১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত দেশের বড় রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতৃত্বে ছিলেন নারী। প্রধানমন্ত্রীও ছিলেন নারী। ৩৫ বছর পর সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া কোনো বড় রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন না কোনো নারী। সংগত কারণে ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রের শীর্ষ পদে বসতে যাচ্ছেন কোনো পুরুষ রাষ্ট্রনায়ক।
ইতিহাস বলছে, ১৯৭১ সালের এপ্রিলে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে গঠিত প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন মুজিবনগর সরকার থেকে শুরু করে ১৯৯০ সালে এরশাদের পতন পর্যন্ত দেশের শাসনকাঠামোয় ও বড় রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতৃত্বে ছিলেন পুরুষ। এ সময়ে হয়েছে চারটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ১৯৯১ সালের ফেব্রুয়ারিতে পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও বেনজির ভুট্টোর পর মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন বেগম খালেদা জিয়া। সেই থেকে ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত দেশের সব প্রধানমন্ত্রী ছিলেন নারী। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কখনো বেগম খালেদা জিয়াকে, কখনো শেখ হাসিনাকে পেয়েছে দেশের মানুষ। একই সঙ্গে বৃহৎ দুই রাজনৈতিক দল বিএনপি ও আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বেও ছিলেন নারী। খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর বিএনপির হাল ধরেছেন তাঁর পুত্র তারেক রহমান। গণ অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেই আওয়ামী লীগ। দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব পলাতক। এতে ৩৫ বছর পর প্রথমবারের মতো রাজনৈতিক দলের শীর্ষ পদে নারী নেতৃত্ববিহীন ভোট হতে যাচ্ছে। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্রেও এবার নারী প্রার্থীর সংখ্যা কম। নারী ভোটাররা বলছেন, নারী নেতৃত্বাধীন সরকারগুলো বিগত কয়েক দশকে নারীদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে উন্নতি আনলেও নারীদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে তেমন উন্নতি হয়নি। গণ অভ্যুত্থানের পর সংস্কারের যে প্রতিশ্রুতি এসেছিল, তা আলোর মুখ দেখেনি। নারী-পুরুষকে সমান দৃষ্টিতে দেখার নীতি ভোটে প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে দৃশ্যমান হয়নি।