খুলনার ছয়টি সংসদীয় আসনে এখন রাজনৈতিক দলগুলোর ঘাঁটি দখলের তীব্র লড়াই চলছে। নিবন্ধন স্থগিত আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের আধিপত্যে থাকা এসব আসনে নিজেদের শক্ত অবস্থান গড়ে তুলতে মরিয়া বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয় পেতে দুই দলের প্রার্থীরা মাঠে নেমেছেন ব্যাপক তৎপরতায়।
ভোটারদের মন জয়ে দল দুটির নেতারা প্রতিদিন চার থেকে পাঁচটি কর্মসূচি পালন করছেন। কোথাও কোথাও স্থানীয় পর্যায়ের সাবেক আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে নিয়েও গণসংযোগ করছেন তাঁরা। লক্ষ্য আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক ভেঙে নিজেদের দিকে টেনে আনা। স্থানীয় রাজনীতি বিশ্লেষকরা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, ১৯৭৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত খুলনার ছয় আসনে ১২টি সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পেয়েছে ৪২, বিএনপি ১৫, জাতীয় পার্টি আট এবং জামায়াত তিনজন সংসদ সদস্য। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ও প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মতো শীর্ষ নেতারাও খুলনার আসন থেকে নির্বাচন করেছেন। আসনভিত্তিক চিত্র: খুলনা-১ (বটিয়াঘাটা ও দাকোপ) : ভোটার প্রায় ৩ লাখ ৭ হাজার। অতীতের ১২ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নয়, বিএনপি দুই ও জাতীয় পার্টি একবার জয় পেয়েছে। খুলনা-২ (খুলনা সিটি করপোরেশনের ১৬-৩১ নম্বর ওয়ার্ড) : ভোটার প্রায় ৩ লাখ ৩৫ হাজার। এখানে বিএনপি তুলনামূলক এগিয়ে। ছয়বার জয়ী। খুলনা-৩ (সিটি করপোরেশনের ১-১৫ নম্বর ওয়ার্ড ও দিঘলিয়ার অংশ) : ভোটার প্রায় ২ লাখ ৫৫ হাজার। আওয়ামী লীগ ছয়, বিএনপি চারবার জয় পেয়েছে। খুলনা-৪ (দিঘলিয়া, রূপসা ও তেরখাদা) : ভোটার প্রায় ৩ লাখ ৭৮ হাজার। উপনির্বাচনসহ ১৩ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নয়বার জয়ী। খুলনা-৫ (ফুলতলা ও ডুমুরিয়া) : ভোটার ৪ লাখের বেশি। এখানে আওয়ামী লীগ নয়বার জয় পেয়েছে। খুলনা-৬ (কয়রা ও পাইকগাছা) : ভোটার প্রায় ৪ লাখ ২৪ হাজার। জামায়াত-প্রভাবিত এলাকা হিসেবে পরিচিত এ আসনে বিএনপি কখনো জয় পায়নি। প্রার্থীদের অবস্থান : বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীরা অভিযোগ করেছেন, শেষ তিনটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ব্যাপক কারচুপি করে এসব আসন কার্যত ‘জবরদখল’ করেছিল। এবার আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না থাকায় ভোট ও অধিকার পুনরুদ্ধারের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে তাঁরা মনে করছেন। খুলনা-১ আসনে বিএনপির আমির এজাজ খান ও জামায়াতের কৃষ্ণ নন্দীর মধ্যে লড়াই হচ্ছে। খুলনা-২ আসনে বিএনপির সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম মঞ্জুর মুখোমুখি জামায়াতের শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল। খুলনা-৩ আসনে বিএনপির রকিবুল ইসলাম বকুলের প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত আমির অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান। খুলনা-৪ আসনে বিএনপির আজিজুল বারী হেলালের বিপরীতে ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন। খুলনা-৫ আসনে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার ও বিএনপির মোহাম্মদ আলী আসগার লবির মধ্যে হেভিওয়েট লড়াই। খুলনা-৬ আসনে জামায়াতের আবুল কালাম আজাদের বিপরীতে বিএনপির মনিরুল হাসান বাপ্পি। রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে খুলনার আসনগুলোতে এবারের নির্বাচন হবে বিএনপি ও জামায়াতের জন্য শক্তিপরীক্ষার মঞ্চ; যেখানে তরুণ ভোটার ও নতুন নেতৃত্বই নির্ধারণ করবেন শেষ হাসি।