বাঙালির অহংকার একুশ। বাঙালিকে সারা বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে শিখিয়েছে এই একুশ। এর সঙ্গেই মিশে আছে বাঙালির অস্তিত্ব। ভাষার মাসের বিশেষ আয়োজনে বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে কথা বলেছেন রোদেলা প্রকাশনীর রিয়াজ খান। ভাষার বিবর্তন নিয়ে তিনি বলেন, চর্যাপদ থেকে শুরু করে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ভাষা বিবর্তিত হয়ে আসছে, ভবিষ্যতেও হবে। এটা চলমান প্রক্রিয়া। সাহিত্যে কোন ধারার পাঠক বেশি- এমন প্রশ্নের উত্তরে এই প্রকাশক বলেন, বাংলা সাহিত্যের পাঠকদের মধ্যে বিভিন্ন শ্রেণিভেদ রয়েছে, যেমন- বোদ্ধা/রুচিশীল পাঠক যে ধরনের সাহিত্য পাঠ করে, বর্তমান তরুণ প্রজন্মের অনেকেই সেই সাহিত্যের কাছাকাছি নেই। এরা থ্রিলার, সায়েন্সফিকশন, মোটিভেশনাল বইয়ের প্রতি বেশি আগ্রহী। আগের তুলনায় মৌলিক সাহিত্যের প্রতি তরুণ প্রজন্মের আগ্রহ অনেকটা কম। তবে তরুণদের মধ্যে বিজ্ঞান, নন ফিকশন, মৌলিক থ্রিলারের প্রতি আগ্রহ বেশি।
বাংলা ভাষার আন্তর্জাতিকীকরণের বিষয়ে রিয়াজ খান বলেন, বাংলা ভাষার আন্তর্জাতিকীকরণে দৃশ্যমান অগ্রগতি চোখে পড়ার মতো নয়। সরকার সেভাবে উদ্যোগ নিতে পারেনি বলে ভাষার আন্তর্জাতিকীকরণ সেভাবে ঘটেনি। সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকেও এগিয়ে আসতে হবে। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট নামে সরকারি যে প্রতিষ্ঠান আছে সেই প্রতিষ্ঠানের দৃশ্যমান কোনো কার্যক্রম লক্ষ করা যাচ্ছে না। মোটকথা অবহেলার মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষা এগিয়ে যাচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলা ভাষার বিকাশ সেভাবে ঘটেনি।
ভাষার ভবিষ্যৎ নিয়ে এই প্রকাশক বলেন, আধুনিক বাংলা ভাষার ভবিষ্যতের ব্যাপারে সরকার উদাসীন। সরকার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করলে ভাষার ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হবে বলে আশা করছি। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সাহিত্যের মূলধারাকে শক্তিশালী করতে প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকেই পাঠ্যক্রমে মূলধারার সাহিত্যের সঙ্গে পর্যায়ক্রমে পরিচিত করতে হবে। শুদ্ধ বাংলার চর্চার বিষয়ে রিয়াজ খান বলেন, শুদ্ধ বাংলার চর্চা এখন তলানিতে। এখনো সময় আছে শুদ্ধচর্চার জন্য শিশুদের কবিতা আবৃত্তি, শুদ্ধ বাংলা গান ও ওদের উপযোগী সাংস্কৃতিক চর্চার আয়োজন বাধ্যতামূলক করার। তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবের পর থেকে বিভিন্ন মত-পথের পাঠক রাজনৈতিক মতাদর্শে বিভক্ত। ’৪৭, ’৫২, ’৭১ নিয়ে ভিন্নতা রয়েছে। সুতরাং পাঠকের চাহিদা অনুযায়ী প্রকাশনার প্রসার ঘটে।
একুশ নিয়ে প্রকাশনা কম কেন- এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, মানসম্মত পাণ্ডুলিপি সংকট ও পাঠক সংকটের কারণে প্রকাশকদের মধ্যে একুশের বই নিয়ে আগ্রহ কম। তবে একজন প্রকাশক হিসেবে আমিও চাই একুশ নিয়ে প্রকাশনা বাড়ুক।