বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমান বলেছেন, রাজনীতিতে যেসব নারী সক্রিয়, নিজ অঙ্গনে তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রতিটি রাজনৈতিক দলের একটি আচরণবিধি থাকা উচিত। গতকাল রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। ‘গণতন্ত্রের সংগ্রামে নারী : অবদান ও আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক এ বৈঠকের আয়োজন করে উইমেন ইন ডেমোক্রেসি (উইন্ড)। জাইমা রহমান তাঁর ভাবনাটি তুলে ধরে বলেন, নিরাপত্তার দিক থেকে যদি কোনো নারী নেত্রী বা ছাত্রী নেত্রীর কিছু হয়, তাহলে দলগুলো আইনগত বাধ্যবাধতার মাধ্যমে নারীকে সুরক্ষা দেবে। অর্থাৎ যদি নারীর কিছু হয়, দল দায়িত্ব নেবে যে, আমরা তাঁকে সুরক্ষা দেব এবং পাশে থাকব। লন্ডনে আইনে পড়াশোনা করে আসা জাইমা রহমান ১৭ বছর পর দেশে ফিরে এরই মধ্যে আসন্ন সংসদ নির্বাচনে বাবা তারেক রহমানের পক্ষে নির্বাচনি প্রচারে অংশ নিয়ে সক্রিয় রাজনীতিতে নিজেকে অনেকটাই যুক্ত করেছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নাতনি জাইমা মনে করেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে অবস্থান করে নেওয়াটা পুরুষের জন্য সহজ হলেও নারীদের জন্য সেটি কঠিন। সেই কারণেই নারীদের এগিয়ে আনতে রাজনৈতিক দলগুলোর বড় ভূমিকা নেওয়া প্রয়োজন। জাইমা রহমান বলেন, নারীদের উঠে আসার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোকে সহায়তা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ করে দিতে হবে।
সব দলকে এই দায়িত্বটা নিতে হবে।
একদম ছায়ার মতো, তালগাছের ছায়ার মতো যদি কোনো পরামর্শদাতা না থাকে তাহলে ওই ছোট গাছটা কীভাবে বড় হবে?
রাজনীতিতে নারীদের উঠে আসার ক্ষেত্রে তাঁদেরকে অর্থনৈতিকভাবে সহায়তার ওপরও জোর দেন জাইমা রহমান। তিনি বলেন, তাঁদেরকে সুযোগ দেওয়া উচিত দাঁড়ানোর জন্য। যাঁর মেধা আছে দাঁড়ানোর জন্য কোনো একটা সংসদীয় আসন বা স্থানীয় সরকারে মনোনয়ন দেওয়া উচিত। সহায়তার পাশাপাশি নারী নেত্রীদের প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন জরুরি। অনুষ্ঠানে একশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির আসন্ন নির্বাচন কেন্দ্র করে নারীদের নেতৃত্বের জায়গা থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালানোর প্রবণতার বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এত দিন বিভিন্ন জায়গায় নারীরা নেতৃত্বে ছিলেন কিন্তু গত ১৮ মাসে নতুন করে মনে হয়েছে, এসব নারী কি এখন সবাই ফিরে যাবে? এভাবে ডিভাইড অ্যান্ড রুলের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। আইনজীবী সারা হোসেন বলেন, জুলাই সনদ ও গণভোটে বৈষম্য নিরসনের প্রতিশ্রুতি থাকলেও কীভাবে এই প্রতিশ্রুতিকে আরও শক্তিশালী করা হবে, তা পরিষ্কার করে বলা হয়নি। তিনি বলেন, সম্প্রতি অনেক নারী বক্তব্য দিয়েছেন, তাঁরা পুরুষের অধীন থাকতে চান। পুরুষ তাঁদের পরিচালক, এটা তাঁরা মেনে নিয়েছেন। ওই নারীদের এই বক্তব্যকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করা উচিত। তাহলে এসব বক্তব্য আর আলোচনায় আসবে না। আরও বক্তব্য রাখেন আইনজীবী সারওয়াত সিরাজ শুক্লা, শ্রমিক নেতা কল্পনা আক্তার, মুক্তিযোদ্ধা লুৎফা হাসান রোজি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক উমামা ফাতেমা, ডাকসুর কার্যকরী সদস্য হেমা চাকমা, টিভি উপস্থাপক কাজী জেসিন।