জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, ‘নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কিছু কার্যক্রম আমাদের মনে হয় যে প্রভাবিত হয়ে তারা করেন। যেমন একটি দলের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিএনসিসিকে কেন্দ্রে না রাখার বিষয়ে এক ধরনের কথা শুনেছিলাম।’ গতকাল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে ১১-দলীয় জোটের প্রতিনিধিদলের বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘সিইসি বলেছেন তাঁরা এটা পুনর্বিবেচনা করছেন এবং আমাদের এটা স্পষ্ট দাবি থাকবে যে বিএনসিসি যেন কেন্দ্রে থাকে। যেহেতু এবারের নির্বাচনটা একটু ভিন্নভাবে হতে যাচ্ছে, সে ক্ষেত্রে অতিরিক্ত জনবল থাকলে সেটা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে কাজে দেবে।’ প্রশাসনিক রদবদলের ক্ষেত্রে ইসি বিএনপির সুপারিশ অনুযায়ী কাজ করেছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘প্রশাসনিক রদবদলের ক্ষেত্রে যেটা একটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে হওয়ার কথা ছিল, আমরা দেখছি একটি দলকে হয়তো বিশেষ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। সেটা আপনারা এমন পর্যায়েও দেখেছেন যে একটি নির্দিষ্ট দলের প্রার্থী ইচ্ছা পোষণ করলে সঙ্গে সঙ্গে ওইদিন বা পরের দিনের মধ্যেই অফিসার সেখান থেকে প্রত্যাহার হয়ে যাচ্ছেন।’ আসিফ মাহমুদ আরও বলেন, ‘আমাদের আরেকটা অভিজ্ঞতা হয়েছে, সেটা হচ্ছে যখন আমাদের প্রার্থীরা বিভিন্ন কর্মকর্তার বিষয়ে অভিযোগ করেছেন লিখিতভাবে নির্বাচন কমিশনে, সেটার আর কোনো জবাব পাওয়া যাচ্ছে না।’ প্রশাসন বিএনপির পক্ষে কাজ করছে ইঙ্গিত দিয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘আমরা কিছু জায়গায় দেখেছি কিছুসংখ্যক কর্মকর্তা নির্বাচনে সংশ্লিষ্ট, সেটা পুলিশে আছেন, জনপ্রশাসনের কর্মকর্তারা আছেন, মাঠপর্যায়ে তাঁরা কিছু অস্বাভাবিক আচরণ করছেন এবং তাঁরা অনেক ক্ষেত্রে ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন বা নির্দিষ্ট কোনো দলে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে চাপ প্রয়োগ করছেন।
বিভিন্ন ব্যবসায়ী গ্রুপকে তাঁরা কল দিয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। তার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা নির্বাচন কমিশনকে ইতোমধ্যে কিছু নির্দিষ্ট কর্মকর্তাকে অপসারণ এবং পরিবর্তনের বিষয়ে বলেছি।’
ভোট কেন্দ্রে ফোন নিষিদ্ধের নির্দেশনা ‘বিস্ময়কর’ : ১১-দলীয় জোট
ভোট কেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধের নির্দেশনাকে ‘বিস্ময়কর’ অভিহিত করে ‘হুট করে’ এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত না নিতে ইসির প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোট। গতকাল প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এ আহ্বান জানানোর কথা বলেছেন জোটের নেতারা।
ভোট কেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধের নির্দেশনা পাঠিয়ে রবিবার নির্বাচন কমিশন রিটার্নিং কর্মকর্তাদের বলেছে, ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোট কেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে ফোন নিয়ে যাওয়া যাবে না।
কেবল দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিসাইডিং অফিসার, কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ ইনচার্জ, দায়িত্বপ্রাপ্ত আনসার, সাধারণ আনসার বা ভিডিপির ‘নির্বাচন সুরক্ষা ২০২৬’ অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহারকারী দুজন সদস্য ফোন রাখতে পারবেন। ইসির এমন নির্দেশনায় সমাজমাধ্যমের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সাংবাদিক সংগঠন থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া আসে।
গতকাল দুপুরে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সিইসির সঙ্গে সাক্ষাতের পর জামায়াতে কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘হঠাৎ একটি নির্দেশনা দেখলাম ভোট কেন্দ্রে মোবাইল ফোন ব্যবহার নিয়ে। এটা জানার পরই সর্বস্তরে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা দেখা গেছে। ইসি জানিয়েছে, তারা প্রত্যাহার করেছে এ সিদ্ধান্ত। জনগণ ও দেশবাসীর চাপের মুখেই আমরা ইসির মোবাইলের বিধিনিষেধের এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছি।’