এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারা দেশে কয়েক স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা সাজিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। রেড, ইয়েলো ও হোয়াইট- এ তিন জোনে ভাগ করে সাজানো হয়েছে নির্বিঘ্ন নিরাপত্তার ছক। ঢাকা মহানগরের ২ হাজার ১৩১টি ভোট কেন্দ্রে প্রায় ২৫ হাজার পুলিশ মোতায়েন করবে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। একই সঙ্গে সোয়াট, বোম্ব ডিসপোজাল টিম, ক্রাইম সিন ভ্যান ও অশ্বারোহী পুলিশ মোতায়েন থাকবে বলেও জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। সারা দেশে আনসার-ভিডিপির প্রায় ৫ লাখ ৫৬ হাজার ১২৭ সদস্য নির্বাচনি দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন, যার সর্বোচ্চ অংশ ঢাকায় মোতায়েন করা হয়েছে ২৭ হাজার ৭০৩ সদস্য। এদিকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ একটি পেশাদার, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও রাজনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ বাহিনী হিসেবে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে অর্পিত সব দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। এ ছাড়া আনসার ও গ্রাম প্রতিক্ষা বাহিনীর (ভিডিপি) সদস্যদের ভোট কেন্দ্রে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ। গতকাল ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ঢাকা মহানগর এলাকায় ২ হাজার ১৩১টি ভোট কেন্দ্র রয়েছে। ভোট কেন্দ্রের অবস্থান, ভোটার সংখ্যা ও নিরাপত্তা বিবেচনায় কেন্দ্রগুলোকে দুটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ ১ হাজার ৬১৪টি ভোট কেন্দ্রে চারজন করে এবং সাধারণ ৫১৭টি ভোট কেন্দ্রে তিনজন করে পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। এ ছাড়া আমরা ৩৭টি ভোট কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছি। এসব কেন্দ্রে সাতজন করে পুলিশ সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। ডিএমপি কমিশনার বলেন, এ নির্বাচনে আমরা সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে এমন একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করব, যা ভবিষ্যতের জন্য অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে। ভোট কেন্দ্রের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। একাধিক ভোট কেন্দ্র নিয়ন্ত্রণে থাকবে ১৮০টি স্ট্রাইকিং টিম ও ৫১০টি মোবাইল টিম। পাশাপাশি ঢাকা মহানগরের আটটি বিভাগে আটটি কন্ট্রোল রুম এবং চারটি বিশেষ কন্ট্রোল রুম থাকবে। সুবিধাজনক স্থানে স্পেশাল রিজার্ভ ফোর্স মোতায়েন করা হবে। ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সরাসরি তত্ত্বাবধানে এসব ফোর্স বেছে বেছে মোতায়েন করা হবে। এ ছাড়া সোয়াট, বোম্ব ডিসপোজাল টিম, ক্রাইম সিন ভ্যান ও অশ্বারোহী পুলিশ মোতায়েন থাকবে।
তিনি নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, নিশ্চিন্তে, নির্ভয়ে ও নির্বিঘ্নে ভোট কেন্দ্রে এসে সুশৃঙ্খলভাবে আপনারা নাগরিক অধিকার প্রয়োগ করুন। নতুন বাংলাদেশ গড়ার এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে সবাই সম্মিলিত অবদান রাখুন। নির্বাচনে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা বিষয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, আমাদের সার্বিক নিরাপত্তা পরিকল্পনার মধ্যে সাংবাদিক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, সবাই অন্তর্ভুক্ত। তিন কোটি ঢাকাবাসী এ পরিকল্পনার আওতায়। কারও নিরাপত্তাহানির আশঙ্কা নেই। গতকাল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য চট্টগ্রাম-৬ এবং চট্টগ্রাম-২ আসনের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় স্থাপিত বিজিবির নির্বাচনি বেইজ ক্যাম্প পরিদর্শন করেন বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী।
এ সময় তিনি বেইজ ক্যাম্পে নির্বাচনি দায়িত্বে নিয়োজিত বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং পেশাদারিত্ব, নিষ্ঠা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে নির্বাচনি দায়িত্ব পালনের বিষয়ে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ একটি পেশাদার, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও রাজনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ বাহিনী হিসেবে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে অর্পিত সব দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত। ভোটাররা যেন নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও শঙ্কামুক্ত পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন সে লক্ষ্যে বিজিবি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করবে।
গতকাল সকালে রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর নির্বাচনি প্রস্তুতিমূলক সমাবেশ হয়। এসময় বাহিনীর মহাপরিচালক বলেন, সন্ত্রাসীদের চাপ থাকলে ভয় পাওয়া যাবে না। সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। বিশৃঙ্খলা হলে কোনোভাবেই ভোট কেন্দ্র ছাড়া যাবে না। সারা দেশে আনসার-ভিডিপির প্রায় ৫ লাখ ৫৬ হাজার ১২৭ সদস্য নির্বাচনি দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন, যার সর্বোচ্চ অংশ ঢাকায় মোতায়েন করা হয়েছে ২৭ হাজার ৭০৩ সদস্য। প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে ১৩ জন করে প্রশিক্ষিত সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
নিরপেক্ষভাবে ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, উসকানি প্রতিহত করা এবং প্রযুক্তিনির্ভর রিপোর্টিং ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয় সমাবেশে। দেশের মানুষকে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর নির্বাচন উপহার দেওয়ার অঙ্গীকারও করেন আনসার মহাপরিচালক।