ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্ধারিত সময়ের আগে ভোটের প্রচার না করতে জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-সহ চারটি রাজনৈতিক দলকে নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইতোমধ্যে এসব দলের প্রধানদের কাছে চিঠি দিয়েছে সংস্থাটি। গতকাল নির্বাচন কমিশন সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। বিএনপির করা অভিযোগপত্র পেয়ে ইসি এ নির্দেশনা দিয়েছে।
ইসির চিঠিতে বলা হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর একটি অভিযোগ করা হয় যে ২১ জানুয়ারির আগে নির্বাচনি প্রচার নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস নির্বাচনি প্রচার অব্যাহত রেখেছে, যা ‘সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫’-এর বিধি ১৮-এর পরিপন্থি। এতে আরও বলা হয়, নির্বাচন কমিশন উল্লেখিত অভিযোগ পর্যালোচনা করে নির্ধারিত সময়ের আগে নির্বাচনি প্রচার থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রধান ও দলের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সতর্কতা অবলম্বনের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানিয়েছে। বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান স্বাক্ষরিত অভিযোগে বলা হয়েছে, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, ইসলামী শাসনতান্ত্রিক আন্দোলন এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস তাদের বিভিন্ন নির্বাচনি আসনে নির্বাচনি প্রচার অব্যাহত রেখেছে। তফসিল অনুযায়ী ২১ জানুয়ারির আগে এ ধরনের নির্বাচনি প্রচারণা ‘সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫’-এর বিধি ১৮ এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ৪৪খ অনুচ্ছেদের (৩ক) (ছ)বি দফার বিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
এদিকে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাতের পর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, জামায়াতের কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের এনআইডি কপি, বিকাশ নম্বর ও মোবাইল ফোন নম্বর সংগ্রহ করছে, যা ব্যক্তিগত গোপনীয়তার চরম লঙ্ঘন এবং একটি ‘ক্রিমিনাল অফেন্স’। এ বিষয়ে ইসিকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।