ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়লাভ করায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বার্তা দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। একই সঙ্গে নির্বাচনে মর্যাদাপূর্ণ ফল অর্জন করায় জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ও নবীন রাজনৈতিক দল হিসেবে ছয়টি আসনে বিজয় অর্জন করায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। গতকাল প্রধান উপদেষ্টা এসব অভিনন্দনবার্তা পাঠান বলে জানিয়েছে তাঁর প্রেস উইং।
অভিনন্দনবার্তার পাশাপাশি প্রধান উপদেষ্টা দল তিনটির প্রধানকে ফোন করেও শুভেচ্ছা জানান। দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে নির্বাচন উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ করে তোলায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার জন্য তারেক রহমান, ডা. শফিকুর রহমান এবং নাহিদ ইসলামের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান অধ্যাপক ইউনূস। গতকাল প্রধান উপদেষ্টা প্রথমে তারেক রহমানকে ফোন করে অভিনন্দন জানান। পরে শফিকুর রহমান ও নাহিদ ইসলামকে ফোন করে তাঁদের সাফল্যের জন্য এবং নির্বাচন-পরবর্তী দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের জন্য অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানান।
বার্তায় বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়লাভ করায় তারেক রহমানকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘গণতান্ত্রিক উত্তরণের ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ায় জনগণের এ সুস্পষ্ট রায় দেশের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে। আমি দৃঢ়দভাবে বিশ্বাস করি রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুদায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আপনার প্রজ্ঞা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও জনকল্যাণমুখী চেতনার আলোকে আপনি দেশকে একটি স্থিতিশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও উন্নয়নমুখী পথে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।’ তারেক রহমানের বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও রাষ্ট্রদর্শন এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন নেতৃত্ব ও গণতন্ত্রের প্রতি অঙ্গীকারের কথা স্মরণ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘তাঁদের আদর্শ ও মহান কর্ম আপনার আগামী দিনের চলার পথ আলোকিত করবে বলে আমি একান্তভাবে আশা করি। আশা করি আপনার নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় হবে এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, আইনের শাসন ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে।’ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী মর্যাদাপূর্ণ ফল অর্জন করায় দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে বার্তা পাঠিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। একই সঙ্গে ডা. শফিকের নেতৃত্বে দলীয় প্রার্থীদের সক্রিয় ও ব্যাপক অংশগ্রহণ, দৃঢ় প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং পরবর্তীতে নির্বাচনের ফলাফলকে শান্ত ও মর্যাদাপূর্ণভাবে গ্রহণ করায় তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘নির্বাচনি প্রচার-পর্ব থেকে শুরু করে ফলাফল ঘোষণার পরবর্তী সময় পর্যন্ত আপনার (ডা. শফিকুর রহমান) রাজনৈতিক শিষ্টাচার, সংযম, দায়িত্বশীল বক্তব্য এবং কর্মীদের প্রতি শান্তিপূর্ণ আচরণের আহ্বান দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে। আমি প্রত্যাশা করি, আপনার নেতৃত্বে জামায়াতে ইসলামী একটি গঠনমূলক ও দায়িত্বশীল বিরোধী শক্তি হিসেবে জাতীয় সংসদ ও রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে।’ এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে অভিনন্দন জানিয়ে পাঠানো বার্তায় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘নির্বাচনে আপনার নেতৃত্বে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) যে সাহস, দৃঢ়তা ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে অংশগ্রহণ করেছে, তা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে একটি তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়। মাত্র এক বছর আগে চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে জন্ম নেওয়া নবীন রাজনৈতিক দল হিসেবে ৩০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ছয়টিতে বিজয় অর্জন করা এবং আরও কয়েকটি আসনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলা এক অসাধারণ অর্জন। সংসদে অর্জিত প্রতিনিধিত্বের মাধ্যমে আপনারা জনগণের আশা-আকক্সক্ষা, বিশেষত তরুণদের স্বপ্ন ও প্রত্যাশা তুলে ধরার একটি ঐতিহাসিক সুযোগ পেয়েছেন। আমি প্রত্যাশা করি, আপনার নেতৃত্বে জাতীয় নাগরিক পার্টি গঠনমূলক, যুক্তিনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল রাজনৈতিক চর্চার মাধ্যমে গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেবে।’