বিটিভিতে জাতীর উদ্দেশে দেওয়া নির্বাচনি ভাষণে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশের জন্মের ৫৫ বছরে বৈষম্যের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা রাজনৈতিক ও সামাজিক বন্দোবস্ত জুলাইয়ে ভেঙে গিয়েছে। বৈষম্যমূলক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে জুলাই বিপ্লব ছিল একটি গণবিদ্রোহ, যার লক্ষ্য ছিল পুরোনো বন্দোবস্ত ভেঙে ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু পুরোনো সুবিধাভোগীরা বৈষম্যমূলক কাঠামো গড়তে আবারও রাজনৈতিক মাঠে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। সুবিধাভোগীরা বৈষম্যমূলক কাঠামো ফিরিয়ে আনতে পূর্ণ রাজনৈতিক শক্তি নিয়ে নির্বাচনের মাঠে নেমে পড়েছে।
গতকাল সন্ধ্যায় বিটিভিতে জাতীর উদ্দেশে দেওয়া নাহিদ ইসলামের এ নির্বাচনি ভাষণ সম্প্রচারিত হয়। এ সময় তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর জনগণের প্রত্যাশার বাংলাদেশ গড়তে এনসিপির ১৭ দফা কর্মসূচি তুলে ধরেন। ভাষণে এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে চূড়ান্তভাবে বৈষম্যের পুরোনো কাঠামো ভেঙে পড়েছিল। এই বৈষম্য কেবল অর্থনৈতিক নয়, এটি রাজনৈতিক ক্ষমতা, সামাজিক মর্যাদা, আইনের প্রয়োগ এবং সুযোগ বণ্টনের প্রতিটি স্তরে গভীরভাবে প্রোথিত। তিনি বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা গড়ে উঠেছে রাজধানী ঢাকাকে কেন্দ্র করে। পরিকল্পিতভাবে এই মহানগরে বসবাসকারী দুই কোটি মানুষের চাহিদা পূরণের লক্ষে বড় বড় সব অবকাঠামো, অর্থনৈতিক সুযোগসুবিধা, শিক্ষা ও চিকিৎসাব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। আর এদের মাথার ওপর বসে রাজধানীকেন্দ্রিক একটি ছোট্ট ধনিক শ্রেণি তৈরি হয়েছে। যারা অসৎ উপায়ে রাষ্ট্রীয় সম্পদ নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নিয়েছে। অথচ প্রকৃত উন্নয়ন হলে তা দেশের সব অঞ্চলে সমানভাবে বিস্তৃত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দেশের শ্রমজীবী শ্রেণি এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে সর্বক্ষেত্রে বঞ্চিত রেখে রাষ্ট্রের ক্ষমতাসীনদের সংস্পর্শে পৌঁছানো ব্যক্তিরা নিজেদের ভাগ্য বদলে নিয়েছে।
এনসিপির জনপ্রত্যাশার বাংলাদেশের ১৭ দফা
ফ্যাসিস্ট যুগে সংঘটিত গুম-খুন, নির্যাতন, মিথ্যা মামলা ও হামলার বিচার, ব্যাংক ও উন্নয়ন প্রকল্প লোপাটের অর্থ উদ্ধার ও বিচার, পররাষ্ট্রনীতিতে নতজানু কূটনীতি থেকে স্বাধীন ও ভারসাম্যপূর্ণ বৈশ্বিক অবস্থান, গণপ্রতিরোধে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত যুব-সমাজ সমর্থিত উচ্চপ্রযুক্তি নির্ভর সশস্ত্র বাহিনী, ন্যায্য বাজারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা, দলীয় বাহিনী ভেঙে জননিরাপত্তার গণসংস্থা গড়ে তোলা, শাসনব্যবস্থার বিকেন্দ্রীকরণ, ভেজাল খাদ্যপণ্য বন্ধ করা, ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুর সংস্কৃতি ও নিজস্বতার প্রতি শ্রদ্ধা, নারীর সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই অব্যাহত রাখা, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে ভবন আছে, ডাক্তার আছে, সেবা নেই- অবস্থার পরিবর্তন, শিক্ষা ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ। কারণ নিবেদিত শিক্ষক ছাড়া মানসম্পন্ন শিক্ষা অসম্ভব। কৃষকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করে খাদ্য নিরাপত্তার নতুন ভিত্তি গড়ে তোলা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুণ্ঠনের মহোৎসব বন্ধ। এ ছাড়া নাগরিক অধিকার, কর্মসংস্থান, ন্যায্য মজুরি ও প্রবাসী শ্রমিকের স্বার্থ অগ্রাধিকার পাবে।