বাঙালির গর্ব ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি। একুশের শহীদদের রক্তে কেনা এই ভাষা বাঙালিকে বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে শিখিয়েছে। ভাষার মাসে বাংলাদেশ প্রতিদিনের বিশেষ আয়োজনে কথা বলেছেন প্রকাশনা সংস্থা সৃজনীর স্বত্বাধিকারী মশিউর রহমান। ভাষার বিবর্তন নিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলা ভাষা ও সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনার কারণে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রতি আগ্রহের কারণে আমি সবসময় ভাষাভিত্তিক বই পড়াশোনায় আলাদা টান অনুভব করি। আমার মতে যেকোনো ভাষার অভিধান কখনো নির্ধারিত হতে পারে না। বাংলা ভাষা তো একেবারেই নয়। এখানে প্রতিনিয়ত নতুন শব্দ যোগ হয়। আর বাংলা ভাষার বড় একটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে-এই ভাষা যেকোনো বিদেশি ভাষার শব্দ নিজের মতো করে ধারণ করতে পারে। এখন যেমন আমরা চেয়ার-টেবিল-এই জাতীয় শব্দগুলোকে বিদেশি ভাষা হিসেবে মনেই করি না। এ ছাড়া আরবি, ফারসি, ফরাসি, সংস্কৃতিসহ নানান ভাষার শব্দ অ্যাডপটেশন হয়েছে। একসময় সাধু ভাষায় লেখাপড়া দুটিই চলত। এখন চলতি ভাষা ছাড়া লেখা এবং কথা বলা কোনোটাই কল্পনা করতে পারি না। এমনিভাবে কাব্যসাহিত্য, কথাসাহিত্য এবং নাট্যসাহিত্য এই শতাব্দীতে ব্যাপক পরিবর্তন বাংলা ভাষা ধারণ করেছে।’ সাহিত্যের কোন ধারার পাঠক-এ বিষয়ে জানতে চাইলে মশিউর রহমান বলেন, এখনো মানুষ উপন্যাস ও ছোটগল্প পড়তে ভালোবাসে। তবে বর্তমানে কলামধর্মী লেখার পাঠকও কম নয়। আর কবিতার প্রতি বাঙালির আজন্মের আসক্তি। জুলাই অভ্যুত্থানের পর তরুণরা বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে পড়াশোনায় আগ্রহী হয়েছে। তবে আজও পথের পাঁচালী, শেষের কবিতা, দেবদাস, পুতুলনাচের ইতিকথার প্রতি তরুণদের বিশেষ আসক্তি রয়েছে। বাংলা ভাষার আন্তর্জাতিকীকরণের বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলা ভাষার আন্তর্জাতিকীকরণ না হওয়ার পেছনে সরকার দায়ী। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে ভাষার আন্তর্জাতিকীকরণ যেভাবে হওয়ার দরকার সেভাবে হচ্ছে না। এ বিষয়ে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা জরুরি। ভাষার শুদ্ধতা নিয়ে তিনি বলেন, যে ভাষায় মানুষ তার মনের ভাব প্রকাশ করে সেটাই তার কাছে শুদ্ধ ভাষা। তবে ভাষার একটি সৌন্দর্য, মাধুর্য এবং উচ্চমার্গীয় প্রকাশ আছে। বাংলা ভাষায় এই প্রকাশ সব সময় ছিল। ভবিষ্যতেও ভালোভাবে থাকবে। একুশের প্রকাশনা নিয়ে প্রকাশকদের মধ্যে আগ্রহ নেই। একুশের প্রকাশনা সব সময় অপ্রতুল কেন-এমন প্রশ্নের জবাবে এ প্রকাশক বলেন, ‘একেবারে অপ্রতুল বলব না। প্রচুর ভালো ভালো বই প্রকাশিত হয়েছে। আমার মনে হয় আমাদের পূর্ববর্তী লেখকরা একুশে ফেব্রুয়ারি নিয়ে অনেক লেখা প্রকাশ করেছেন। “আরেক ফাল্গুন” বইয়ের নাম জানে না এমন পাঠক খুব কমই আছে। তবে একুশের চেতনা নদীর স্রোতের মতো চলমান। এ চেতনা বাঙালি তথা বাংলা ভাষীরা আজীবন লালন করে যাবেন।’