জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা ইউনেস্কোর বাংলাদেশ প্রতিনিধি সুজান ভাইজ বলেছেন, বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের ভাষা ও গণনাজ্ঞান (গণিত) দুর্বল। ভাষাজ্ঞান ও গণনাজ্ঞান জীবনধারণের মৌলিক দক্ষতা হলেও এতে ঘাটতি থাকাটা উদ্বেগজনক।
গতকাল রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক শিক্ষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জাতীয় ইউনেস্কো কমিশনের (বিএনসিইউ) উপ-সচিব জেনারেল সারভীনা মনীর। উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপদেষ্টা ও বিএনসিইউ চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. সি আর আবরার, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব এবং বিএনসিইউ সেক্রেটারি জেনারেল রেহানা পারভীন। সুজান ভাইজ বলেন, বাংলাদেশের তরুণরা নানা উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ডে যুক্ত হচ্ছেন। বিজ্ঞান মেলা কিংবা স্কুলভিত্তিক উদ্ভাবনী কার্যক্রমে তরুণদের সৃজনশীলতা স্পষ্ট। সর্বশেষ মূল্যায়নে দেখা গেছে, অষ্টম শ্রেণির ৫৪ শতাংশ শিক্ষার্থীর বাংলা ভাষায় দক্ষতা পর্যাপ্ত নয়। গণিত দক্ষতার হার আরও কম। আন্তর্জাতিক শিক্ষা দিবসের মূল উদ্দেশ্যই হলো দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করা। তিনি বলেন, শিক্ষা সংস্কারে শিক্ষার্থীদের অংশীদার হিসেবে যুক্ত করলে আগামী কয়েক বছরে শিক্ষাব্যবস্থার কাক্সিক্ষত রূপান্তর সম্ভব হবে। শিক্ষকরা কেবল জ্ঞানদাতা নন। তারা পরামর্শক, পরামর্শদাতা ও শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশের সহযাত্রী। ইউনেসকো ও ইউনিসেফ আগামী চার বছর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে শিক্ষকের পেশাগত উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেবে। তিনি আরও বলেন, তরুণদের অংশগ্রহণ ছাড়া বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার কাক্সিক্ষত পরিবর্তন সম্ভব নয়। শিক্ষাব্যবস্থায় তরুণদের অংশীদার হিসেবে যুক্ত করতে হবে। তরুণদের আবেগ, দায়বদ্ধতা ও পরিবর্তনের সক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক সময়ে তরুণদের উদ্যোগ ও সম্পৃক্ততা সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের উদাহরণ তৈরি করছে। বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য শিক্ষার পাশাপাশি প্রতিটি শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত জীবন, পরিবার ও সমাজের জন্যও অপরিহার্য।