প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে দেশ পাল্টে যাবে এবং অপশাসন আর ফিরে আসবে না। সামনে যে নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, তা দেশের রাজনৈতিক কাঠামোয় এক অভূতপূর্ব পরিবর্তন নিয়ে আসবে। তিনি বিগত আমলের নির্বাচনগুলোকে ‘ফেক’ হিসেবে অভিহিত এবং এবারের ভোটকে ঐতিহাসিক ও স্বচ্ছ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। গতকাল সকালে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে সচিবদের সঙ্গে এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। পরে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্য তুলে ধরেন প্রেস সচিব শফিকুল আলম। প্রেস সচিব জানান, গেট টুগেদার অনুষ্ঠানে সিনিয়র সচিব, সচিবসহ প্রায় ৭০ জন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে প্রধান উপদেষ্টা সীমিত পরিসরে বক্তব্য দেন এবং পরে সচিবদের সঙ্গে ছবি তোলেন।
প্রেস সচিব বলেন, উনি বিগত আমলে নির্বাচনগুলো কীভাবে হতো সে বিষয়ে বলেছেন। তিনি সবগুলোকেই ‘ফেক ইলেকশন’ হিসেবে অভিহিত করেন। প্রধান উপদেষ্টা সচিবদের জানান, এবারের নির্বাচন সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণ হবে। ইতোমধ্যে আমরা লক্ষ্যে পৌঁছে গেছি। নির্বাচন রাজনৈতিক কাঠামোর মধ্যে অভূতপূর্ব পরিবর্তন নিয়ে আসবে। এবারের নির্বাচনে প্রবাসীদের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্তিকে একটি বড় অর্জন হিসেবে বর্ণনা করেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে প্রবাসীদের ভূমিকা যেমন বলিষ্ঠ ছিল, রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় তাদের অন্তর্ভুক্তি দেশের রাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। অধ্যাপক ইউনূস বলেন, নানা দেশ থেকে বিপুলসংখ্যক নির্বাচন পর্যবেক্ষক বাংলাদেশে আসছেন। এটি প্রমাণ করে যে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ওপর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থা ফিরে এসেছে। একই সঙ্গে এটি প্রতিফলন করে যে তারা বাংলাদেশের এই নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছে।
ড. ইউনূস বলেন, শেখ হাসিনার আমলের ওই নির্বাচনগুলোর কোনো জনভিত্তি ছিল না, এমনকি আন্তর্জাতিক মানের কোনো পর্যবেক্ষকও তখন আসেনি। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। এখন পর্যন্ত নির্বাচনি প্রচারণায় বড় কোনো উত্তেজনার খবর নেই। রাজনৈতিক দলগুলো অত্যন্ত দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে এবং শান্তিপূর্ণভাবে গণসংযোগ চালাচ্ছে।
প্রধান উপদেষ্টা সচিবদের জানান, নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে এবার আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করা হচ্ছে। ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণের জন্য ২৫ হাজার ৭০০ বডি-ওর্ন ক্যামেরা এবং সব কেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপন করা হয়েছে। ভোটারদের সুবিধার্থে ‘নির্বাচন’ ও ‘নির্বাচন বন্ধু’ অ্যাপ চালু করা হয়েছে। ড. ইউনূস আশা প্রকাশ করেন, প্রযুক্তির এই ব্যবহার নির্বাচনকে অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য করবে। প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, জাপানের সঙ্গে করা ইপিএ চুক্তি আমাদের অর্থনীতির জন্য নতুন দুয়ার খুলে দেবে। ভবিষ্যতে আরও দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করা হবে, যা দেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। বিগত ১৮ মাসে রাষ্ট্র সংস্কারে সচিবদের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন প্রধান উপদেষ্টা।