বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘নির্বাচনের আর মাত্র ২২ দিন বাকি। অথচ এখন কেউ কেউ বলছেন নির্বাচন হবে না, বাধা দেবেন, করতে দেবেন না। খোঁজ নিয়ে দেখলে বোঝা যাবে, তাদের তিনটি ভোটও নেই। অথচ তারাই বড় গলায় বলছেন নির্বাচন হতে দেবেন না!’
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯১তম জন্মদিন উপলক্ষে গতকাল রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে কেন্দ্রীয় বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।
আগামী জাতীয় নির্বাচনকে দেশের ভবিষ্যতের জন্য একটি ‘কঠিন পরীক্ষা’ উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এ নির্বাচনের মধ্য দিয়েই নির্ধারিত হবে বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্র্যাসির (উদার গণতন্ত্র) পথে থাকবে, নাকি উগ্রপন্থি ও রাষ্ট্রবিরোধী শক্তির দখলে চলে যাবে।’
সভায় বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল প্রমুখ বক্তব্য দেন।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা নির্বাচনের জন্য মুখিয়ে আছি। আমরা নির্বাচন চাই। জনগণের কাছে যাব, তারা যদি আমাদের চায়, আমরা থাকব। আর যদি না চায়, তাহলে বাদ। তখন আমরা বিরোধী দলে থাকব। আগেভাগে এত হুমকিধমকির কী দরকার?’
বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, ‘সবচেয়ে বেশি দুষ্টামি করছে তারা, যারা একসময় বাংলাদেশকেই স্বীকার করেনি। আমাদের কত মা-বোনকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে তুলে দিয়েছে। এ ইতিহাস আমরা ভুলিনি। অনেক ত্যাগের বিনিময়ে দেশ আজ একটি পর্যায়ে এসেছে। সামনে নির্বাচন, যেখানে মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দিয়ে একটি গণতান্ত্রিক দেশ গড়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।’ সংস্কার প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সরকারের প্রস্তাবের দুই বছর আগেই বিএনপি ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছে। এখন সরকার এ নিয়ে ব্যাপক প্রচার চালাচ্ছে। সংস্কার আসলে বিএনপিরই সন্তান।’ তিনি বলেন, ‘নির্বাচন ঘিরে দেশে পরিকল্পিত অপপ্রচার চলছে। এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে চালানো হচ্ছে।’ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে বিএনপি ‘ল্যান্ডস্লাইড ভিক্টরি’ বা ভূমিধস বিজয় অর্জন করবে-এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘জনগণই শেষ পর্যন্ত তাদের রায় দেবে।’ গণতন্ত্র ও রাষ্ট্র সংস্কারের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা আশা করছি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আমরা একটি গণতান্ত্রিক অবস্থায় পৌঁছাব। যেখানে আমাদের সমস্যাগুলো সমাধান করে আমরা নতুন একটি বাংলাদেশ রাষ্ট্র তৈরি করব।’