ঢাকার কেরানীগঞ্জের হযরতপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাসান মোল্লা (৪২) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। গতকাল বিকাল পৌনে ৪টার দিকে ঢাকার হলি ফ্যামিলি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) তাঁর মৃত্যু হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ৯টার দিকে স্থানীয় একটি ওয়াজ মাহফিল থেকে হযরতপুর ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামের ওয়ার্ড বিএনপি কার্যালয়ের সামনে পৌঁছলে মোটরসাইকেলে আসা দুই অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। যা পেটের এক পাশ দিয়ে ঢুকে অন্য পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। স্থানীয়রা আহত অবস্থায় হাসান মোল্লাকে উদ্ধার করে প্রথমে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে শুক্রবার রাতে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীর হলি ফ্যামিলি হাসপাতালের আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। হাসান মোল্লার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও ডাকসুর সাবেক ভিপি আমান উল্লাহ আমানের একান্ত ব্যক্তিগত সহকারী উজ্জ্বল আহমেদ। এদিকে হাসান মোল্লার মৃত্যুর খবরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দলীয় নেতা-কর্মী ও স্থানীয়দের মধ্যে গভীর শোক এবং ক্ষোভ বিরাজ করছে।
হাসান মোল্লার ছোট ভাই ও হযরতপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহপ্রচার সম্পাদক রাকিব জানান, এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে কী উদ্দেশ্য থাকতে পারে তা আমাদের কাছে স্পষ্ট নয়। তবে আমার ভাইয়ের কোনো শত্রু ছিল না। যারা এই ন্যক্কারজনক হামলা চালিয়েছে, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। গত বৃহস্পতিবার হাসপাতালে হাসান মোল্লা গুলিবিদ্ধের বিবরণ জানিয়ে বলেন, ওই রাতে জগন্নাথপুরে ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয় থেকে নির্বাচনি কাজ শেষে একই এলাকায় ওয়াজ মাহফিলে গিয়েছিলেন হাসান মোল্লা। সেখান থেকে নিজ বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছামাত্র দুজন দুর্বৃত্ত মোটরসাইকেলে দ্রুতগতিতে এসে তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়। হাসানের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন তাকে হাসপাতালে নেন। কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এম সাইফুল আলম বলেন, বিকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা গেছেন। এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এ ব্যাপারে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।