ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১০-দলীয় জোটের আসন চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে জামায়াতে ইসলামী ২০৬ আসনে নির্বাচন করবে। বাকি ৯৪টি আসনের মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৩১টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২৫টি, খেলাফত মজিলস ১২টি, এলডিপি ৭, এবি পার্টি ৩, বিডিপি ও নেজামে ইসলাম পার্টি ২টি করে আসনে নির্বাচন করবে। বাকি ১২টি আসন উন্মুক্ত থাকবে বলে জোটের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে।
এ নির্বাচনি মোর্চার অন্য দুটি দল বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) কোনো প্রার্থী দেবে না। তবে দল দুটি নির্বাচনি ঐক্যে শরিক থাকছে। জানতে চাইলে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ১০-দলীয় জোটের আসন সমঝোতা প্রায় চূড়ান্ত। মঙ্গলবার (আজ) সবার আসন ঘোষণা করা হবে। তবে আমরা (জামায়াতে ইসলামী) দুই শতাধিক আসনে নির্বাচন করব।
এ বিষয়ে খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন আহমদ বলেন, আসন সমঝোতা প্রায় চূড়ান্ত। খেলাফত মজলিসের আগে ৯টি ছিল এখন তিনটি বেড়ে ১২টিতে দাঁড়িয়েছে। আরও ৫টি আসনে উন্মুক্ত নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রচার সম্পাদক ও মিডিয়া সমন্বয়ক হাসান জুনায়েদ বলেন, আসন সমঝোতায় আমাদের আসন বেড়েছে। মঙ্গলবার দুপুরের মধ্যে পরিষ্কারভাবে জানানো হবে। তবে আগে ইসলামী আন্দোলনের কাছে থাকা ১২টি আসনের মধ্যে অধিকাংশ আসনে আমাদের প্রার্থী থাকছে।
এবি পার্টির সহকারী প্রচার সম্পাদক আজাদুল ইসলাম আজাদ বলেন, আসন সমঝোতা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে আমাদের আসন না বাড়লেও একটি আসনে আমাদের প্রার্থী উন্মুক্ত থাকবে। এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক মাহবুব আলম বলেন, আসন সমঝোতা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। আমাদের মধ্যে আলোচনা চলমান। তবে আসন বাড়তে পারে।
এর আগে ১৬ জানুয়ারি সংবাদ সম্মেলন করে জামায়াত জোট ২৫৩ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে। ওই দিন সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আসেনি। সেখানে ৪৭ আসন ফাঁকা রেখে ইসলামী আন্দোলনকে জোট বা নির্বাচনি এই মোর্চায় রাখার আশা রেখে বক্তব্য দিয়েছিলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। এর পরদিন অর্থাৎ ১৭ জানুয়ারি ইসলামী আন্দোলন একক নির্বাচন করার ঘোষণা দেয়। দলটি ২৬৮ আসনে একক নির্বাচন করবে। একই সঙ্গে বাকি ৩২ আসনে সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকে সমর্থন দেবে বলেও জানিয়েছিলেন দলটির নেতারা।