ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির এবং বরিশাল-৫ ও ৬ আসনে ‘হাতপাখা’ প্রতীকের প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম বলেছেন, ‘এখন পর্যন্ত নির্বাচনের পরিবেশ যতটুকু আছে তা ভালো। তবে আমি ভোটের ফল প্রকাশ হওয়ার আগ পর্যন্ত শঙ্কামুক্ত নই। তাতে যত সুন্দর পরিবেশ হোক না কেন।’ গতকাল দুপুরে বরিশাল প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, ‘এখানে বহু ইঞ্জিনিয়ারিং আছে। রেজাল্ট হবে একটা, পরিবর্তন করে ঘোষণা হবে অন্যটা। এরপরে কেন্দ্র দখল ও জাল ভোট দেওয়াসহ বহু বিষয় আছে। তাই আমি ফল ঘোষণার আগে কোনোভাবেই বলব না-ভোট সুষ্ঠু হয়েছে বা হয়নি।’
তিনি বলেন, ‘মানুষ দীর্ঘদিন ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি, এখন তারা অনেক আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের অপেক্ষায় আছেন। আমরা প্রশাসনকে বলব-তারা যেন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড রেখে সুন্দর নির্বাচন উপহার দেয়। যে নির্বাচনে সব মানুষ নির্ভয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। আর প্রশাসন অহেতুক কোনো মানুষকে হয়রানি ও গ্রেপ্তার করবে না।’ এ সময় মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম আরও বলেন, ভোটারদের কাছে ভোট একটি আমানত। এর চেয়ে দামি কোনো জিনিস নেই। ভোটের মাধ্যমে চুরি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, বিভিন্ন ধরনের অবৈধ-অনৈতিক কাজ চালু হতে পারে আবার বন্ধও হতে পারে। নির্বাচিত হলে বরিশালের উন্নয়নে বিভিন্ন কাজ করা হবে জানিয়ে তিনি প্রশাসনকে অনুরোধ করে বলেন, কোনো অবস্থায় যেন নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট না হয়, প্রশাসন যেন কোনো পক্ষে ঝুঁকে না যায়। ভোটাররা তাদের পছন্দের ব্যক্তিকে যেন ভোট দিতে পারেন, কেউ যেন ব্যালট পেপার টেনে নিতে না পারে তা নিশ্চিত করতে হবে।
জামায়াতের সমর্থনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বরিশালে জামায়াত আমাকে সমর্থনের স্পষ্ট ঘোষণা করেছে। তারা আমাকে ছাড়া ভোট দেবে কাকে? তাদের ভোট দেওয়ার জায়গা আছে? তারা জীবনভর বলেছে-আল্লাহর আইন চাই, সৎলোকের শাসন চাই। আর আমি তো আল্লাহর আইন চাই। আমাকে যদি তারা সৎলোক মনে করেন তাহলে ভোট দেওয়ার অন্য কাউকে দেখি না।’
তিনি বলেন, ‘ইসলামের পক্ষে একটা বাক্সের ঘোষণা দিয়ে জাতির সঙ্গে প্রতারণা করতে পারি না। জামায়াত তাদের ইশতিহারে ইসলামের বিষয়টি স্পষ্ট করেনি। তাই আমরা আমাদের অবস্থানে আছি। আর আমাকে জামায়াত সমর্থন দিয়েছে জোট ছাড়ার পরে।’