ঢাকাস্থ গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর সোশ্যাল ইনসাইট (সিএসআই) পরিচালিত জরিপে দেখা গেছে, নির্বাচনে বিএনপি জোটের সম্ভাব্য আসন ১৭১ থেকে ২২২ আর জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের সম্ভাব্য আসন ৪০ থেকে ৬০টি। অন্যদিকে এককভাবে বিএনপি এগিয়ে ১৭১টি আসনে, জামায়াত ৩৫টি আসনে। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে ৮৬টি আসনে। আর স্বতন্ত্র ও অন্যান্য সাতজন প্রার্থী এগিয়ে রয়েছেন। জরিপের বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিএনপি জোট একটি নীরব কিন্তু সুসংহত অগ্রগতির পথে রয়েছে। অন্যদিকে জামায়াত-নেতৃত্বাধীন জোট প্রায় সব আসনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্য দিয়ে ইতিহাসে সর্বাধিক সংখ্যক আসন নিয়ে সংসদে প্রবেশের সম্ভাবনা তৈরি করেছে, যদিও তাদের মোট আসনসংখ্যা সীমিত পরিসরের মধ্যেই থাকার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। এতে বলা হয়েছে- অধিকাংশ ভোটার নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ইতিবাচক ধারণা পোষণ করছেন।
গতকাল বনানীতে সিএসআই হেডকোয়ার্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ জরিপের ফলাফল প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে সিএসআই কো-অর্ডিনেটর ফজলুল কাদের ও ডাটা অ্যানালিস্ট আবদুল্লাহ আল মামুন উপাত্ত উপস্থাপন করেন। সাপ্তাহিক সুরমার সম্পাদক শামসুল আলম লিটন ফলাফল ব্যাখ্যা ও সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন।
সিএসআই জানায়, জরিপটি ১ থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের সব বিভাগে শহর ও গ্রামাঞ্চল মিলিয়ে পরিচালিত হয়। এতে মোট ৬৪ হাজার ৮৯০ জন ভোটার অংশগ্রহণ করেন। জরিপে স্তরভিত্তিক স্যাম্পলিং পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। সরাসরি সাক্ষাৎকার, প্রশ্নপত্র এবং আসনভিত্তিক ভোট ভাগ বিশ্লেষণের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। জরিপ অনুযায়ী ৮১ দশমিক ০৬ শতাংশ ভোটার ভোট দিতে আগ্রহী, ৯ দশমিক ০৬ শতাংশ অনাগ্রহী এবং ৮ দশমিক ৮ শতাংশ এখনো সিদ্ধান্তহীন। গবেষণায় দেখা গেছে, সাধারণ জনগণের মধ্যে এবার নির্বাচনে একটি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বা সমান প্রতিযোগিতার পরিবেশ রয়েছে, এমন একটি ধারণা তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া ৯২ দশমিক ০১ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, নির্বাচন-পূর্ব পর্যায়ে প্রশাসন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করছে। নির্বাচনকে ঘিরে বড় ধরনের সহিংসতার আশঙ্কা তুলনামূলকভাবে কম। তবে নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা ও সংশয় রয়েছে। বিশেষ করে বিভিন্ন পেশাজীবী গোষ্ঠী ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাওয়াকে একটি ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন বলে জরিপে উঠে এসেছে।
জরিপে জাতীয় পর্যায়ে দল ও জোটভিত্তিক সম্ভাব্য সমর্থনের চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে। এতে দেখা যায় বিএনপি ও শরিকরা ৪৬ দশমিক ৬০ শতাংশ, জামায়াত ও এনসিপি জোট ৩২ দশমিক ৫৬ শতাংশ, অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা অবশিষ্ট অংশ।