ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১-দলীয় জোটের শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থীরা চমক দেখিয়েছেন। বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ৩০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ছয় আসনে এমপি পেয়েছে তারুণ্যনির্ভর এনসিপি। সব থেকে বেশি ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি কুমিল্লা-৪ আসনে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার ২২৬ ভোট বেশি পেয়েছেন।
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঢাকা-১১ আসনে বিএনপির প্রার্থী ড. এম এ কাইয়ুমের বিরুদ্ধে হাড্ডহাড্ডি লড়াই করে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ২ হাজার ভোটের ব্যবধানে জিতেছেন। কিন্তু আলোচিত নেতা এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম হেরেছেন। এর মধ্যে ঢাকা-৮ আসন থেকে নির্বাচন করে বিএনপির মির্জা আব্বাসের কাছে ৫ হাজার ২২৯ ভোটের ব্যবধানে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং পঞ্চগড়-১ আসনে বিএনপির নওশাদ জমিরের কাছে ৮ হাজার ৩০৪ ভোটে হেরেছেন সারজিস আলম। তা ছাড়া নির্বাচনে কাস্টিং ভোটের প্রায় সাড়ে ৩ শতাংশ টেনেছেন এনসিপির ৩০ প্রার্থী। বেসরকারি ফলাফলে সংখ্যার হিসাবে তা প্রায় ২১ লাখ ভোট।
এনসিপির শীর্ষ নেতাদের মধ্যে নাহিদ ইসলাম ও হাসনাত আবদুল্লাহ ছাড়া রংপুর-৪ আসন থেকে দলটির সদস্যসচিব আখতার হোসেন, নোয়াখালী-৬ আসন থেকে যুগ্ম সমন্বয়ক হান্নান মাসউদ, কুড়িগ্রাম-২ আসন থেকে যুগ্ম আহ্বায়ক আতিক মুজাহিদ এবং নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন থেকে যুগ্ম সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল আমিন জয়ী হয়েছেন।
বেসরকারি ফলাফলে ঢাকা-১১ আসনে ২ হাজার ভোটের ব্যবধানে বিএনপির প্রার্থী এম এ কাইয়ুমকে হারিয়েছেন এনসিপির মো. নাহিদ ইসলাম। এ আসন থেকে শাপলা কলি প্রতীকে তিনি ৯৩ হাজার ৮৭২ ভোট পেয়েছেন আর বিএনপির এম এ কাইয়ুম পেয়েছেন ৯১ হাজার ৮৩৩ ভোট। রংপুর-৪ (পীরগাছা-কাউনিয়া) আসনে এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন ৯ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয় পেয়েছেন। সব থেকে বেশি ১ লাখ ১০ হাজার ২২৬ ভোটের ব্যবধানে কুমিল্লা-৪ বিজয়ী হয়েছেন দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৬ হাজার ৭৪৬ ভোট বেশি পেয়ে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে এনসিপির আবদুল হান্নান মাসউদ বিজয়ী হয়েছেন। কুড়িগ্রাম-২ আসনে এনসিপির ড. আতিক মুজাহিদ ১০ হাজার ৮০০ এবং নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে এনসিপির আবদুল্লাহ আল আমিন ২৫ হাজার ৫৫২ ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।