অমর একুশের শানিত চেতনা ও বাংলা ভাষা পরিপূরক শব্দ। ভাষা শহীদদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এ ভাষা বাঙালির গর্বের বড় অংশ। ভাষার মাসে বাংলাদেশ প্রতিদিনের বিশেষ আয়োজনে কথা বলেছেন নওরোজ সাহিত্য সম্ভারের স্বত্বাধিকারী ইফতেখার রসুল জর্জ।
ভাষার বিবর্তন নিয়ে তিনি বলেন, ভাষা তার নিজস্ব গতিতে বিবর্তনের দিকে এগিয়ে গেছে। বাংলা অনেক প্রাচীন ভাষা। আমরা যে বিদ্যাসাগরীয় আমলের বাংলা ভাষায় পড়ালেখা করতাম তাতে বেশ পরিবর্তন এসেছে। সে ক্ষেত্রে আমি প্রমিত বাংলা ভাষার কথা বলতে পারি। এ সময় অনেকে এর নিজস্ব লেখ্য ও পঠন রীতিও ব্যবহার করছেন। এটা আজকের পাঠকের জন্য বোধে সহজতর হয়েছে। বাংলা সাহিত্যে কোন ধারার পাঠক বেশি এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম ও সেই সময়ে আর যাঁরা বিখ্যাত ছিলেন তাঁদের লেখনী একটু ব্যতিক্রম বলে তাঁরা একটি বড় পাঠকশ্রেণি তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। আগের তুলনায় এখন বাংলা ভাষা অনেকটা সহজতর হওয়াতে সাহিত্যে পাঠকের সংখ্যা বেড়েছে বলেই মনে করি। বর্তমানের সহজবোধ্য বাংলায় পড়তে ও লিখতে বেশ স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। তবে তরুণদের মধ্যে অ্যাডভেঞ্চার, সায়েন্সফিকশন ও ভৌতিক গল্পের পাঠক বেশি। আত্মসচেতনতামূলক, অনুবাদ ও মোটিভেশনাল বইয়ের চাহিদাও বাড়ছে।
বাংলা ভাষার আন্তর্জাতিকীকরণের বিষয়ে জানতে চাইলে এই প্রকাশক বলেন, আন্তর্জাতিকীকরণের বিষয়ে যাদের কাজ করার কথা তারা সেভাবে চেষ্টা করছেন না। বাংলা একাডেমি চেষ্টা করলেও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে বাংলা ভাষার আন্তর্জাতিকীকরণটা সেভাবে ঘটেনি। সরকারকে আন্তরিক উদ্যোগ নিয়েই এগিয়ে আসতে হবে। তবে অদূর ভবিষ্যতে বাংলা ভাষার আন্তর্জাতিকীকরণ ঘটবে বলে আশাবাদী।
ভাষার ভবিষ্যৎ নিয়ে ইফতেখার রসুল জর্জ বলেন, আমি আশাবাদী মানুষ, যত ই-বুক বা নতুন মাধ্যম বাজারে আসুক তার জন্য আধুনিক মনস্ক হতে হবে আরও। বাংলা সাহিত্য সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে।
এক প্রশ্নের উত্তরে এ প্রকাশক বলেন, আমরা সাহিত্যের মূলধারা থেকে একেবারে বের হয়ে গেছি তা ঠিক নয়। পাঠকদের সাহিত্যমুখী করার জন্য জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের উচিত গণপাঠাগার বা পাবলিক লাইব্রেরিগুলোতে বেশি বেশি বই বিতরণ করা। এ ক্ষেত্রে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র এগিয়ে আছে।
ভাষার শুদ্ধতার প্রশ্নে তিনি বলেন, ভাষায় নানা ধারা তৈরি হয়েছে ঠিক, তবে সচেতন প্রকাশক ও ভালো সম্পাদক দিয়ে কাজ করানো হয় না বলে ভাষার শুদ্ধতার ক্ষেত্রে আমরা পিছিয়ে আছি। বাংলা একাডেমি কি ঈদ বানানটা ‘ইদ’ করতে পেরেছে? এখন মূলধারা বা সৃজনশীল প্রকাশকরা বাজার ব্যবস্থার জন্য এগিয়ে আসছে না বললেই চলে। এখন কম্পিউটার অপারেটরও প্রকাশক হচ্ছে, গ্রন্থনীতি ঠিকমতো না মানলে সমস্যা থেকে যাবে। এ বিষয়ে অনেক গবেষণা দরকার।
বাংলা ভাষা ও ভাষা আন্দোলনের সঙ্গে একুশের চেতনা মিশে থাকলেও আমাদের প্রকাশনায় একুশের প্রকাশনা যৎসামান্য কেন এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, মানসম্পন্ন পাণ্ডুলিপি, গবেষণা সমৃদ্ধ লেখার অভাবে একুশের প্রকাশনা অপ্রতুল। পাঠকদের অনাগ্রহের কারণেও বাণিজ্যিক চিন্তা থেকে একুশের প্রকাশনা কম।