গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৭ আসনের নির্বাচিতদের গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন কমিশন ফল অনুমোদন দেওয়ার পর ইসি সচিব আখতার আহমেদ শুক্রবার রাতে এ গেজেট জারি করেন। নির্বাচিতদের নাম, মা-বাবার নাম ও ঠিকানা গেজেটে প্রকাশিত হয়েছে। এখন নির্বাচিতদের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ পড়ানোর আয়োজন করা হবে। দেশের ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে ২৯৯ আসনে ভোট হয় বৃহস্পতিবার। এর মধ্যে চট্টগ্রাম-২ ও ৪ আসনের ভোট গোনা হলেও আদালতের নির্দেশনা থাকায় ফল ঘোষণা করা হয়নি। আর শেরপুর-৩ আসনে এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে সেখানে নতুন তফসিলে ভোট হবে। নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান সামনে রেখে জাতীয় সংসদ ভবনে পরিচ্ছন্নতা, রক্ষণাবেক্ষণ ও অবকাঠামোগত সংস্কারের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলোর মেরামতও করা হয়েছে। সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা বলেছেন, শপথের আনুষ্ঠানিকতা, প্রটোকল, নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন দপ্তর কাজ করছে। স্পিকার ও রাষ্ট্রপতির অফিসকক্ষ, সরকারি ও বিরোধী দলের সভাকক্ষ, অধিবেশনকক্ষ ও শপথকক্ষ ব্যবহারের উপযোগী করা হয়েছে।
২৯৭ আসনের ফল : বিএনপি ২০৯, জামায়াতে ইসলামী ৬৮, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৬, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১, গণঅধিকার পরিষদ ১, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) ১, গণসংহতি আন্দোলন ১, খেলাফত মজলিস ১ ও স্বতন্ত্র ৭টি আসন পেয়েছে। আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল সম্প্রতি বলেছেন, ‘স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতির কারণে নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি মনোনীত ব্যক্তি।’ তিনি এও বলেন, ‘নির্বাচিত হওয়ার তিন দিনের মধ্যে কেউ শপথ না পড়ালে সে ক্ষেত্রে প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পড়াতে পারবেন।’
নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ শুক্রবার বলেন, ‘১৪৮-এর ৩ ধারায় বলা হয়েছে, স্পিকার অথবা ডেপুটি স্পিকার যদি না পড়ান বা তারা পড়াতে অসমর্থ হন বা না থাকেন, তাহলে তিন দিন পরেও চতুর্থ দিন থেকে পরবর্তী দিন প্রধান নির্বাচন কমিশনারই শপথ পাঠ করাবেন।’ তিনি বলেন, ‘সামনে রোজা থাকায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ইসির কাজ গেজেট প্রকাশ করা। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে সরকার। দ্রুত শপথ করে রমজানের আগেই চাইলে সরকার গঠন করতে পারে।’ ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানান, যে ২৯৭ আসনে ফল ঘোষণা করা হয়েছে, সেসব আসনে ভোট পড়েছে ৫৯.৪৪ শতাংশ। আর গণভোটে ভোটের হার ৬০.২৬ শতাংশ (২৯৯ আসনের)। জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা বলেন, ‘আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে, এটা আমাদের সাধারণ দায়িত্ব। শপথের তারিখ নির্ধারণ সংসদ সচিবালয়ের বিষয় নয়; আমরা প্রস্তুত। যেদিন বলা হবে, সেদিনই শপথ অনুষ্ঠান আয়োজন করতে পারব।’ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৪৮(২ক) অনুযায়ী, নির্বাচনের ফলের গেজেট প্রকাশের পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে নির্বাচিত সদস্যদের শপথ নিতে হয়।
গণভোটের ফলের গেজেট প্রকাশ : জুলাই সনদ বাস্তবায়নে যে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে, তার ফলের গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশন ফল অনুমোদন দেওয়ার পর ইসি সচিব আখতার আহমেদ শুক্রবার রাতে এ গেজেট জারি করেন। বৃহস্পতিবার ২৯৯ আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে এ গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। প্রার্থীর মৃত্যুতে স্থগিত হওয়া শেরপুর-৩ আসন বাদে এ নির্বাচনে ভোটার ছিলেন ১২ কোটি ৭২ লাখ ৯৮ হাজার ৪১৬ জন। গণভোটে দেখা গেছে, ভোট দিয়েছেন ৭ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ২৩ জন (৬১.০৩%)। এর মধ্যে নানান কারণে বাতিল হয়েছে ৭৪ লাখ ২২ হাজার ৬৩৭ ভোট। বৈধ ৭ কোটি ২৭ লাখ ২ হাজার ৩৮৬ জনের মধ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন ৪ কোটি ৮২ লাখ ৬৬০ জন (৬৮.৫৯%)। বাকি ২ কোটি ২০ লাখ ৭১ হাজার ৭২৬ জন (৩১.৪১%) ‘না’ ভোট দিয়েছেন। জুলাই সনদের অন্তর্ভুক্ত সংবিধান সংস্কারসংক্রান্ত ৪৮ দফা বাস্তবায়নে জনগণের সম্মতি নেওয়ার জন্য এ গণভোটের আয়োজন করা হয়। এ সনদে রাষ্ট্রীয় সংস্কারের মোট ৮৪ দফা রয়েছে, সংবিধানসংক্রান্ত বিষয় বাদে বাকিগুলোকে ‘আইন/অধ্যাদেশ, বিধি ও নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে সংস্কার’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। এর আগে দেশে তিনবার গণভোট হলেও এবারই প্রথম এ নির্বাচন হয়েছে সংসদ ভোটের সঙ্গে। জাতীয় নির্বাচনে কোনো প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার জন্য একটি ব্যালটের বাইরে গণভোটের জন্য একটি অতিরিক্ত ব্যালট পেপার দেওয়া হয়।