যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আজ বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করবে বাংলাদেশ। নির্বাচনের মাত্র দুই দিন আগে এ চুক্তি করতে যাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার, যা জনমনে অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। কেননা, এ চুক্তির বিষয়বস্তু সম্পর্কে কোনো কিছুই প্রকাশ করেনি সরকার। ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় এ চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্ক আরও কমতে পারে বলে প্রত্যাশা করছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দীন।
জানা গেছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে এ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যাচ্ছেন না বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দীন। যাবেন না বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমানও। চুক্তি সই করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডব্লিউটিও অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব খাদিজা নাজনীনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের বাণিজ্যবিষয়ক আলোচক দল ওয়াশিংটন ডিসিতে রয়েছে। তবে উপদেষ্টা ও সচিব চুক্তি অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত থাকবেন।
অন্যদিকে চুক্তির নানা শর্ত নিয়ে এখনো পরিষ্কার কিছু জানা যায়নি। কারণ, এর আগে চুক্তির সবকিছু গোপন রাখার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট বা এনডিএ সই করেছে বাংলাদেশ।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির বিষয়টি আসে গত বছরের এপ্রিলে। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৫ সালের ২ এপ্রিল ১০০টি দেশের ওপর বিভিন্ন হারে পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। বাংলাদেশের জন্য হারটি ছিল ৩৭ শতাংশ। পরে শুল্ক আরোপ তিন মাসের জন্য পিছিয়ে দেয় যুক্তরাষ্ট্র। ঠিক তিন মাসের মাথায় ২০২৫ সালের ৭ জুলাই বাংলাদেশের ওপর শুল্ক ৩৭ থেকে ৩৫ শতাংশে নামানোর ঘোষণা দেন ট্রাম্প। ফাঁকে চলতে থাকে আলোচনা ও দর কষাকষি। গত বছরের ১৩ জুন দেশটির সঙ্গে একটি এনডিএ সই করে বাংলাদেশ, যেখানে শুল্ক চুক্তি গোপন রাখার বাধ্যবাধকতার কথা বলা হয়।
ওয়াশিংটনে গিয়ে আলোচনা শেষে গত বছরের ২ আগস্ট পাল্টা শুল্কের হার ঠিক হয় ২০ শতাংশ। এ হার ১ আগস্ট কার্যকর হয়। আর আগে থেকেই বাংলাদেশি পণ্যে ছিল ১৫ শতাংশ শুল্ক; সব মিলিয়ে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক রয়েছে ৩৫ শতাংশ। অন্যদিকে চুক্তি অনুসারে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে এরই মধ্যে গম, সয়াবিন তেল, ভুট্টা, তুলাসহ বিভিন্ন ধরনের কৃষিপণ্য; উড়োজাহাজ ও উড়োজাহাজের যন্ত্রাংশ; তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ইত্যাদি আমদানি শুরু করেছে বাংলাদেশ।
শুল্ক কমতে পারে-শেখ বশির উদ্দীন : এদিকে আজকের চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে এ শুল্ক আরও কমতে পারে বলে প্রত্যাশা করছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা। গতকাল সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশি পণ্যে ট্রাম্প প্রশাসন যে বাড়তি ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে, তা কমবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছিলাম যে আরও কত কমানো যায় (শুল্ক); আশা করছি, ৯ তারিখে হতে যাওয়া চুক্তিতে কমবে। তবে কতটুকু কমবে তা এ মুহূর্তে আমি বলতে চাচ্ছি না বা পারছি না। আমরা আলোচনার ভিত্তিতে দেখব।’ অন্যদিকে চুক্তির শর্ত নিয়ে উপদেষ্টা বলেন, চুক্তিতে দেশের স্বার্থবিরোধী কিছু থাকবে না। যুক্তরাষ্ট্রের সম্মতি সাপেক্ষে এটি প্রকাশও করা হবে।
আগামীকাল (আজ সোমবার) যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তি হবে সেখানে কী থাকছে-এমন প্রশ্নের জবাবে বিমান ও বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের ওপরে (যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানিতে) ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল, যেটা আমরা আলোচনা করে ২০ শতাংশে নামিয়েছিলাম, যদি আমাদের এ চুক্তিটা প্রকাশিত না হতো আমার নিশ্চিত বিশ্বাস যে আমরা ২০ শতাংশের চেয়েও কম পেতাম।
দুঃখজনকভাবে আমরা ওখানে বিব্রত হয়েছি। বাংলাদেশই একমাত্র দেশ যেখান থেকে চুক্তির শর্তাবলী সারা দুনিয়ায় প্রকাশিত হয়েছে। আমরা ওভারঅল শুল্ক কমানোর চিন্তা করছি তা নয়, আমাদের প্রচেষ্টা রয়েছে আমাদের যে মূল পণ্য গার্মেন্টস-এই জায়গায় যেন আমাদের শুল্কশূন্য হয়। আমরা সেই প্রচেষ্টায় এখনো রয়েছি।’ শেখ বশির উদ্দীন বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে ১ লাখ কোটি টাকার রপ্তানি সম্ভাবনা রয়েছে। এটা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনাও আছে। এ সম্ভাবনাগুলো কাজে লাগাতে আমরা প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’