গাজীপুরের কাপাসিয়া, রাজশাহীর তানোর এবং চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে নির্বাচনি হাঙ্গামায় ২১ ব্যক্তি আহত হয়েছেন। আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো বিবরণ-
গাজীপুর : গাজীপুরের কাপাসিয়ায় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের কমপক্ষে পাঁচ ব্যক্তি আহত হয়েছেন। তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। সংঘর্ষে উভয় দলের কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। দুই পক্ষের নেতা-কর্মীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষে ঘাগটিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. লাল মিয়া মোড়ল ও ছাত্রদল নেতা মো. রাজিব জুমা আহত হন। অপরদিকে ঘাগটিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের কর্মী জাহিদ ভুঁইয়া, লতিফ ভুঁইয়াসহ জামায়াতের তিনজন আহত হয়েছেন। স্থানীয় লোকজন ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ঘাগটিয়া ইউনিয়নের সালদৈ বাজারে জামায়াতে ইসলামীর একটি নির্বাচনি মিছিল প্রবেশ করে। মিছিলটি বিএনপি কার্যালয়ের কাছে যাওয়ার পর দুই পক্ষের নেতা-কর্মীদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। পরে দুই পক্ষেরই নির্বাচনি কার্যালয়ের চেয়ার-টেবিল ও আসবাব ভাঙচুর করা হয়। গাজীপুর-৪ আসনের বিএনপির প্রার্থী শাহ রিয়াজুল হান্নান বলেন, ‘আমাদের নেতা-কর্মী-সমর্থকরা ঘাগুটিয়া ইউনিয়নের নির্বাচনি অফিসে ভোটার স্লিপ গোছাচ্ছিলেন। এ সময় জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে এসে আমাদের অফিসে অতর্কিত হামলা চালায়। তাদের হামলায় আমাদের দুইজন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন এবং অফিসের আসবাব ভেঙে ফেলা হয়েছে। আহতদের মধ্যে একজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।’ অন্যদিকে জামায়াতের প্রার্থী সালাহউদ্দিন আইউবী বলেন, ‘শান্তিপূর্ণভাবে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি শেষ করে নেতা-কর্মীরা বাড়ি ফেরার পথে বিএনপির নেতা-কর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে জামায়াতের তিনজন কর্মী আহত হন। দলের সিনিয়র নেতারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনুরোধে তারা এলাকা ত্যাগ করেন।’ এ সময় তাঁদের অফিস ভাঙচুর করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
এদিকে মো. লাল মিয়া মোড়ল বাদী হয়ে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ৩০-৩৫ জনের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার রাতে কাপাসিয়া থানায় একটি অভিযোগ জমা দিয়েছেন। কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহিনুর আলম জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজশাহী : রাজশাহীতে জামায়াতের কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ করেছেন রাজশাহী-১ আসনের জামায়াতের প্রার্থী ও দলটির কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির অধ্যাপক মজিবুর রহমান। গতকাল সকালে তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আহতদের দেখতে যান তিনি। এ সময় তিনি বলেন, নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার মাধ্যমে নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার সকালে তানোর উপজেলার বাধাইল গ্রামে মফিজুল ইসলাম, মাসরিকুল ইসলামসহ এক নারীর ওপর হামলা করেন বিএনপি নেতা-কর্মীরা। তাদের আহত অবস্থায় উদ্ধার করে তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি।
চাঁদপুর : চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে খাজুরিয়া বাজারে ধানের শীষের প্রার্থী হারুনুর রশীদের সমর্থক ও স্বতন্ত্র প্রার্থী চিংড়ি মাছ প্রতীকের এম এ হান্নানের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের কমপক্ষে ১৫ নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলায় পৃথক স্থানে এই ঘটনা ঘটে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সন্ধ্যার পর গুপ্টি ইউনিয়নের ষোলধানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন খাজুরিয়া ও রূপসা বাজার এলাকায় বিএনপির প্রার্থী মো. হারুনুর রশীদ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ হান্নানের সমর্থকদের মধ্যে চার দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এর আগে হোগলী এলাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর উঠান বৈঠকে ধানের শীষের সমর্থকরা মিছিল নিয়ে উত্তেজনা তৈরি করে বলে দাবি করেন স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকরা। রাতে স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ হান্নান দাবি করেন, তাঁর গাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ভাঙচুর করা হয়। তিনি নিজেসহ সাবেক পৌর মেয়র মঞ্জিল হোসেন, যুবদল আহ্বায়ক জহিরুল ইসলাম পাটওয়ারী, বিএনপি নেতা আবুল কালাম আজাদ, জসিম পাটওয়ারী, বিএনপি নেতা ইউসূফ, শ্রমিক দলের সভাপতি আলী হোসেন ও ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইকবাল হোসেনসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। রূপসা উত্তর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইমাম বাবুর দাবি, গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়নের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রূপসা বাজারে এসে ধানের শীষের কর্মীদের ওপর চিংড়ি প্রতীকের সমর্থকরা এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। এ সময় ফারুক (৩৫) অহিদুল্লাহ (৪০) শাহাদাত হোসেন (২০) আহত হন।
ভোলা : ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরায় ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের প্রচারণাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক নারীসহ উভয় পক্ষের অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থলে নৌবাহিনী ও পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। গতকাল সকাল ৮টার দিকে মনপুরা উপজেলার ৩নং উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
জামায়াতের উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়ন সেক্রেটারি আবদুর রহিম অভিযোগ করেন, নির্বাচনি প্রচারণার অংশ হিসেবে ভোট চাইতে গেলে বিএনপির লোকজন বাধা দেয়। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষে জড়ায় দুই পক্ষ। এতে জামায়াতের প্রায় পাঁচজন আহত হন।