বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারস্পরিক শুল্ক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে গতকাল রাতে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এতে চূড়ান্তভাবে বাংলাদেশের ওপর আরোপিত পাল্টা শুল্কের হার ১ শতাংশ কমিয়ে ১৯ শতাংশ করা হয়েছে।
অবশ্য আগে থেকেই বাংলাদেশি পণ্যে মার্কিন শুল্ক ছিল ১৫ শতাংশ। সব মিলিয়ে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক হলো ৩৪ শতাংশ। তবে দেশটি থেকে আমদানি করা তুলা ও কৃত্রিম তন্তু দিয়ে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে রেসিপ্রোকল ট্যারিফ বা পাল্টা শুল্ক শূন্য করা হয়েছে বলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ভার্চুয়ালি এ চুক্তি সই হয়। এতে বাংলাদেশের পক্ষে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে জেমিসন গ্রিয়ার স্বাক্ষর করেন। অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিকবিষয়ক বিশেষ সহকারী লুৎফে সিদ্দিকী ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান। চুক্তি সই অনুষ্ঠানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডব্লিউটিও অনু বিভাগের অতিরিক্ত সচিব খাদিজা নাজনীনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের বাণিজ্যবিষয়ক আলোচক দল ওয়াশিংটন ডিসিতে উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে চুক্তির নানা শর্ত নিয়ে এখনো পরিষ্কার কিছু জানা যায়নি। কারণ এর আগে চুক্তির সবকিছু গোপন রাখার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট বা এনডিএ সই করেছে বাংলাদেশ। আজ এ বিষয়ে ব্রিফিং করার কথা রয়েছে। এ চুক্তির ফলে যুক্তরাষ্ট্র একটি বিশেষ ব্যবস্থা চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত তুলা ও মানবসৃষ্ট ফাইবার ব্যবহার করে তৈরি বাংলাদেশের নির্দিষ্ট কিছু টেক্সটাইল ও পোশাক পণ্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শূন্য শুল্কে রপ্তানির সুবিধা পাবে।
বাংলাদেশের পক্ষে আলোচনার নেতৃত্বদানকারী জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান বলেন, ‘২০ শতাংশ থেকে শুল্কহার কমে ১৯ শতাংশ হওয়ায় আমাদের রপ্তানিকারকরা আরও সুবিধা পাবেন। পাশাপাশি নির্দিষ্ট পোশাক পণ্যে শূন্য শুল্ক সুবিধা বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে নতুন গতি সঞ্চার করবে।’
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এ চুক্তির বিষয়টি সামনে আসে গত বছরের এপ্রিলে। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৫ সালের ২ এপ্রিল ১০০ দেশের ওপর বিভিন্ন হারে পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। বাংলাদেশের জন্য হার ছিল ৩৭ শতাংশ। পরে শুল্ক আরোপ তিন মাসের জন্য পিছিয়ে দেয় যুক্তরাষ্ট্র। ঠিক তিন মাসের মাথায় ৭ জুলাই বাংলাদেশের ওপর শুল্ক ৩৭ থেকে ৩৫ শতাংশে নামানোর ঘোষণা দেন ট্রাম্প। এর ফাঁকে চলতে থাকে আলোচনা ও দর-কষাকষি। এর মধ্যে ১৩ জুন দেশটির সঙ্গে একটি এনডিএ সই করে বাংলাদেশ, যেখানে শুল্ক চুক্তি গোপন রাখার বাধ্যবাধকতার কথা বলা হয়।
ওয়াশিংটনে গিয়ে আলোচনা শেষে গত বছরের ২ আগস্ট পাল্টা শুল্কের হার ঠিক হয় ২০ শতাংশ। এ হার ১ আগস্ট থেকে কার্যকর হয়। আর চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের সময় তা এক শতাংশ কমিয়ে ১৯ শতাংশ করা হয়েছে গতকাল।