ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের আজ ভোট গ্রহণ। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর গণতন্ত্রের পথে নতুন অধ্যায় রচনায় জনতার রায় জানার দিন। সকাল থেকেই সারা দেশের কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের উপস্থিতি প্রত্যাশা করা হচ্ছে। উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্যেই কিছু জায়গায় শঙ্কা ও সতর্কতার আবহ বিরাজ করছে। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোট গ্রহণ চলবে। সারা দেশের ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে একটি বাদে বাকিগুলোতে ইতোমধ্যে ভোট গ্রহণের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে। ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত কেন্দ্রগুলোতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এতসব আয়োজনের পরও ভোট নিয়ে জনমনে কিছুটা আতঙ্ক রয়েছে। তবুও ভোট দিতে বাড়ি যাচ্ছেন বিপুলসংখ্যক মানুষ।
রাজধানীসহ বিভাগীয় শহর ও গ্রামে ভোটের আমেজ স্পষ্ট দেখা গেছে। ভোটের প্রচার শুরু হওয়ার পর থেকেই শেষ পর্যন্ত প্রার্থী ও সমর্থকদের মিছিল, সামাজিক মাধ্যমে প্রচার ছিল চোখে পড়ার মতো। নির্বাচন ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহল ও আগ্রহের পাশাপাশি কিছুটা উদ্বেগও কাজ করছে। বিশেষ করে বিভিন্ন স্থানে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনার খবর পাওয়া গেছে। নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীরা নিজেদের জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। অনেকেই দাবি করছেন, উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডই তাদের পক্ষে কাজ করবে। অন্যদিকে প্রতিপক্ষ প্রার্থীরা বলছেন, জনগণ পরিবর্তন চায় এবং ভোটের মাধ্যমেই সেই পরিবর্তনের বার্তা দেবে। ফলে প্রতিটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র হয়ে উঠেছে। ভোট দিতে নগর ও শহর থেকে গ্রামে যাওয়ার চিত্রও ছিল লক্ষণীয়। গতকাল বাস ও ট্রেনস্টেশনগুলোতে ছিল উপচে পড়া ভিড়। অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে গ্রামের পথে রওনা হয়েছেন। যাতে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন। কয়েকজন ভোটার জানান, ‘যেকোনো পরিস্থিতিতেই আমরা ভোট দিতে চাই। এটা আমাদের অধিকার।’ নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভোট গ্রহণে দায়িত্ব পালন করছেন বিপুলসংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য। এ ছাড়া বিভিন্ন সংস্থার পর্যবেক্ষকরাও মাঠে রয়েছেন। কমিশন ভোটারদের নির্ভয়ে কেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনি পরিবেশ পুরোপুরি নির্ভার নয়। কোথাও কোথাও সংঘর্ষ বা অনিয়মের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। অতীতে নির্বাচনের দিন সহিংসতার নজির থাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ভোটারদের প্রত্যাশা এবার তাদের ভোট সঠিকভাবে গণনা এবং জনগণের প্রকৃত রায় প্রতিফলিত হবে ফলাফলে। তরুণ ভোটারদের মধ্যে এবার বিশেষ উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। অনেকেই প্রথমবারের মতো ভোট দিতে যাচ্ছেন। তাদের ভাষায়, ‘আমাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের দিন আজ।’ দিনভর শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হলে সন্ধ্যার আগেই শুরু হবে ফল গণনা। কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত ফলাফল ধাপে ধাপে ঘোষণা করা হবে। রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও অধীর আগ্রহে তাকিয়ে আছে ফলাফলের দিকে। উৎসবের আবহ, উত্তেজনা আর শঙ্কা সব মিলিয়ে আজকের দিনটি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকছে। গণতন্ত্রের পথে জনতার রায়ই নির্ধারণ করবে আগামী দিনের দিকনির্দেশনা। এখন দেখার পালা, জনগণ কাকে তাদের প্রতিনিধি হিসেবে বেছে নেয় এবং গণভোটে কী সিদ্ধান্ত দেয় দেশবাসী।