বিশ্বের ১৮২টি দেশের মধ্যে সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ১৩তম বলে জানিয়েছে বার্লিনভিত্তিক দুর্নীতিবিরোধী আন্তর্জাতিক সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই)। দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে বাংলাদেশের স্কোর ২৪ এবং একই স্কোর নিয়ে সঙ্গে আছে আফ্রিকান রিপাবলিক ও প্যারাগুয়ে। গত বছরের চেয়ে এবার ১ পয়েন্ট উন্নতি হলেও সামগ্রিক র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ এক ধাপ পিছিয়েছে। ২০২৪ সালে সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৪তম। গতকাল রাজধানীর ধানমন্ডিতে মাইডাস সেন্টারে দুর্নীতির ধারণা সূচক (সিপিআই)-২০২৫ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে টিআইবি নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এ তথ্য জানান। এসময় টিআইবির নির্বাহী ব্যবস্থাপনা ড. সুমাইয়া খায়ের, বহির্বিভাগ এবং যোগাযোগ বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম ও গবেষণা পরিচালক মোহাম্মদ বদিউজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এ বছর ৮৯ স্কোর নিয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকার শীর্ষে আছে ডেনমার্ক, ৯ স্কোর নিয়ে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকার শীর্ষে আছে দক্ষিণ সুদান ও সোমালিয়া। ১৮২টি দেশের মধ্যে ১০০-এর মধ্যে ২৪ স্কোর নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩তম এবং উচ্চক্রম অনুযায়ী অবস্থান ১৫০তম।
টিআইবি মনে করছে, এ বছর বাংলাদেশের এক পয়েন্ট স্কোর বৃদ্ধির পেছনে জুলাই অভ্যুত্থানের ফলে সূচিত গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক সুশাসন অর্জনে অব্যবহিত ইতিবাচক সম্ভাবনার প্রভাব কাজ করেছে। তবে রাষ্ট্রসংস্কার প্রক্রিয়ার পরবর্তী বাস্তবতার প্রতিফলন-সংশ্লিষ্ট তথ্যসূত্রের মেয়াদভুক্ত ছিল না। তাই রাষ্ট্রসংস্কার প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি না হওয়ায় আদতে বাংলাদেশের স্কোর ও অবস্থানের খুব একটা ইতিবাচক পরিবর্তন হয়নি। এবার কোনো দেশ শতভাগ স্কোর করতে পারেনি। বিশ্বের ৮০ শতাংশ মানুষ বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত দেশে বসবাস করে। বৈশ্বিকভাবে দুর্নীতির ব্যাপকতা বাড়ছে। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে চোরতন্ত্র ব্যাকফুটে রয়ে গেছে, এটির পতন করা সম্ভব হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের যে দায়িত্ব ছিল, সেটি পালনে তারা অনেকটাই ব্যর্থ হয়েছে। যে সংস্কারগুলোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, সেগুলো বাস্তবায়নে অনেক ক্ষেত্রেই ধীর গতি দেখা গেছে। গণ অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে শ্রীলঙ্কা বিশ্বজুড়ে দুর্নীতির ধারণাসূচকে (সিপিআই) ৩ পয়েন্ট উন্নতি করতে সক্ষম হলেও বাংলাদেশ সেখানে ব্যর্থ হয়েছে। স্কোরের দিক দিয়ে আমরা যে ১ পয়েন্ট উন্নতি করেছি সেটি দুর্নীতি কমার কারণে নয়, বরং জুলাই আন্দোলনের ফল। কেননা আন্দোলনটি চোরতন্ত্রের বিরুদ্ধে ছিল। তাই সেটির মূল্যায়নে সিপিআই স্কোর ১ পয়েন্ট বেড়ে ২৪ হয়েছে। ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আমরা চোরতন্ত্রের জন্য দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না। আমাদের মতো দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের জন্য বিশ্বের অনেক দেশে উন্নতি হয়। এতে সিঙ্গাপুরের মতো দেশগুলো এগিয়ে যায়। আমরা ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর যে দলবাজি-দখলদারি দেখেছি, তাতে স্পষ্ট যে দুর্নীতির হাতবদল হয়েছে মাত্র, দমন হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান দুটি দায়িত্ব ছিল রাষ্ট্র সংস্কার ও দুর্নীতি প্রতিহত করা। দুটি ক্ষেত্রেই তারা ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। তারা তাদের নিজেদের পছন্দে জোর দিয়েছেন, অন্য কারও মতামতের মূল্যায়ন করেনি।