নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ ও বাস্তবায়নের এক দফা দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা ঘেরাও করলে সরকারি কর্মচারীদের ওপর লাঠিচার্জ, জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। গতকাল বেলা পৌনে ১২টার দিকে রাজধানীর মিন্টো রোডে এ ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ২৫ জন আন্দোলনকারী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৯ জন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। অন্য ছয়জন হাসপাতালটিতে চিকিৎসাধীন। আন্দোলনকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, দাবি পূরণ না হলে কর্মসূচি আরও কঠোর করা হবে। তখন যেখানেই বাধা দেওয়া হবে, সেখানেই প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।
এদিকে আন্দোলনকারীদের পিছু হটানোকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী নিজে ঘটনাস্থল যমুনার সামনে উপস্থিত হন। তিনি ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। এরপর অতিরিক্ত পুলিশ ও ছয় প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়। সংঘর্ষের কারণে যমুনা ও আশপাশের এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ। ঘটনাস্থল থেকে আটক হয় কয়েকজন আন্দোলনকারী। পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। ঢামেকে ভর্তি হওয়া ছয় আন্দোলনকারী হলেন আবদুল হান্নান, জয় দাস, আবদুল আউয়াল, মো. তন্ময়, মো. জাকারিয়া ও মো. সিকান্দার। তাদের সঙ্গে হাসপাতালে আসা সহকর্মী মো. কালাম হাওলাদার জানান, পূর্বঘোষণা অনুযায়ী সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের ব্যানারে তারা প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখে একটি মিছিল বের করেন। পুলিশ লাঠিচার্জ, সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ ও জলকামান ব্যবহার করে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এতে অনেকেই আহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, সকালে নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ ও বাস্তবায়নের এক দফা দাবিতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশ করেন সরকারি কর্মচারীরা। পরে তারা মিছিল নিয়ে যমুনা অভিমুখে যাত্রা শুরু করেন। যমুনা অভিমুখে যাওয়ার সময় শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে প্রথমে আন্দোলনকারীদের ব্যারিকেড দিয়ে বাধা দেয় পুলিশ। পরে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে যমুনা ঘেরাও করেন আন্দোলনকারীরা। এসময় আন্দোলনকারীদের ওপর জলকামান নিক্ষেপ করা হয় এবং মাইকিং করে যমুনা অভিমুখে যেতে বারবার মানা করা হয়। দুপুর পৌনে ১২টার দিকে পুলিশ তাদের ওপর জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এরপর আন্দোলনকারীদের একটি দল ইন্টারকন্টিনেন্টালের মোড়ে এবং আরেকটি দল কাকরাইল মোড়ে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করে।
নরসিংদী থেকে আসা সরকারি কর্মচারী হালিমা আক্তার জানান, গত ৯ বছর ধরে আমাদের বেতন একই জায়গায় আটকে আছে। টাইম স্কেল নেই, সিলেকশন গ্রেড নেই। অথচ বাজারে চাল, ডাল, তেলের দাম কোথায় গিয়ে ঠেকেছে? এই বেতনে সন্তান পড়াব, না বাসাভাড়া দেব? কিছুই সম্ভব নয়। আমরা ভিক্ষা চাই না, আমাদের ন্যায্য পে-স্কেল চাই। মানিকগঞ্জ থেকে আসা সরকারি কর্মচারী রফিকুল ইসলাম জানান, ৯ মাস ধরে শুধু সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে। এটা আমাদের সঙ্গে অবিচার।
শাহবাগ থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, নবম পে-স্কেলের দাবিতে আন্দোলকারীদের একজনকে আটক করা হয়েছিল। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। রমনা মডেল থানা সূত্র জানিয়েছে, যাদের আটক করা হয়েছিল তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।