টানা ২০ দিনের জমজমাট প্রচার শেষ হয়েছে গতকাল। বড় ধরনের সহিংসতা, গোলযোগ ছাড়াই প্রার্থীদের প্রচার শেষ হওয়ায় ভোটের পথে স্বস্তি বিরাজ করছে নির্বাচন কমিশনে। তফসিল ঘোষণার পর থেকে দুই মাসের নির্বাচনি ট্রেন স্টেশনে পৌঁছবে, স্বতঃস্ফূর্ত ভোটারের উপস্থিতিতে এমন প্রত্যাশা এ এম এম নাসির উদ্দিন নেতৃত্বাধীন ইসির। নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ, শঙ্কা উতরে ভোটের এ যাত্রাকে সফলতা হিসেবে দেখছেন নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে হবে। তফসিল ঘোষণার পর থেকে এ পর্যন্ত আচরণবিধি লঙ্ঘন নিয়ে সাড়ে তিন শতাধিক অভিযোগ পেয়েছে ইসি, অর্ধেকই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া স্থানীয়ভাবে ৪৫০ আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগের বিষয়ে প্রায় ৩২ লাখ টাকা জরিমানা ও ২১২টি মামলা হয়েছে। নির্বাচনি প্রচারে সব প্রার্থীই কোনো না কোনোভাবে আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-টিআইবি। দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটি বলছে, আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়গুলো দেখলেও ‘সক্ষমতার ঘাটতি থাকায়’ নির্বাচন কমিশন বিষয়গুলো এড়িয়ে যাচ্ছে। নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, অনলাইন ও অফলাইন প্রচারসহ নির্বাচনের প্রায় প্রতিটি স্তরে দল এবং প্রার্থীরা আচরণবিধির ব্যাপক লঙ্ঘনসহ বিবিধ অনিয়ম করলেও নির্বাচন কমিশন সক্ষমতার ঘাটতির কারণে এড়িয়ে যাচ্ছে। ভোটের প্রচার শেষের প্রাক্কালে সার্বিক পরিস্থিতির মূল্যায়নে নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, আমরা খুবই আশাবাদী। এত ভালো পরিবেশ থাকবে এটা আমাদের আশা ছিল না; এটা আমাদের প্রত্যাশারও বেশি। তিনি বলেন, ‘এবারের নির্বাচনের ইতিবাচক দিক হলো মাঠে, গ্রামেগঞ্জে সাড়া পড়েছে সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে। মানুষের মধ্যে যেরকম উৎসাহ-উদ্দীপনা আগ্রহ, বিশেষ করে তরুণ এবং মহিলাদের মধ্যে। এতে ইচ্ছা করলেই কেউ কোনো কারচুপি করবে, দুর্নীতি করবে তা পারবে না। এবার কিন্তু সবাই সজাগ। যেহেতু যুব সম্প্রদায় সচেতন, সুতরাং কেউ কোনো কিছু করে পার পাবে না। ভোটে দলের অংশগ্রহণ বাড়ায় নজরদারিও বাড়ছে বলে জানান তিনি। আর নির্বাচনটা যেহেতু সব দলই অংশগ্রহণ করছে। সবাই তো সবার প্রতি একটা তীক্ষè নজরদারির মধ্যে রাখছে। এবার সংসদ ও গণভোটকে কেন্দ্র করে সাড়া পড়ায় কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি তুলনামূলক বাড়বে বলে মনে করেন এ নির্বাচন কমিশনার। তফসিল ঘোষণার পরদিন ঢাকায় ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির গুলিবিদ্ধ ও এক সপ্তাহের মাথায় মৃত্যুর ঘটনা এবং শেরপুর-৩ আসনে অসুস্থ হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জামায়াতের নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যু হয়েছে ভোটের সপ্তাহখানেক আগে। দুটো ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে এ নির্বাচন কমিশনার বলেন, এ দুটো ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত। তারপরও এরকম একটা গণ অভ্যুত্থানের পর এ অবস্থাটা আমরা পেয়েছি; সব কিছুতে সন্তুষ্ট বলা যায়। আওয়ামী লীগ ছাড়া ‘অংশগ্রহণমূলক’ ভোটের এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘আমাদের নজরে আসছে, সোশ্যাল মিডিয়া, বিভিন্ন গণমাধ্যমে আমরা দেখতেছি। কিন্তু এ পর্যন্ত অনেক কিছুই তো আলোচনা সমালোচনা হচ্ছে। আবার দেখা যায় যে প্রত্যেকটা কাজেই চ্যালেঞ্জ ছিল। নির্বাচন কমিশন প্রত্যেকটা চ্যালেঞ্জকে ওভারকাম করছে। আমাদের সার্বিক প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে, প্রস্তুতি খুব শক্ত মজবুত। আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘আমরা আশাবাদী। যে যাই বলুক না কেন, যার যার মতো করে চিন্তা করছে, যার যার মতো আশঙ্কা করছে, আশা করি এগুলো মিথ্যা প্রমাণিত হবে।’