বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেছেন, বিপুল পরিমাণ টাকাসহ সৈয়দপুর বিমানবন্দরে ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির আটকের বিষয়টি ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ হওয়ার সুযোগ নেই। কারণ দেশের বিভিন্ন এলাকায় একই ধরনের অবৈধ অর্থ বিতরণ, ভোটারদের বিকাশ নম্বর সংগ্রহ এবং আর্থিক প্রলোভনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। গতকাল রাজধানীর গুলশানে বিএনপির নির্বাচনি অফিসে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
মাহদী আমিন বলেন, টানা চার দিন যেখানে দেশের সব ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ, সেখানে এত বিপুল পরিমাণ অর্থ কোন ব্যবসায়িক প্রয়োজনে ব্যবহৃত হতে পারে কি না, সেটি বোঝার জন্য বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন নেই। স্পষ্টতই, আচরণবিধির এই লঙ্ঘন গণবিচ্ছিন্ন রাজনৈতিক দলটির দেউলিয়াত্ব ও অনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টাকে প্রমাণ করে। যারা ইনসাফ প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে বয়ান তৈরি করে, তাদের কাছে প্রশ্ন করা যেতেই পারে, টাকা দিয়ে ভোট কেনা তাদের সেই দুর্নীতিবিরোধী বয়ানের সঙ্গে কতটা সংগতিপূর্ণ?
তিনি বলেন, সৈয়দপুর বিমানবন্দরের কাণ্ডকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ, দেশের অন্যান্য জায়গার মতো জামায়াতের আমিরের নির্বাচনি আসন ঢাকা-১৫ আসনেও একই রকম অবৈধ অর্থনৈতিক লেনদেনের ঘটনা সংঘটিত হতে দেখা গেছে। কুমিল্লা, নোয়াখালী, খুলনাসহ দেশের অসংখ্য জায়গাতেও দেখা গেছে। ইতিপূর্বে দেশব্যাপী দলটির নেতা-কর্মীরা বাসায় বাসায় গিয়ে ভোটারদের বিকাশ নম্বর ও ভোটার আইডি নম্বরও নিয়েছেন। তবে বিকাশ, রকেট বা নগদের মাধ্যমে এভাবে অবৈধ অর্থ প্রেরণ বা জান্নাতের টিকিটের প্রলোভনকে ধর্মপ্রাণ দেশবাসী ইতোমধ্যেই প্রত্যাখ্যান করেছেন। বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র বলেন, গণমাধ্যমের সংবাদে আমরা দেখছি, দেশের অনেক জায়গায় ভোটারদের মাঝে ভীতি ছড়াতে একটি রাজনৈতিক দলের সন্ত্রাসীরা দেশি অস্ত্রসহ বাঁশ, পাইপ ও স্ট্যাম্প জড়ো করছে। বিভিন্ন জেলায় সহিংসতা, অতর্কিত হামলা, অগ্নিসংযোগ, ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও অর্থ বিতরণ করছে। এসব ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত, ভোটের মাঠে নানা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিসহ অনৈতিক কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত সেই দলের অনেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়েছে। আমরা দেশব্যাপী নির্বাচন কমিশন তথা রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে প্রতিটি ঘটনার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানাচ্ছি। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রচুর বোরকা ও নিকাব বানানোর বিষয়ে আমরা জানতে পেরেছি। আমরা অবশ্যই নারীদের আব্রু ও পর্দার ব্যাপারে সর্বোচ্চ শ্রদ্ধাশীল। কিন্তু ইসলামি সেই পোশাককে অপব্যবহার করে কেউ যদি মিথ্যা পরিচয়ে জাল ভোট দেওয়ার চেষ্টা করে তাহলে সেটিকে প্রতিরোধ করতে হবে। ভোট প্রদানের আগে ভোটারের পরিচয় নিশ্চিত করতে হবে।
মাহদী আমিন বলেন, এই নির্বাচন শুধু সরকার পরিবর্তনের বিষয় নয়; এটি দেশের গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও রাষ্ট্রীয় মালিকানা জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রশ্ন। দীর্ঘ সময় ধরে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে বিএনপি যে ভূমিকা রেখেছে, তার প্রতিফলন আগামী নির্বাচনে ঘটবে। দেশিবিদেশি গণমাধ্যম ও বিভিন্ন জরিপের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি দাবি করেন, জনমত বিএনপির পক্ষে রয়েছে এবং জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিতে প্রস্তুত। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারম্যানের এই উপদেষ্টা দেশের সব রাজনৈতিক দলকে সহিংসতা পরিহার করে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনি পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, বৃহস্পতিবার সকালেই কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হবে। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ভূমিকা রাখবে।