প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, আমরা যখন পোস্টাল ব্যালটের উদ্যোগ নিই, তখন জানতাম এর মধ্যে বহু ঝামেলা ও চ্যালেঞ্জ আসবে। আমরা একটা অজানা এরিয়ায় ঢুকে পড়েছিলাম।
কিন্তু আমাদের শপথ ছিল এ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করার। গতকাল রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের অডিটরিয়ামে রাজনৈতিক দলগুলোকে পোস্টাল ভোটিং সিস্টেম নিয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। এদিকে ইসি সচিব জানিয়েছেন, ২১ জানুয়ারি (আজ প্রতীক বরাদ্দের পর) থেকে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রবাসীরা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে পারবেন। ব্রিফিংয়ে বিভিন্ন আসনের প্রার্থীরা নানা অভিযোগ তুলে ধরেন। অনেকেই বলেন, পোস্টাল ব্যালটের প্রতীক নিয়ে ইসি বৈষম্য করছে। সুইডিশ রাষ্ট্রদূতকে সিইসি : নির্বাচন সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অপতথ্য রোধসহ সার্বিক প্রস্তুতি জেনেছেন ঢাকায় নিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস। গতকাল বিকালে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। এ সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কোনো ধরনের উদ্বেগ নেই বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। বৈঠক শেষে ইসি সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘ঢাকার সুইডিশ রাষ্ট্রদূত এবং ফার্স্ট সেক্রেটারি (হিউম্যান রাইটস, ডেমোক্রেসি অ্যান্ড জেন্ডার ইকুইটি) আমাদের নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি জানার এবং আমাদের প্রস্তুতি, পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে এসেছিলেন।
আমরা নির্বাচন কমিশনের সার্বিক প্রস্তুতি, দল নিবন্ধন, আপিল পদ্ধতি কীভাবে হ্যান্ডেল করা সম্পর্কে তাদের জানিয়েছি।’ তিনি জানান, নির্বাচন কমিশন সোশ্যাল মিডিয়ায় মিস ইনফরমেশন এবং ডিস ইনফরমেশন কীভাবে হ্যান্ডেল করা হচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ে কোনো কনসার্ন আছে কিনা জানতে চেয়েছেন। রাষ্ট্রদূতসহ প্রতিনিধিরা ইসির অগ্রগতি জেনে সন্তোষ প্রকাশ করে বলে জানান ইসি সচিব। নির্বাচনে তাদের কোনো সহযোগিতা লাগবে কিনা এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করেছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচনে আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা সম্পর্কে তাদের জানিয়েছি?। এখনো পর্যন্ত আমাদের কোনো কনসার্ন নেই; আমাদের ডেপ্লয়মেন্ট প্ল্যান জানিয়েছি।
তিনি জানান, এআইর অপব্যবহার রোধ ও অপতথ্য মোকাবিলায় ইসির একটি সমন্বয় সেল কাজ করছে। ২৫ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে নির্বাচন সম্পর্কে একটি প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হবে। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের পর সারা দেশ থেকে এখানে তথ্য আসবে সেগুলো কম্পাইল করতে সময় লাগবে। এরপর একীভূত তথ্য জানা যাবে।
এ ছাড়া পোস্টাল ভোটের মিসিং নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেন অনেক প্রার্থী। এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, বিশ্বের ১২২টি দেশে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা সফল হলে বিশ্ব ইতিহাসে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল হয়ে থাকবে। এর আগে দেশে এ ধরনের সাহসী ও ঝুঁকিপূর্ণ উদ্যোগ কেউ নেয়নি। অনেক উন্নত দেশও যা পারেনি, বাংলাদেশ তা করে দেখাচ্ছে।
তিনি বলেন, ১২২টি দেশের ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতি, আইন এবং পোস্টাল সিস্টেমকে এক সুতায় গাঁথা ছিল বিশাল চ্যালেঞ্জ। আমাদের টিম নিরলসভাবে সে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে যাচ্ছে।
সিইসি বলেন, যে কোনো একটা নতুন উদ্যোগে কিছু ভুলত্রুটি হতে পারে, মিস আন্ডারস্ট্যান্ডিং হতে পারে। আমি ভুল হয়েছে বলব না। অনেক সময় আন্ডারস্ট্যান্ডিংটা ক্লিয়ার হয়ে গেলে, কনফিউশনটা ক্লিয়ার হয়ে গেলে দেখবেন যে এখানে আসলে অন্য কোনো মোটিভ কাজ করেনি।
তিনি আরও বলেন, বিদেশি কূটনীতিকরা যখন আমার সঙ্গে দেখা করতে আসেন, তারা বলেন যদি বাংলাদেশ এ পোস্টাল ব্যালট সফল করতে পারে, তবে তা বিশ্ব ইতিহাসে স্থান পাবে। আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোও এভাবে সফল হতে পারেনি। প্রথম বছর হিসেবে আমরা এখন পর্যন্ত যা করেছি, তা অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক ভালো অবস্থানে আছে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, শুধু প্রবাসী নয়, যারা কর্মস্থলের কারণে নিজ এলাকায় থাকতে পারেন না বা যারা কারাগারে আছেন, তাদের জন্যও ভোটাধিকার প্রয়োগের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর আগে কেউ এ ঝুঁকি নেওয়ার সাহস দেখায়নি। আমরা অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে এ কাজ শুরু করেছি।
এ সময় নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ, নির্বাচন কমিশনার তাহমিদা আহমদ, আনোয়ারুল ইসলাম সরকার ও আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এবং ইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ইসি সচিব বলেছেন, ২১ জানুয়ারি (আজ প্রতীক বরাদ্দের পর) থেকে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রবাসীরা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেবেন। প্রবাসী যারা দেশে অবস্থান করছেন তারা দেশে ভোট দিতে পারবেন না। ভোট দেওয়ার জন্য ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত তারা সময় পাবেন।