ইরানে সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী বিক্ষোভে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারি দিয়েছিল খামেনি প্রশাসন। ট্রাম্পের হুমকি সত্ত্বেও আটক ব্যক্তিদের শাস্তি দেওয়ার সে সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে ইরান। বিক্ষোভকারীদের বিচারের কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। বিচারিক কার্যক্রমের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছে তেহরান। এ পরিস্থিতিতে ইরানজুড়ে এখনো কার্যত ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট বহাল রয়েছে। ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম-হোসেইন মোহসেনি-এজেই সোমবার সমাজমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে বলেন, ‘সাম্প্রতিক ঘটনাবলি নিয়ে বিচার বিভাগের মূল কাজ এখনই শুরু হয়েছে। যার শাস্তি প্রাপ্য তাকে যদি অযৌক্তিকভাবে ছাড় দেওয়া হয়, তবে তা ন্যায়বিচারের পরিপন্থি হবে।’
এদিকে রবিবার অল্প সময়ের জন্য সীমিত আকারে ইন্টারনেট সংযোগ চালু হলেও ইরানের অধিকাংশ নাগরিক এখনো ইন্টারনেট সেবা থেকে বিচ্ছিন্ন রয়েছে। একই দিনে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান এবং সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফের সঙ্গে বৈঠক করেন বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম-হোসেইন। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত যৌথ বিবৃতিতে তাঁরা জানিয়েছেন, খুনি ও সন্ত্রাসী ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে যারা বিদেশি শক্তির প্ররোচনায় বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন, তারা চাইলে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ‘ইসলামি সহানুভূতি’ পেতে পারেন। গতকাল যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি জানায়, ইরানে চলা বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে অন্তত ৪ হাজার ২৯ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন মানবাধিকারকর্মীরা। এ দমনপীড়নে ২৬ হাজারের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে। সংস্থাটি আরও জানায়, নিহতের মধ্যে ৩ হাজার ৭৮৬ জন বিক্ষোভকারী, ১৮০ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য, ২৮টি শিশু এবং ৩৫ জন এমন ব্যক্তি যারা বিক্ষোভে অংশই নেয়নি। মানবাধিকারকর্মীদের আশঙ্কা, প্রকৃত মৃতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। ইরানে ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় স্বাধীনভাবে এ মৃতের সংখ্যা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি নেতানিয়াহুর : ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সতর্ক করে বলেছেন, ‘ইরান যদি ইসরায়েলে হামলা চালায়, তবে তেহরানকে এমন এক শক্তির মুখে পড়তে হবে, যা তারা আগে কখনো দেখেনি।’ গতকাল ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়, আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটে দেওয়া বক্তব্যে নেতানিয়াহু বলেন, ‘সাম্প্রতিক বিক্ষোভ ও রক্তক্ষয়ী দমনপীড়নের পর ইরানকে তেল আবিব খুব ঘনিষ্ঠভাবে নজরে রাখছে।’ চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া বলছে, নেতানিয়াহুর কাছ থেকে এমন সময় এ বক্তব্য এলো যখন ইরানের রক্তক্ষয়ী দমনপীড়ন নিয়ে তেহরানের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যের দিকে পারমাণবিক শক্তিচালিত যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। সূত্র : এপি ও সিনহুয়া