সূর্যোদয়ের দেশ জাপানে বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্য সম্প্রসারণের নতুন দুয়ার খুলছে সহসাই। বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম অর্থনীতির এ দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো অর্থনৈতিক অংশীদারের চুক্তি (ইপিএ) স্বাক্ষর করেছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো দেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও অর্থনীতি বিষয়ে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি এটাই প্রথম। এ চুক্তির আওতায় জাপানের বাজারে তৈরি পোশাক, হিমায়িত মাছ, চামড়া ও পাটজাত পণ্যসহ প্রায় সাড়ে ৭ হাজার পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা মিলবে। একই সঙ্গে এ চুক্তির ফলে আইটি, ইঞ্জিনিয়ারিং, শিক্ষা, কেয়ারগিভিং এবং নার্সিংসহ ১২০টি সেবা খাতে বাংলাদেশ থেকে দক্ষ পেশাজীবী কাজ করার সুযোগ পাবেন জাপানে। এতে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা শক্তিশালী হবে। বিনিময়ে বাংলাদেশও জাপানের জন্য তার বাজার সম্প্রসারিত করছে, ফলে প্রাথমিকভাবে ১ হাজার ৩৯টি জাপানি পণ্য বাংলাদেশের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য বলছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জাপানে ১৪১ দশমিক ১৫ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। এর প্রায় ৮০ শতাংশই তৈরি পোশাক। পাশাপাশি হিমায়িত মাছ, চামড়া ও পাটজাত পণ্যও রপ্তানি হয়েছে। পক্ষান্তরে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জাপান থেকে বাংলাদেশ ১৮৭ দশমিক ৪৫ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। গতকাল জাপানের টোকিওতে বাংলাদেশের বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এবং জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হোরি ইওয়াও এ চুক্তি সই করেন। জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ চুক্তি সই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। চুক্তি সই অনুষ্ঠানে বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান, জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী, বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচিসহ উভয় দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
চুক্তি অনুযায়ী, পোশাক খাতে ‘সিঙ্গেল স্টেজ ট্রান্সফরমেশন’ সুবিধা যুক্ত হওয়ায় এখন থেকে কাঁচামাল নিয়ে কোনো জটিল শর্ত ছাড়াই বাংলাদেশি পোশাক খুব সহজে জাপানে রপ্তানি করা যাবে। এর পাশাপাশি জাপানের আইটি, ইঞ্জিনিয়ারিং, শিক্ষা, কেয়ারগিভিং এবং নার্সিংয়ের মতো প্রায় ১৬টি বিভাগে ১২০টি সেবা খাতে বাংলাদেশি দক্ষ পেশাজীবীদের কাজ করার সুযোগ তৈরি হবে, যা দেশের মানুষের জন্য জাপানে অধিক কর্মসংস্থান নিশ্চিত করবে। পক্ষান্তরে বাংলাদেশ জাপানের জন্য ১২টি বিভাগের আওতায় ৯৮টি উপখাত উন্মুক্ত করতে সম্মত হয়েছে। বাণিজ্যের পরিমাণ বৃদ্ধির পাশাপাশি এটি উৎপাদন, অবকাঠামো, জ্বালানি এবং লজিস্টিকস প্রভৃতি খাতে জাপানি বিনিয়োগ (এফডিআই) বৃদ্ধি করবে।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, এ চুক্তি কেবল একটি বাণিজ্যিক দলিল নয়। এটি বাংলাদেশের উজ্জ্বল অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং আমাদের দুই দেশের মধ্যে গভীর পারস্পরিক আস্থার বহিঃপ্রকাশ। একই সঙ্গে এ চুক্তি দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের প্রতিফলন। এ চুক্তির কার্যকর বাস্তবায়ন পারস্পরিক সমৃদ্ধির একটি নতুন অধ্যায় শুরু করবে। তিনি আরও বলেন, চুক্তিটির অধীনে বাংলাদেশ পণ্য ও সেবা উভয় বাণিজ্যে উল্লেখযোগ্য সুবিধা পাবে। তৈরি পোশাকসহ প্রায় ৭ হাজার ৩৭৯টি বাংলাদেশি পণ্য জাপানের বাজারে ১০০ শতাংশ শুল্কমুক্ত সুবিধা ভোগ করবে। বিনিময়ে বাংলাদেশও জাপানের জন্য তার বাজার সম্প্রসারিত করছে, ফলে প্রাথমিকভাবে ১ হাজার ৩৯টি জাপানি পণ্য বাংলাদেশের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে।