জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা যদি সরকার গঠনের সুযোগ পাই তবে সব দল নিয়ে একসঙ্গে কাজ করব। সব দেশের সঙ্গে আমাদের সুসম্পর্ক আছে, থাকবে, প্রতিবেশী দেশসহ। গতকাল ঢাকা-১৫ আসনের প্রধান নির্বাচনি কার্যালয়ে ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান। জামায়াত আমির বলেন, আলহামদুলিল্লাহ এরই মধ্যে দেখা গিয়েছে আমাদের ১১ দলীয় জোটের যারা ক্যান্ডিডেট ছিলেন তারা এগিয়ে আছেন। কিন্তু আমি আগেই বলেছি, এটিকে নিশ্চিত করার মতো পর্যায়ে আসেনি। আমাদের আরেকটু অপেক্ষা করতে হবে।
নির্বাচনের সার্বিক অবস্থা নিয়ে তিনি বলেন, বড় কোনো ঝামেলা ছাড়া ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে। এতে আমরা সন্তুষ্ট। বিজয় একজনের হবে। তাই হারজিত মেনে নিতে হবে। এ সময় গণমাধ্যমের উদ্দেশে জামায়াতে আমির বলেন, আপনাদের আমার অনেক প্রয়োজন। আপনাদের আমার পাশে পেতেই হবে। আপনারা যদি আমাকে সাহায্য করেন তাহলে ইনশা আল্লাহ আমরা দেশের জন্য ভালো কিছু করতে পারব। আপনারা আমাদের যৌক্তিক সমালোচনা করবেন। ভুলগুলো ধরিয়ে দেবেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা দেখেছি যারা শাসনে থাকেন, মিডিয়া তাদের মন্দ দিক, সমালোচনা সহজে তুলে আনেন না। অথবা আনতে পারেন না। যেটাই হোক আমরা চাইব মিডিয়া যেন পূর্ণ স্বাধীনতা পায়।
দিনভর ১৬ কেন্দ্র পরিদর্শন করলেন জামায়াত আমির : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হয়েছে। এদিন ভোটের মাঠে সক্রিয় ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তার নির্বাচনি এলাকা ঢাকা-১৫ আসনের ১৬টি ভোট কেন্দ্র কয়েক দফা পরিদর্শন করেছেন। ভোটার, এজেন্ট ও সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন। জানা যায়, জামায়াত আমির সকাল সাড়ে ৭টায় বাসা থেকে বের হয়ে ৮.২০ মিনিটে মনিপুর উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজে (বালক) শাখায় ভোট দেন। একই সঙ্গে গণভোট দেন তিনি। ওই সময় তিনি বলেন, আমরা জনগণের সরকার গঠনের ব্যাপারে আশাবাদী। জামায়াত আমির বলেন, কোনো ব্যক্তি, পরিবার বা দলের নয়; ভোটের মাধ্যমে দেশের ১৮ কোটি মানুষের সরকার গঠনের জন্য ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। গতকাল সকাল সাড়ে ৮টায় তিনি রাজধানীর মনিপুর উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের (বালক শাখা) ভোট কেন্দ্রে ভোটদান শেষে তিনি এ আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘দেড় যুগ ধরে দেশবাসী ভোট দিতে পারেনি, আমিও পারিনি। ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ এ তিনটি নির্বাচনের সময় আমি কারাগারে ছিলাম। ফলে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ হয়নি। আজ আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ তায়ালা আমাদের সেই সুযোগ দিয়েছেন। আমি মহান রাব্বুল আলামিনের শুকরিয়া আদায় করছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই ভোটের মাধ্যমে বাংলাদেশে একটি নতুন সূচনা হোক- এই দোয়া করি। এরপর জামায়াত আমির মিরপুর-১০ আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ে ভোট কেন্দ্র পরিদর্শনে যান। এরপর একে একে কাজীপাড়া হাজী ইউসুফ আলী প্রাথমিক বিদ্যালয়, সরোজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মনিপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ (বালিকা), ইব্রাহীমপুর মনিপুর উচ্চবিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ, রোটারি উচ্চবিদ্যালয়, সরকারি ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, শেরেবাংলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাজী আলী হোসেন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, হারম্যান মেইনার স্কুলসহ ১৬টি কেন্দ্র দফায় দফায় পরিদর্শন করেন তিনি। দুপুরে জামায়াত আমিরের নির্বাচনি কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
তিনি অভিযোগ করেন, ভোটের পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও মনিপুর উচ্চবিদ্যালয়ের বালিকা শাখা কেন্দ্রে জামায়াতের প্রতিদ্বন্দ্বী দলের কিছু লোক বেপরোয়াভাবে ঢুকে পড়ে এবং ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। ওই লোকেরা ভোটার ও সমর্থকদের শারীরিকভাবে নাজেহাল করে। বিষয়টি শোনার পর তিনি আবার সেখানে গিয়ে দেখেন, ইতোমধ্যে সেনাবাহিনীর একজন কর্মকর্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে ফেলেছেন।