নতুন সরকার গঠনের পরপরই নিজের পেশাগত জীবনে ফিরে যাবেন বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দীন। তিনি বলেন, ‘আমি আগে কখনো কোনো যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় ছিলাম না। আবারও সেই নিরিবিলি জীবনে ফিরে যেতে চাই। আমার ভুলত্রুটি থাকতেই পারে, সেজন্য ক্ষমা করবেন। তবে একটি শেষ অনুরোধ-আমাকে দয়া করে ভুলে যাবেন।’ গতকাল সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
শেখ বশির উদ্দীন বলেন, ‘সরকারে আসার সময় আমার তেমন কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না। তবে চেষ্টার কোনো কমতি রাখিনি। আল্লাহর রহমতে সৎভাবে কাজ করার চেষ্টা করেছি। কারও প্রতি বৈষম্য বা স্বজনপ্রীতি করিনি। সম্মিলিতভাবে আল্লাহ তায়ালা বরকত দিয়েছেন। প্রধান উপদেষ্টার দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতায় দায়িত্ব পালন করতে পেরেছি। কোনো বিষয়ে যখনই পরামর্শ বা নির্দেশনার প্রয়োজন হয়েছে, তখনই তিনি আন্তরিকতা ও প্রজ্ঞার সঙ্গে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। যত কিছু সম্ভব হয়েছে আমি মনে করি প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনায়। আমরা যখনই কোনো বিষয়ে উনার নির্দেশনা বা গাইডেন্স চেয়েছি উনি সব সময় অসম্ভব দরদ এবং বুদ্ধিমত্তা দিয়ে আমাদের নির্দেশনা দিয়েছেন। আমরা সেগুলো প্রতিপালনের চেষ্টা করেছি।’
এ সময় তিনি বলেন, ‘ছোট খামারি ও বড় উদ্যোক্তা উভয় পক্ষকেই অন্তর্ভুক্ত রেখে সরকার একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক নীতির পথে এগিয়েছে। এ নীতির মূল লক্ষ্য ছিল কাউকে বাদ না দিয়ে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এগোনো।’ ভবিষ্যতেও তাঁর উত্তরসূরিরা একই ধারাবাহিকতায় কাজ করবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। বিভিন্ন প্রশ্ন ও অনুসন্ধানের মাধ্যমে সাংবাদিকরা তাঁকে জবাবদিহির মধ্যে রেখেছেন। এতে তাঁর কাজের গতি যেমন বেড়েছে, তেমন যেসব জায়গায় ভুল ছিল, সেগুলো সংশোধনের সুযোগও তৈরি হয়েছে।
শেখ বশির উদ্দীন বলেন, ‘ইনশাল্লাহ নতুন সরকার গঠন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমি আমার কর্মজীবনে ফিরে যাব। আশা করি আপনারা আমাকে ভুলে যাবেন এবং মাফ করে দেবেন।
আমি ভুলে থাকতে চাই। আপনাদের মাধ্যমে একটি সনির্বন্ধ অনুরোধ করতে চাই, শেষ অনুরোধ-দয়া করে আমাকে ভুলে যাবেন।’