বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ‘১০-দলীয় নির্বাচনি ঐক্যে’ শরিক দল হিসেবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। তরুণদের দল হিসেবে প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩২ আসনে শাপলা কলি নিয়ে ভোটের মাঠে থাকবে গণ অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেওয়া এ দলটি। প্রত্যাশা অনুযায়ী, প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা আসনগুলোর মধ্যে অন্তত ১৪ আসনে ভালো করবে বলে দলের শীর্ষ নেতারা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানিয়েছেন। দলটির ভিতর-বাইরের নিবিড় আলোচনা ও জরিপ থেকে জানা জায়, নির্বাচনের মাঠে দলটির জন্য যতটা চ্যলেঞ্জ রয়েছে : ঠিক ততটা সম্ভাবনাও রয়েছে। তরুণদের দল হিসেবে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে সব থেকে বেশি সিট পাবে বলে এনসিপির জরিপে উঠে এসেছে। নেতাদের প্রত্যাশা, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দলীয়ভাবে তৃতীয় অবস্থানে থাকবে। কোন আসনে কারা এগিয়ে, কাদের সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি, তা নিয়ে এনসিপির নেতারা অন্তত ১৪ জনকে সংসদে জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে এগিয়ে রাখছেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ঢাকা-১১ আসনের মনোনীত প্রার্থী এম কাইয়ুমের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। রংপুর-৪ আসনে সদস্যসচিব আখতার হোসেন, কুমিল্লা-৪ আসনে দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, নোয়াখালী-৬ আসনে দলের সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে আবদুল্লাহ আল আমিন, কুড়িগ্রাম-২ আসনে আতিকুর রহমান মুজাহিদ (আতিক মুজাহিদ), দিনাজপুর-৫ আসনে ডা. আবদুল আহাদ। এসব আসনে জয়ের প্রত্যাশা করছে এনসিপি সংশ্লিষ্টরা। এরই মধ্যে কুমিল্লা-৪ আসনে ঋণখেলাপির অভিযোগে মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিএনপি প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর রিট সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন হাই কোর্ট।
এ ছাড়া নাটোর-৩ আসনে এস এম জার্জিস কাদির, চট্টগ্রাম-৮ আসনে জোবাইরুল হাসান আরিফ, মাওলানা আশরাফ মাহদীকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগর আংশিক), ১০-দলীয় জোটের প্রার্থী মাজেদুল ইসলামকে মুন্সিগঞ্জ-২ (লৌহজং ও টঙ্গীবাড়ী উপজেলা), রাজবাড়ী-২ আসনে জামিল হিজাযী ও নেত্রকোনা-২ আসনে ফাহিম পাঠানকে এগিয়ে রাখছে দলটি। পাশাপাশি আরও কয়েকজন প্রার্থী শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে সক্ষম হবেন বলেও প্রত্যাশা তাদের।
এনসিপি নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, আমরা প্রথমবারের মতো জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছি। প্রার্থীরা ইতোমধ্যে নির্বাচনের মাঠে প্রাচরণা শুরু করেছে। দলের নেতা-কর্মীরা গণমানুষের সঙ্গে মিশছেন। মানুষের অগাধ প্রত্যাশাও রয়েছে আমাদের ওপর। দল হিসেবে এনসিপি সেই প্রত্যাশা পূরণে প্রস্তুত এবং মাঠের সমীকরণ বলছে আমরা এবারে অন্তত ১২ থেকে ১৪টি আসন পেতে যাচ্ছি। ‘১০-দলীয় নির্বাচনি ঐক্যে’ শরিক দল এনসিপির দিনাজপুর-৫ আসনের প্রার্থী ডা. আবদুল আহাদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমাকে এই আসন দেওয়া হয়েছে। শরিক দলের নেতা-কর্মীরা আমাদের নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। প্রত্যাশা অনুযায়ী আমরা মানুষের সাড়া পাচ্ছি। হ্যাঁ ভোটের পক্ষে কাজ করছি। আল্লাহ দয়া করলে এই আসনে বিপুল ভোটে আমরা জয়ী হব। সম্ভাবনাময় আসনগুলোর ছাড়াও কিছু আসন নিয়ে প্রত্যাশা রাখে এনসিপি। নেতারা জানান, জোটের অন্যান্য শরিক দলগুলোর যথাযথ সমর্থন পেলে পঞ্চগড়-১ আসনে সারজিস আলম ও মৌলভীবাজার-৪ আসনে প্রীতম দাস ভালো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এই দুজনের বিরুদ্ধে বিএনপির হেভিওয়েট এবং জনপ্রিয় প্রার্থীরা লড়বেন।