বিবিসি বাংলার অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত এ সংবাদে বলা হয়েছে, বিদেশে নিবন্ধিত অনেকের কাছে ব্যালটই পৌঁছায়নি। বিদেশে অনুমোদিত ভোটারের মাঝে আড়াই লাখের বেশি গতকাল পর্যন্ত ভোট দিতে পারেননি। এ ছাড়া বিদেশে নিবন্ধিত ও অনুমোদিত ৩৬ শতাংশের মতো ভোটারের ভোট জমা পড়েনি। বিদেশে ভোটার ব্যালট গ্রহণ করেছেন ৫ লাখ ২৬ হাজার। সে হিসেবে অনুমোদিত ভোটারের ৩১ শতাংশের মতো ব্যালট গ্রহণ করেননি বা হাতে পাননি অথবা ব্যালট হাতে পেলেও স্ক্যান করেননি। আবার দেশের নিবন্ধিত (অনুমোদিত) ভোটারের ৫৫ শতাংশের মতো ব্যালট গৃহীত হয়নি। গৃহীত ব্যালটের মধ্যে ভোট দিয়েছেন ৩৭ শতাংশের মতো। যারা ভোট দিয়েছেন তার ৮৩ শতাংশের মতো রিটার্নিং অফিসারের হাতে পৌঁছা বাকি আছে।
প্রকাশিত খবরটি হুবহু তুলে ধরা হলো এবারই প্রথমবারের মতো পোস্টাল ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। তবে শঙ্কার বিষয় হলো, অনেকে যেমন ব্যালট পাননি অথবা নেননি, তেমনি যারা নিবন্ধন করে ভোট দিয়েছেন তাদের অনেকের ব্যালট নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশের ঠিকানায় পৌঁছাবে কি না এখনো অনিশ্চিত। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে দেশে ও প্রবাসে ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৪ জন ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে নিবন্ধন করেছেন। তাদের মধ্যে ৭ লাখ ৬১ হাজার ১৩৮ জন প্রবাসী বাংলাদেশি। পোস্টাল ভোটের জন্য রেজিস্ট্রেশনের শেষ দিন ছিল ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত। এর মধ্যেই পোস্ট করা ভোট বাংলাদেশে আসাও শুরু হয়ে গেছে। তবে গতকাল বেলা দেড়টা পর্যন্ত দেওয়া হিসাবে দেখা গেছে, এখন পর্যন্ত কেবল ১ লাখ ৬৬ হাজার ১২৫টি ব্যালট রিটার্নিং কর্মকর্তারা বুঝে পেয়েছেন। ৪ লাখ ৫৬ হাজার ৭০৯ জন প্রবাসী ভোটার তাদের ব্যালট সংশ্লিষ্ট দেশের পোস্ট অফিস বা ডাক বিভাগে জমা দিয়েছেন। কিন্তু নির্বাচনের বাকি আছে আর মাত্র চার দিন। ফলে ভোট গণনা শুরুর আগে বিদেশ থেকে সব ব্যালট দেশের নির্ধারিত ঠিকানায় পৌঁছাতে পারবে কি না সেই শঙ্কাও রয়েছে। এখনো যেসব ব্যালট পোস্ট করা হয়নি বা জমা পড়েনি সেগুলো এত কম সময়ের মধ্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে কি না তা নিয়ে অনিশ্চয়তা আছে।
প্রবাসীদের ভোট কোথায় যাবে? : বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী যে যেই অঞ্চলের ভোটার, সেই অঞ্চলের রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে যাবে পোস্টাল ভোট। অর্থাৎ প্রবাসীদের ভোট তার নিজের এলাকার প্রার্থীদের ভোট হিসেবে বিবেচনা করা হবে। বিদেশ থেকে প্রথমে বাংলাদেশ বিমানবন্দরে যে পোস্টাল অফিস রয়েছে সেখানে আসছে। এরপর সেখান থেকে তেজগাঁও মেইল প্রসেসিং সেন্টারে আসন অনুযায়ী ভাগ করে রিটার্নিং অফিসারের কাছে পাঠানো হচ্ছে বলে জানান প্রবাসী ভোটার প্রকল্পের টিম লিডার অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সালীম আহমাদ খান। ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন বিকাল সাড়ে ৪টায় ভোট গণনা শুরু হবে এবং তখনই অন্য ভোটের পাশাপাশি প্রবাসীদের ভোটও গণনা করা হবে। নভেম্বরে ডাক বিভাগের সঙ্গে বৈঠকের পর নির্বাচন কমিশন ধারণা দিয়েছিল ব্যালট পাঠানো থেকে শুরু করে ফেরত আসা পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে সর্বনিম্ন ১৫ থেকে সর্বোচ্চ ৩০ দিন লাগবে। সে হিসেবে এখনো যেসব ভোট জমা পড়েনি বা ভোটারের হাতে ব্যালট পৌঁছায়নি সেসব ভোট আদৌ নির্বাচনের দিনের মধ্যে আসন পর্যন্ত পৌঁছাবে কি না সে শঙ্কা রয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের প্রবাসী ভোটার প্রকল্পের দলনেতা মি. খান বলেছেন, ‘আজকের (৬ ফেব্রুয়ারি) মধ্যেও ভোট জমা পড়লে সেগুলো পৌঁছানো সম্ভব হবে। যেসব দেশের সঙ্গে সরাসরি ফ্লাইট নেই, সেগুলোও অন্তত ১০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে দেশে এলেও গণনায় আনা সম্ভব। তবে যেসব ব্যালট এখনো ভোটারের হাতে পৌঁছায়নি সেগুলো নিয়ে সংশয় রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা তো ৪০ দিনের ওপরে সময় হাতে নিয়ে সবকিছু পাঠিয়েছি যেন সময়মতো ফেরত আসে। আমরা এখন যেটা দেখতে পাচ্ছি, অনেক দেশেই এ রকম আছে যে ভোটারের কাছে পৌঁছায়নি, পোস্ট অফিসে আছে। যেমন উত্তর আমেরিকায় তুষারপাত ছিল, কোনো কোনো দেশে পোস্টাল স্ট্রাইক। এ রকম করে সব জায়গায় পৌঁছায়নি।’ এসব বিষয় ট্র্যাক করাও কঠিন হচ্ছে জানান মি. খান। তবে সেসব ক্ষেত্রে ভোটের দিনও যদি প্রবাসী ভোট এসে পৌঁছায় তাহলেও আকাশপথে ঠিকানামতো সেগুলো পৌঁছানো সম্ভব বলে আশা করছেন তিনি।
প্রবাসী ভোটারসংখ্যা : বাংলাদেশ জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর হিসাবে ২০১০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ৯৪ লাখের বেশি বাংলাদেশি প্রবাসে কর্মরত রয়েছেন। তবে বিভিন্ন হিসাবে বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি প্রবাসী জনসংখ্যা দেড় কোটির কাছাকাছি। ৬ জানুয়ারি বিষয়টি উল্লেখ করেছিলেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। সে হিসাব বিবেচনায় নিলে ৫ শতাংশের সামান্য বেশি প্রবাসী নিবন্ধন করেছেন। এটিকেই অবশ্য ‘গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য’ হিসেবে উল্লেখ করা হয় সেই ব্রিফিংয়ে। কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতায় ‘প্রবাসী ভোটারদের ক্ষেত্রে গড় অংশগ্রহণের হার প্রায় ২ দশমিক ৭ শতাংশ’।
অনুমোদিত ভোটার : নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বিদেশ থেকে নিবন্ধন করা ভোটারের মধ্যে অনুমোদিত ভোটার ৭ লাখ ৬৭ হাজার ২৩৩। তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে ৭ লাখ ৬৭ হাজার ১৮৮টি ব্যালট।
বিদেশে ভোট দিয়েছেন কত, দেশে এসেছে কত? : গতকাল বেলা দেড়টার হিসাব অনুযায়ী, ভোট দিয়েছেন ৪ লাখ ৮৭ হাজারের বেশি প্রবাসী। এর মধ্যে ডাকমাধ্যমে পোস্ট করা হয়েছে ৪ লাখ ৫১ হাজার ব্যালট। আর রিটার্নিং কর্মকর্তারা সে সময় পর্যন্ত হাতে পেয়েছেন প্রবাসীদের ১ লাখ ৬৬ হাজারের কিছু বেশি ভোট। অর্থাৎ গতকাল দুপুর পর্যন্ত বিদেশে জমা পড়া মোট ভোটের ৩৪ শতাংশের মতো রিটার্নিং কর্মকর্তারা হাতে পেয়েছেন।
এখনো ভোট হয়নি : অনুমোদিত ভোটারের মাঝে আড়াই লাখের বেশি (২ লাখ ৮১ হাজারের বেশি) ভোটার গতকাল পর্যন্ত ভোট দিতে পারেননি। হিসাব করলে দেখা যায় দুপুর পর্যন্ত বিদেশে নিবন্ধিত ও অনুমোদিত ভোটারের ৩৬ শতাংশের মতো ভোট জমা পড়েনি। আর ভোটার ব্যালট গ্রহণ করেছেন সেই সংখ্যা ৫ লাখ ২৬ হাজার। অর্থাৎ অনুমোদিত ভোটারের ৩১ শতাংশের মতো ব্যালট গ্রহণ করেননি বা হাতে পাননি, অথবা ব্যালট হাতে পেলেও স্ক্যান করেননি। এ ছাড়া দেশের ভিতরে যারা পোস্টাল ব্যালটের জন্য নিবন্ধন করেন, সেই ৭ লাখ ৬০ হাজার ৮৯৮ জন ভোটারের কাছেও ব্যালট পাঠানো হয়। তাদের মধ্যে ৩ লাখ ৪২ হাজার ৭৪৭ জন ব্যালট হাতে পেয়েছেন। আর ভোট দিয়েছেন ২ লাখ ৮০ হাজার ২২৬ জন, রিটার্নিং অফিসার পর্যন্ত পৌঁছেছে ৪৭ হাজারের কিছু বেশি। অর্থাৎ দেশের নিবন্ধিত (অনুমোদিত) ভোটারের ৫৫ শতাংশের মতো ব্যালট গৃহীত হয়নি। ভোট দিয়েছেন ৩৭ শতাংশের মতো। যারা ভোট দিয়েছেন তার ৮৩ শতাংশের মতো রিটার্নিং অফিসারের হাতে পৌঁছা বাকি আছে।
প্রবাসীদের প্রতিক্রিয়া, অভিযোগ : প্রবাসে থেকে ভোট দেওয়ার বিষয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে প্রবাসীদের মধ্যে। যুক্তরাজ্যপ্রবাসী মোহাম্মদ রুহেল আহমেদ ভোট দিতে পেরে বেশ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। তবে একই সঙ্গে ‘কতটুকু স্বচ্ছতার সঙ্গে ভোটটা কাউন্ট হবে সেটার একটা প্রশ্ন থাকে’ বলছিলেন তিনি। তবে সেটা ভালোভাবে হবে বলেই আশা করেন মি. আহমেদ। একই সঙ্গে তিনি এও মনে করেন যে কম সময়ে হলেও এ নির্বাচন ঘিরে যথেষ্ট ‘মার্কেটিং’ বা প্রচার হয়নি, যে কারণে দ্বিতীয় প্রজন্মের ভোটাররা এতে আকৃষ্ট হয়নি এবং তাঁর নিজের মতো রাজনীতিসচেতন মানুষই এ সুযোগটা আগ্রহ নিয়ে কাজে লাগিয়েছে বলছেন তিনি। যুক্তরাজ্যে নিবন্ধিত, অনুমোদিত ভোটার সংখ্যা ৩২ হাজার ৩০৫। গতকাল দুপুর পর্যন্ত ভোট দিয়েছেন ১৯ হাজার ৯৪০ জন, এর মাঝে রিটার্নিং অফিসারদের দ্বারা গৃহীত ভোট মাত্র ১ হাজার ৫৭৯। পোস্টাল ভোট বিডি ওয়েবসাইটে এসব তথ্য তুলে ধরা হচ্ছে। তবে ভোট দিতে পারা নিয়ে বেশ গুরুতর অভিযোগ তুলছেন মালয়েশিয়াপ্রবাসী সাংবাদিক আহমাদুল কবির। এর বেশ কিছু দিক রয়েছে। যেমন যতসংখ্যক ভোটার ভোট দিয়েছেন তার বেশির ভাগই এখনো দেশে পৌঁছায়নি। আর অনেকে ট্র্যাক করে দেখছেন তাদের ব্যালট পেপার ‘ডেলিভারড’ বা হাতে পৌঁছেছে, কিন্তু তারা আসলে সেটি হাতে পাননি। তিনি নিজেই প্রায় ‘৪০ থেকে ৫০’ জনের মতো এমন অবস্থায় দেখেছেন বলে জানান। উদাহরণ হিসেবে বলেন, চার দিন, পাঁচ দিন বা সাত দিন অপেক্ষা করে হাইকমিশনে ফোন দিলে সেখান থেকে তারা বলল নিকটস্থ পোস্ট অফিসে দেখেন। পোস্ট অফিসে যাওয়ার পর ওরা খোঁজাখুঁজি করে বলল আপনার এইটা বাংলাদেশে ফেরত চলে গেছে। কেন? কারণ আপনাকে পাওয়া যায়নি। অথচ তার নম্বরে ডেলিভারি করবে এমন কোনো ফোনই করে নাই, বলেন মি. কবির। তিনি নিজে অবশ্য নিবন্ধন করেননি, কারণ হিসেবে তিনি দেশে এসে ভোট দেবেন বলে জানিয়েছেন। মালয়েশিয়ায় অনুমোদিত ভোটার সংখ্যা ৮৪ হাজার ১৯৫। গতকাল পর্যন্ত ভোট দিয়েছেন ৪৫ হাজার ৩৯১ জন। এর মাঝে বাংলাদেশে রিটার্নিং অফিসারদের দ্বারা গৃহীত ভোট ১৫ হাজার ৬৩৪টি। আবার ভোট দিতে নিবন্ধন করেননি বা আগ্রহ বোধ করেননি এমন মানুষও রয়েছেন। যেমন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কাতারের একজন প্রবাসী বিবিসিকে বলছিলেন, তাঁর কাছে পুরো বিষয়টি ঝামেলা মনে হয়েছে এবং আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না থাকার বিষয়টি তাঁর কাছে ভালো লাগেনি। ‘যারা দোষ করসেছ তারা বাদ, দলটাই ভোটে নাই-এইটা আমার ভালো লাগে নাই,’ বলছিলেন তিনি। এ ছাড়া এর আগে পোস্টাল ভোট নিয়ে বেশ অনেক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। যেমন ব্যালটে কিছু রাজনৈতিক দলের নাম ও প্রতীক প্রথম লাইনে রাখা ও ভাঁজের জায়গায় বিএনপির প্রতীক থাকা নিয়ে ‘কারচুপি’র অভিযোগ করেছিল বিএনপি। এ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কোনো পদক্ষেপের কথা জানা যায়নি।
এ ছাড়া বাহরাইনে কয়েকজন অনেক পোস্টাল ব্যালট গুনছেন এমন ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর জামায়াতে ইসলামীর একজন নেতার বাসা থেকেই পোস্টাল ব্যালটগুলো পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ ওঠে। যদিও একই ঠিকানা বা আশপাশ এলাকার সহকর্মীদের ব্যালট পৌঁছে দেওয়ার জন্য একজনের কাছে অনেক ব্যালটের খাম দেওয়া হয় বলে বাহরাইনে বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্রের বরাত দিয়ে জানায় নির্বাচন কমিশন।
অভিযোগের জবাবে যা বলা হচ্ছে : মালয়েশিয়ায় যে অভিযোগ এসেছে সে বিষয়ে প্রবাসী ভোটার প্রকল্পের টিম লিডার সালীম আহমাদ খান বলেছেন, ‘সেগুলো সংশ্লিষ্ট দেশের পোস্ট অফিসের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং খোঁজ নেওয়া হলে সেসব পোস্ট অফিস ভোটারদের যোগাযোগ করে পায়নি বলে জানিয়েছে। কয়েক দিন থাকার পর কেউ না নিতে আসায় সেগুলো ফেরত পাঠানো হয়েছে।’ মালয়েশিয়ার ক্ষেত্রে অনেকের রেজিস্ট্রেশন করা ফোন নম্বর ও কার্যকর বা অ্যাকটিভ থাকা নম্বর ভিন্ন হওয়া, ঠিকানা এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় স্থানান্তরিত হওয়া এমন কারণেও অনেকে ব্যালট পাননি বলছেন মি. খান। মালয়েশিয়ার পোস্ট অফিস এবং হাইকমিশন দুই দিক থেকেই এমনটা জেনেছেন তাঁরা। এ ছাড়া এর আগে যেসব অভিযোগ বা প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল সেসব ক্ষেত্রে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না-সে প্রশ্নে মি. খান বলছেন, ‘এগুলো চলমান প্রক্রিয়া।’ ‘প্রতীক বরাদ্দ হয়ে গেলে আমরা ব্যালট পাঠাই। যেহেতু পোস্টাল ব্যালট, আমাদের তো পাঠাতে হবে। আদালতের রায়ের সঙ্গে যেগুলো সম্পর্কিত থাকে ওগুলো আমরা পরে পাঠাই,’ বলেন তিনি। যেমন চারটি সংসদীয় আসনে প্রার্থিতা পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে আদালতের নির্দেশনায় নতুন করে ব্যালট ছাপানো শুরু হয়। সে প্রেক্ষাপটে আগেকার ব্যালট বাতিল হয়ে যায় এবং এ মাসের শুরুতে নতুন করে ব্যালট ছাপিয়ে পাঠানো শুরু হয়। আর প্রবাসীদের ভোট বাংলাদেশে আসার পর সমস্যা না হলেও বিভিন্ন দেশে সময়মতো ব্যালট পৌঁছানো ও স্থানীয় পোস্ট অফিসের সঙ্গে সমন্বয়টা চ্যালেঞ্জিং হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন মি. খান।