ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট প্রার্থী সংখ্যা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়ালেও নারী প্রার্থীর সংখ্যা কমেছে। এবারের নির্বাচনে নারী ও তৃতীয় লিঙ্গ মিলিয়ে মোট ৭৭ জন প্রার্থী ভোটের মাঠে রয়েছেন, যা মোট ১ হাজার ৯৮১ জন প্রার্থীর মাত্র ৩ দশমিক ৮৯ শতাংশ। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারী প্রার্থী ছিলেন ৯৪ জন। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রকাশিত প্রার্থী তালিকা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ভোটের লড়াইয়ে থাকা ৫১টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ২০টি দলে নারী প্রার্থী রয়েছেন। মোট ৭৭ জন নারী প্রার্থীর মধ্যে ১৫ জন স্বতন্ত্র এবং একজন তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থী রয়েছেন। বাকিরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থী।
দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি নারী প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-মার্কসবাদী। উভয় দল থেকেই ১০ জন করে নারী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
তবে দলের মোট প্রার্থীর তুলনায় নারীর অংশগ্রহণ সবচেয়ে বেশি সমাজতান্ত্রিক দল-মার্কসবাদীতে। দলটির মোট প্রার্থীর ৩৪ দশমিক ৪৮ শতাংশই নারী।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী রাজনৈতিক দলগুলোর সর্বস্তরের কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী সদস্য অন্তর্ভুক্ত করার বিধান রয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচনে নারী প্রার্থীর সংখ্যা বাড়ানোর দাবিও দীর্ঘদিনের। কিন্তু এবারের চিত্র আরও হতাশাজনক বলে মনে করছেন নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা। এবারের নির্বাচনে দলীয় ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে মোট প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ১ হাজার ৯৮১ জন। এর মধ্যে নারী প্রার্থী রয়েছেন ৭৭ জন। ৫ শতাংশ নারী প্রার্থী দেওয়ার অঙ্গীকার করে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দীর্ঘদিন পর নির্বাচনে অংশ নিলেও দলটির কোনো নারী প্রার্থী নেই। একইভাবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ অন্তত ৩০টি দলের কোনো নারী প্রার্থী নেই। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে নারীর উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে বেশি। বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক দলে নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে শুধু অঙ্গীকার নয়, বাস্তব ও কার্যকর উদ্যোগ জরুরি। আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত চলবে নির্বাচনি প্রচার। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।