জিয়ার মাজার প্রাঙ্গণে সাধারণ মানুষের ঢল নামে। প্রতিষ্ঠাতার জন্মদিন উপলক্ষে বিএনপি দুই দিনের কর্মসূচি নেয়। গতকাল কর্মসূচির প্রথম দিনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশের দলীয় কার্যালয়ে দলের পতাকা উত্তোলন করা হয়। স্থানীয় পর্যায়ে দোয়া মাহফিল, আলোচনা সভা, চিকিৎসা ক্যাম্প, রক্তদানসহ নানান কর্মসূচির আয়োজন করে জেলা ও উপজেলা বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনগুলো। এসব অনুষ্ঠানে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক ও বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের বিভিন্ন ঘটনা তুলে ধরা হয়। রাজধানীতে দিনটির শুরু হয় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলীয় পতাকা উত্তোলনের মাধমে। শহীদ জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা জানানোর পর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে জিয়াউর রহমানের নাম সব সময় স্মরণীয়। তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। সংবাদপত্র ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছিলেন। ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ অভিহিত হওয়া দেশকে একটি সমৃদ্ধির অর্থনীতিতে পরিণত করেছিলেন। এজন্য আমরা তাঁকে স্মরণ করি এবং তাঁর দেখানো পথে সামনের দিকে এগিয়ে যাই। আজ আমরা নতুন করে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্য এখানে শপথ নিয়েছি। এর মাধ্যমে বিএনপি জিয়াউর রহমানের আদর্শ বাংলাদেশে বাস্তবায়ন করবে ইনশাআল্লাহ।’ জিয়ার মাজারে বিএনপি মহাসচিবের নেতৃত্বে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সালাহউদ্দিন আহমদ, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, স্বেচ্ছাসেবক দলের ফখরুল ইসলাম রবিনসহ দলের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। দিবসটি উপলক্ষে রাজধানীতে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর পক্ষ থেকে চিকিৎসা ক্যাম্প ও রক্তদান কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) পক্ষ থেকে পালন করা হয় নানা ধরনের কর্মসূচি। এ ছাড়াও গতকাল বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে দেশের সব জেলা, মহানগর, উপজেলা ও থানা পর্যায়ের ইউনিটগুলোতে যার যার মতো করে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে নানা রকমের পোস্টার ও ব্যানার টাঙানো হয় এবং বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হয়।
আজ রাজধানীতে আলোচনা সভা : জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কেন্দ্রীয় বিএনপির দুই দিনব্যাপী কর্মসূচির দ্বিতীয় ও শেষ দিনে আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টায় রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। এতে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান দর্শকের সারিতে উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।